ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৬ মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরল আবিদ


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬

৬ মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরল আবিদ
চিত্র : সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩৫টি অপারেশনের পর দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসাধীন থেকে অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দগ্ধ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২)। আবিদ স্কুলটির পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, “আবিদুর রহিম গত বছরের ২১ জুলাই থেকে আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছয় মাস অর্থাৎ ১৮০ দিন তার চিকিৎসা হয়েছে। তার শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে, যা কম হলেও ইনহ‍্যালেশন বার্ন, ফেস ও হাত পোড়া সমস্যা জটিল ছিল। ঘটনার সময় সে ক্লাসের সামনের দিকে অবস্থান করছিল।”

আবিদের চিকিৎসা ক্রিটিক্যাল ছিল। তাকে পাঁচ দিন আইসিইউতে রাখা হয়, এরপর ৬ দিন হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) এবং ১৭২ দিন কেবিনে। দুই হাত পোড়ার কারণে ফ‍্যাসেকটমি করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত হাত রক্ষা করা সম্ভব হয়। ৩৫ বার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে; এর মধ্যে ২৩ বার ছোট অপারেশন এবং ১০ বার চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। মুখ ও হাতের ফ্লাক কাভারেজের জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে সূর্যালোক থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এখন তাকে নিয়মিত থেরাপি নিতে হবে।

অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আরও বলেন, “আজ আবিদ বাড়ি যাচ্ছে। আমাদের এখানে ৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে আবিদ ছিল সর্বশেষ। চিকিৎসায় যারা সহযোগিতা করেছেন, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। ছয় মাস হাসপাতালে থাকা পরিবারদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। তবে সরকার চিকিৎসার পুরো ব্যয় বহন করেছে।”

তিনি সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ জানান, চিকিৎসার সময় তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করা হয়েছে এবং কোনো অভিযোগ করা হয়নি। ভবিষ্যতে এমন বড় ঘটনার চিকিৎসা আরও উন্নতমানের করার জন্য আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ও উপকরণ ব্যবহার করা হবে। এছাড়া যারা এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের অন্তত দুই বছর পর্যবেক্ষণ করা হবে।

আবিদুর বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমার ছেলে আজ ৬ মাস চিকিৎসা থাকার পর বাড়ি ফিরছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আবিদ আজকে বলে, ‘বাবা, আমার আজকে ঈদের মতো লাগছে।’ চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগিতায় আমরা অভিভূত।” তিনি সরকারকে আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

এসময় হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম এবং জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জন মারা যান এবং ৩৬ জন আহত হন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


৬ মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরল আবিদ

প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩৫টি অপারেশনের পর দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসাধীন থেকে অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দগ্ধ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২)। আবিদ স্কুলটির পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।


বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, “আবিদুর রহিম গত বছরের ২১ জুলাই থেকে আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছয় মাস অর্থাৎ ১৮০ দিন তার চিকিৎসা হয়েছে। তার শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে, যা কম হলেও ইনহ‍্যালেশন বার্ন, ফেস ও হাত পোড়া সমস্যা জটিল ছিল। ঘটনার সময় সে ক্লাসের সামনের দিকে অবস্থান করছিল।”


আবিদের চিকিৎসা ক্রিটিক্যাল ছিল। তাকে পাঁচ দিন আইসিইউতে রাখা হয়, এরপর ৬ দিন হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) এবং ১৭২ দিন কেবিনে। দুই হাত পোড়ার কারণে ফ‍্যাসেকটমি করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত হাত রক্ষা করা সম্ভব হয়। ৩৫ বার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে; এর মধ্যে ২৩ বার ছোট অপারেশন এবং ১০ বার চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। মুখ ও হাতের ফ্লাক কাভারেজের জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে সূর্যালোক থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এখন তাকে নিয়মিত থেরাপি নিতে হবে।


অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আরও বলেন, “আজ আবিদ বাড়ি যাচ্ছে। আমাদের এখানে ৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে আবিদ ছিল সর্বশেষ। চিকিৎসায় যারা সহযোগিতা করেছেন, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। ছয় মাস হাসপাতালে থাকা পরিবারদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। তবে সরকার চিকিৎসার পুরো ব্যয় বহন করেছে।”


তিনি সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ জানান, চিকিৎসার সময় তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করা হয়েছে এবং কোনো অভিযোগ করা হয়নি। ভবিষ্যতে এমন বড় ঘটনার চিকিৎসা আরও উন্নতমানের করার জন্য আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ও উপকরণ ব্যবহার করা হবে। এছাড়া যারা এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের অন্তত দুই বছর পর্যবেক্ষণ করা হবে।


আবিদুর বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমার ছেলে আজ ৬ মাস চিকিৎসা থাকার পর বাড়ি ফিরছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আবিদ আজকে বলে, ‘বাবা, আমার আজকে ঈদের মতো লাগছে।’ চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগিতায় আমরা অভিভূত।” তিনি সরকারকে আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।


এসময় হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম এবং জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জন মারা যান এবং ৩৬ জন আহত হন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ