ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কারণ জানালো প্রশাসন

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণ


বিশেষ প্রতিনিধি :
বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণ
চিত্র : সংগৃহীত

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ভাস্কর্য সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়ক সম্প্রসারণ কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই অপসারণ করা হয়েছে এবং বীরশ্রেষ্ঠর পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষেই ভাস্কর্যটি সরানো হয়।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা জানান, সড়ক সংস্কারের জন্য নির্ধারিত জায়গার বাইরে মহাসড়কের পাশেই আগের নকশা অনুসরণ করে আরও বড় পরিসরে ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, আগামীকাল থেকেই নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হবে। আগের ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট আকারের পরিবর্তে এবার ভাস্কর্যটির আকার হবে ২০ ফুট বাই ২০ ফুট, যাতে দূর থেকেও এটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

ভাস্কর্য অপসারণের একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি এক্সকাভেটর দিয়ে ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজের সময় ভাস্কর্যটি সড়কের মাঝখানে পড়ে যাচ্ছিল। এ কারণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই সাময়িকভাবে এটি অপসারণ করা হয়। এতে বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান বা অবহেলার বিষয় নেই বলে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, দুই দিন আগে সড়ক সম্প্রসারণ কাজের জন্য ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে। তিনি বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এই এলাকার গর্ব, তাই তার নামে নির্মিত ভাস্কর্যটি আগের নকশা অনুযায়ী পুনরায় নির্মাণ করা উচিত।

ইউএনও মাসুদ রানা আরও বলেন, উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গার পর সড়কের পাশেই বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাস্কর্যটি পুনরায় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিজয় দিবসসহ রায়পুরার সব সরকারি অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয় এবং তার সম্মান রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। একটি গোষ্ঠী বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে দাবি করে তিনি সবাইকে বিভ্রান্তি ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে তিনি পাকিস্তানের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার পথে বিমান দুর্ঘটনায় শহীদ হন। তার অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর এলাকায় তার গ্রামের বাড়ি। তার স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২০০৮ সালে সেখানে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয় এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় তার নামে একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ভাস্কর্য সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়ক সম্প্রসারণ কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই অপসারণ করা হয়েছে এবং বীরশ্রেষ্ঠর পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষেই ভাস্কর্যটি সরানো হয়।


রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা জানান, সড়ক সংস্কারের জন্য নির্ধারিত জায়গার বাইরে মহাসড়কের পাশেই আগের নকশা অনুসরণ করে আরও বড় পরিসরে ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, আগামীকাল থেকেই নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হবে। আগের ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট আকারের পরিবর্তে এবার ভাস্কর্যটির আকার হবে ২০ ফুট বাই ২০ ফুট, যাতে দূর থেকেও এটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।


ভাস্কর্য অপসারণের একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি এক্সকাভেটর দিয়ে ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।


উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজের সময় ভাস্কর্যটি সড়কের মাঝখানে পড়ে যাচ্ছিল। এ কারণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই সাময়িকভাবে এটি অপসারণ করা হয়। এতে বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান বা অবহেলার বিষয় নেই বলে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে।


স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, দুই দিন আগে সড়ক সম্প্রসারণ কাজের জন্য ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে। তিনি বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এই এলাকার গর্ব, তাই তার নামে নির্মিত ভাস্কর্যটি আগের নকশা অনুযায়ী পুনরায় নির্মাণ করা উচিত।


ইউএনও মাসুদ রানা আরও বলেন, উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গার পর সড়কের পাশেই বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাস্কর্যটি পুনরায় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিজয় দিবসসহ রায়পুরার সব সরকারি অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয় এবং তার সম্মান রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। একটি গোষ্ঠী বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে দাবি করে তিনি সবাইকে বিভ্রান্তি ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।


উল্লেখ্য, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে তিনি পাকিস্তানের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার পথে বিমান দুর্ঘটনায় শহীদ হন। তার অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর এলাকায় তার গ্রামের বাড়ি। তার স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২০০৮ সালে সেখানে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয় এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় তার নামে একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ