ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

যান্ত্রিকতার ভিড়ে ঐতিহ্য আগলে ইউসুফ মিয়া: শ্রীমঙ্গলের গদারবাজারে ফুরিয়ে আসছে লাঙল-গাইলের দিন


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

যান্ত্রিকতার ভিড়ে ঐতিহ্য আগলে ইউসুফ মিয়া: শ্রীমঙ্গলের গদারবাজারে ফুরিয়ে আসছে লাঙল-গাইলের দিন


একসময় গ্রামবাংলার কৃষিজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল কাঠের লাঙল আর শস্য গুঁড়ো করার গাইল। আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রভাবে সেসব আজ বিলুপ্তির পথে। তবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের গদারবাজারে এখনো এই বিলীয়মান ঐতিহ্যকে আগলে রেখেছেন কুশবাস গ্রামের ইউসুফ মিয়া। যেখানে পুরোনো সহযোদ্ধারা সবাই পেশা বদলেছেন, সেখানে একাই লড়ে যাচ্ছেন তিনি।

হারানো দিনের সেই জমজমাট হাট  শ্রীমঙ্গল শহরের গদারবাজারে শনি ও মঙ্গলবার বসে ইউসুফ মিয়ার ছোট দোকান। এক সময় এই বাজারেই সপ্তাহে সাত দিন ৩০-৩৫ জন বিক্রেতা বসতেন। সিলেট থেকে আসা পাইকারদের ভিড়ে দিন শেষে একেকজন ৩০-৪০টি লাঙল ও গাইল বিক্রি করতেন। ২০ বছর আগে যে গাইলের দাম ছিল ১০০ টাকা, আজ তা ৫০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, বর্তমানে চাহিদার অভাবে সারাদিন বসে থেকেও কখনো একটি পণ্যও বিক্রি হয় না ইউসুফ মিয়ার।

যন্ত্রের কাছে হার মানছে শিল্প  বিগত দেড় দশকে কৃষিতে এসেছে আধুনিকায়ন। কাঠের লাঙলের জায়গা নিয়েছে ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার, আর গাইল-ছেনের কাজ করছে যান্ত্রিক মিল। ইউসুফ মিয়া জানান, আগে যে কাঁচামাল বা কাঠ ২০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে হয় ৩০০ টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি বিক্রি। মামা আবদুল খালেকের হাত ধরে শেখা এই পেশাকে ভালোবেসে তিনি আজও আঁকড়ে থাকলেও বর্তমান চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক।

জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতা ব্যক্তিগত জীবনে ইউসুফ মিয়ার সংগ্রাম আরও প্রখর। একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী এবং বড় মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সংসারের টানাপোড়েন সত্ত্বেও পৈতৃক ঐতিহ্যের মায়ায় তিনি এই পেশা ছাড়তে পারছেন না।

গদারবাজারে একসময়কার সেই রমরমা কৃষিপণ্যের হাট এখন আর নেই। কিন্তু ইউসুফ মিয়া এখনো নিয়মিত সেখানে বসেন। গ্রামীণ ঐতিহ্যের শেষ প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যেন একাই এক নীরব প্রহরীর ভূমিকা পালন করছেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ইউসুফ মিয়া অবসর নিলে গদারবাজারে এই চিরচেনা লাঙল-গাইল কি আর কখনো দেখা যাবে?

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


যান্ত্রিকতার ভিড়ে ঐতিহ্য আগলে ইউসুফ মিয়া: শ্রীমঙ্গলের গদারবাজারে ফুরিয়ে আসছে লাঙল-গাইলের দিন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


একসময় গ্রামবাংলার কৃষিজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল কাঠের লাঙল আর শস্য গুঁড়ো করার গাইল। আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রভাবে সেসব আজ বিলুপ্তির পথে। তবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের গদারবাজারে এখনো এই বিলীয়মান ঐতিহ্যকে আগলে রেখেছেন কুশবাস গ্রামের ইউসুফ মিয়া। যেখানে পুরোনো সহযোদ্ধারা সবাই পেশা বদলেছেন, সেখানে একাই লড়ে যাচ্ছেন তিনি।

হারানো দিনের সেই জমজমাট হাট  শ্রীমঙ্গল শহরের গদারবাজারে শনি ও মঙ্গলবার বসে ইউসুফ মিয়ার ছোট দোকান। এক সময় এই বাজারেই সপ্তাহে সাত দিন ৩০-৩৫ জন বিক্রেতা বসতেন। সিলেট থেকে আসা পাইকারদের ভিড়ে দিন শেষে একেকজন ৩০-৪০টি লাঙল ও গাইল বিক্রি করতেন। ২০ বছর আগে যে গাইলের দাম ছিল ১০০ টাকা, আজ তা ৫০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, বর্তমানে চাহিদার অভাবে সারাদিন বসে থেকেও কখনো একটি পণ্যও বিক্রি হয় না ইউসুফ মিয়ার।

যন্ত্রের কাছে হার মানছে শিল্প  বিগত দেড় দশকে কৃষিতে এসেছে আধুনিকায়ন। কাঠের লাঙলের জায়গা নিয়েছে ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার, আর গাইল-ছেনের কাজ করছে যান্ত্রিক মিল। ইউসুফ মিয়া জানান, আগে যে কাঁচামাল বা কাঠ ২০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে হয় ৩০০ টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি বিক্রি। মামা আবদুল খালেকের হাত ধরে শেখা এই পেশাকে ভালোবেসে তিনি আজও আঁকড়ে থাকলেও বর্তমান চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক।

জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতা ব্যক্তিগত জীবনে ইউসুফ মিয়ার সংগ্রাম আরও প্রখর। একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী এবং বড় মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সংসারের টানাপোড়েন সত্ত্বেও পৈতৃক ঐতিহ্যের মায়ায় তিনি এই পেশা ছাড়তে পারছেন না।

গদারবাজারে একসময়কার সেই রমরমা কৃষিপণ্যের হাট এখন আর নেই। কিন্তু ইউসুফ মিয়া এখনো নিয়মিত সেখানে বসেন। গ্রামীণ ঐতিহ্যের শেষ প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যেন একাই এক নীরব প্রহরীর ভূমিকা পালন করছেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ইউসুফ মিয়া অবসর নিলে গদারবাজারে এই চিরচেনা লাঙল-গাইল কি আর কখনো দেখা যাবে?


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ