জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবার জন্য মানুষকে হন্যে হয়ে রাজধানী ঢাকায় ছুটতে হয়, অথচ এই সামর্থ্য সবার নেই। রাস্তায় অনেকের মৃত্যু হয়—এ অবস্থা আর দেখতে চান না তিনি। আল্লাহ তাআলা দায়িত্ব দিলে দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৬৪ জেলার কোথাও একটি মেডিক্যাল কলেজও মেডিক্যাল কলেজবিহীন থাকবে না বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।
শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে ১০–দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। জুমার নামাজের আজানের পর শুরু হওয়া বক্তব্যে তিনি প্রায় ১২ মিনিট কথা বলেন। বক্তব্য শেষে পঞ্চগড়–১ আসনে জোটের প্রার্থী সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি প্রতীক এবং পঞ্চগড়–২ আসনের প্রার্থী সফিউল আলমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন তিনি।
পঞ্চগড়েও একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা এখানেও নিশ্চিত করা হবে। অর্থের উৎস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা চুরি করে দেশের প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনা হবে, ইনশা আল্লাহ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কাউকে আর চুরি করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের শুরুতে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গকে গরিব করে রাখা হয়েছে এবং সেই বঞ্চনার তিনি সাক্ষী হতে এসেছেন। উত্তরবঙ্গকে সৎমায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অঞ্চল দেশের খাদ্য ও পুষ্টির বড় যোগানদাতা হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, জামায়াতের কাছে কোনো কার্ড নেই, দেশের জনগণই তাদের আসল কার্ড। জনগণের সমর্থন, দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে বেকারত্ব ও দায়–দয়ামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কোনো এলাকার মানুষ যেন কারও দয়ার পাত্র হয়ে না থাকে, সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করতে চান বলে জানান।
জনসভায় তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় পরের ধনে পোদ্দারি করা হবে না। যুবক ও যুবতীর হাত শক্তিশালী করে নারী–পুরুষের সমন্বয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উত্তরবঙ্গ থেকে বেকারত্ব দূর করার অঙ্গীকার করে শফিকুর রহমান বলেন, সবার হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চান তারা। প্রত্যেক নাগরিককে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করা হবে। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানানো, বন্ধ চিনিকল চালু করা এবং শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার কথাও বলেন তিনি।
উন্নয়নের ভারসাম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া স্লোগান শোনা গেছে, কিন্তু উন্নয়নের জোয়ার তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পৌঁছায়নি। আগামী দিনে উন্নয়ন হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
উত্তরবঙ্গের নদীগুলোকে মরুভূমির সঙ্গে তুলনা করে জামায়াতের আমির বলেন, নদী দেশের রক্তনালির মতো, অথচ সেই নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে শুধু নদীর প্রাণ ফেরানো নয়, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি পাঁচ বছরে একবার জনগণের কাছে আসে, বাকি সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এই রাজনীতিকে তারা ঘৃণা করেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত অতীতেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
শেষে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দিতে পাঁচ বছরই যথেষ্ট। জনগণ পাশে থাকলে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে এই উর্বর মাটি ও পরিশ্রমী মানুষের উত্তরবঙ্গ কখনো পিছিয়ে থাকবে না।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবার জন্য মানুষকে হন্যে হয়ে রাজধানী ঢাকায় ছুটতে হয়, অথচ এই সামর্থ্য সবার নেই। রাস্তায় অনেকের মৃত্যু হয়—এ অবস্থা আর দেখতে চান না তিনি। আল্লাহ তাআলা দায়িত্ব দিলে দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৬৪ জেলার কোথাও একটি মেডিক্যাল কলেজও মেডিক্যাল কলেজবিহীন থাকবে না বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।
শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে ১০–দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। জুমার নামাজের আজানের পর শুরু হওয়া বক্তব্যে তিনি প্রায় ১২ মিনিট কথা বলেন। বক্তব্য শেষে পঞ্চগড়–১ আসনে জোটের প্রার্থী সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি প্রতীক এবং পঞ্চগড়–২ আসনের প্রার্থী সফিউল আলমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন তিনি।
পঞ্চগড়েও একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা এখানেও নিশ্চিত করা হবে। অর্থের উৎস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা চুরি করে দেশের প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনা হবে, ইনশা আল্লাহ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কাউকে আর চুরি করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের শুরুতে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গকে গরিব করে রাখা হয়েছে এবং সেই বঞ্চনার তিনি সাক্ষী হতে এসেছেন। উত্তরবঙ্গকে সৎমায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অঞ্চল দেশের খাদ্য ও পুষ্টির বড় যোগানদাতা হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, জামায়াতের কাছে কোনো কার্ড নেই, দেশের জনগণই তাদের আসল কার্ড। জনগণের সমর্থন, দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে বেকারত্ব ও দায়–দয়ামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কোনো এলাকার মানুষ যেন কারও দয়ার পাত্র হয়ে না থাকে, সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করতে চান বলে জানান।
জনসভায় তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় পরের ধনে পোদ্দারি করা হবে না। যুবক ও যুবতীর হাত শক্তিশালী করে নারী–পুরুষের সমন্বয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উত্তরবঙ্গ থেকে বেকারত্ব দূর করার অঙ্গীকার করে শফিকুর রহমান বলেন, সবার হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চান তারা। প্রত্যেক নাগরিককে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করা হবে। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানানো, বন্ধ চিনিকল চালু করা এবং শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার কথাও বলেন তিনি।
উন্নয়নের ভারসাম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া স্লোগান শোনা গেছে, কিন্তু উন্নয়নের জোয়ার তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পৌঁছায়নি। আগামী দিনে উন্নয়ন হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
উত্তরবঙ্গের নদীগুলোকে মরুভূমির সঙ্গে তুলনা করে জামায়াতের আমির বলেন, নদী দেশের রক্তনালির মতো, অথচ সেই নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে শুধু নদীর প্রাণ ফেরানো নয়, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি পাঁচ বছরে একবার জনগণের কাছে আসে, বাকি সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এই রাজনীতিকে তারা ঘৃণা করেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত অতীতেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
শেষে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দিতে পাঁচ বছরই যথেষ্ট। জনগণ পাশে থাকলে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে এই উর্বর মাটি ও পরিশ্রমী মানুষের উত্তরবঙ্গ কখনো পিছিয়ে থাকবে না।

আপনার মতামত লিখুন