রাজধানীর গুলশান এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের গাড়ি বহরের মধ্যে ঢুকে এক অজ্ঞাত মোটরসাইকেলচালক তারেকের চলন্ত বুলেটপ্রুফ গাড়িতে একটি খাম স্কচটেপ দিয়ে লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে গেছে, এমন এক রহস্যময় ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে গত ১৪ জানুয়ারি (শনিবার) রাত প্রায় ১১:৪৫ টায়, যখন তিনি তার গুলশান কার্যালয় থেকে বাসায় ফিরছিলেন।
ঘটনার সময় তারেক রহমান গাড়ির ভিতরে ছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দল ও অন্যান্য সহযাত্রী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি সাদা হিরো হাংক মোটরসাইকেলে একাই থাকা বাইকারটি তারেকের গাড়ির পেছনে এসে গ্লাসে স্কচটেপ দিয়ে খামটি আটকে দ্রুত সোজা আমেরিকান ক্লাবের দিকে চলে যায়। তবে ওই ভিডিও ফুটেজটি ওৎপর্যপূর্ণ স্থিরতা প্রদান করছে না, এমন মন্তব্য করেছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলের পর গুলশান থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি জেনারেল ডাইরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ওই বাইকারটি দ্রুতগতিতে এসে খামটি গাড়িতে লাগিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে খামের উদ্দেশ্য এবং এর ভিতরের বিষয়বস্তু এখনও অজানা। পুলিশ জানিয়েছে, খামটি বর্তমানে সিএসএফ (চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স)-এর নিরাপত্তা দলের কাছে রাখা আছে এবং তারা এখনো খামের বিষয়টি প্রকাশ করেনি।
গুলশান থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম জানান, বাইকারটি খুব ত্বরিতা নিয়ে খাম লাগিয়ে পালিয়ে গেছে এবং পুলিশ এখন পর্যন্ত মোটরসাইকেল বা চালককে শনাক্ত করতে পারেনি। তিনি বলেন, “এটি কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।” পাশাপাশি ডিএমপি‑র গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রওনক আলম উল্লেখ করেছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দিয়ে নানা ধরনের অনুমান ও মন্তব্য করা হয়েছে। কেউ এটিকে ‘অদ্ভুত ও অনিশ্চিত উদ্দেশ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে কোনো ‘জঙ্গি বা রাজনৈতিক বার্তা’ হিসেবেও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সরকারি বা পুলিশি কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত এই অনুমানগুলোর পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ দেয়নি।
একাধিক জিজ্ঞাসা সত্ত্বেও পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী খামের ভিতরে কী ছিল বা খামে কোনো নোট বা বার্তা ছিল কি না— সে ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দ্রুত প্রকাশ করেনি। এবং চার দিন পার হলেও ওই মোটরসাইকেলচালক বা তার পরিচয় কিংবা পরিচয় সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য কর্তৃপক্ষের হাতে আসেনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আসে এমন সময় যখন তারেক রহমান সম্প্রতি দেশের পরিস্থিতি ও গুম‑খুন সংক্রান্ত ওঠা‑নামা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরব ছিলেন। গত ১৭ জানুয়ারি সরকারের শাসনামলে গুম ও খুনের ভয়াবহ অধ্যায় নিয়ে মন্তব্যও করেছেন তিনি, যেখানে বলেছেন গুম‑খুনের ভয়াবহ অধ্যায় পেছনে ফেলার সময় এসেছে।
এবার পর্যন্ত পুলিশের বিস্তারিত তদন্ত ও সম্ভাব্য ভাবনার কোনও চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে, এবং খামটির প্রকৃত বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে ঘটনা নিয়ে বৈধ ও নির্ভেজাল ব্যাখ্যা দ্রুত প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর গুলশান এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের গাড়ি বহরের মধ্যে ঢুকে এক অজ্ঞাত মোটরসাইকেলচালক তারেকের চলন্ত বুলেটপ্রুফ গাড়িতে একটি খাম স্কচটেপ দিয়ে লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে গেছে, এমন এক রহস্যময় ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে গত ১৪ জানুয়ারি (শনিবার) রাত প্রায় ১১:৪৫ টায়, যখন তিনি তার গুলশান কার্যালয় থেকে বাসায় ফিরছিলেন।
ঘটনার সময় তারেক রহমান গাড়ির ভিতরে ছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দল ও অন্যান্য সহযাত্রী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি সাদা হিরো হাংক মোটরসাইকেলে একাই থাকা বাইকারটি তারেকের গাড়ির পেছনে এসে গ্লাসে স্কচটেপ দিয়ে খামটি আটকে দ্রুত সোজা আমেরিকান ক্লাবের দিকে চলে যায়। তবে ওই ভিডিও ফুটেজটি ওৎপর্যপূর্ণ স্থিরতা প্রদান করছে না, এমন মন্তব্য করেছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলের পর গুলশান থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি জেনারেল ডাইরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ওই বাইকারটি দ্রুতগতিতে এসে খামটি গাড়িতে লাগিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে খামের উদ্দেশ্য এবং এর ভিতরের বিষয়বস্তু এখনও অজানা। পুলিশ জানিয়েছে, খামটি বর্তমানে সিএসএফ (চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স)-এর নিরাপত্তা দলের কাছে রাখা আছে এবং তারা এখনো খামের বিষয়টি প্রকাশ করেনি।
গুলশান থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম জানান, বাইকারটি খুব ত্বরিতা নিয়ে খাম লাগিয়ে পালিয়ে গেছে এবং পুলিশ এখন পর্যন্ত মোটরসাইকেল বা চালককে শনাক্ত করতে পারেনি। তিনি বলেন, “এটি কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।” পাশাপাশি ডিএমপি‑র গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রওনক আলম উল্লেখ করেছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দিয়ে নানা ধরনের অনুমান ও মন্তব্য করা হয়েছে। কেউ এটিকে ‘অদ্ভুত ও অনিশ্চিত উদ্দেশ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে কোনো ‘জঙ্গি বা রাজনৈতিক বার্তা’ হিসেবেও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সরকারি বা পুলিশি কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত এই অনুমানগুলোর পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ দেয়নি।
একাধিক জিজ্ঞাসা সত্ত্বেও পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী খামের ভিতরে কী ছিল বা খামে কোনো নোট বা বার্তা ছিল কি না— সে ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দ্রুত প্রকাশ করেনি। এবং চার দিন পার হলেও ওই মোটরসাইকেলচালক বা তার পরিচয় কিংবা পরিচয় সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য কর্তৃপক্ষের হাতে আসেনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আসে এমন সময় যখন তারেক রহমান সম্প্রতি দেশের পরিস্থিতি ও গুম‑খুন সংক্রান্ত ওঠা‑নামা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরব ছিলেন। গত ১৭ জানুয়ারি সরকারের শাসনামলে গুম ও খুনের ভয়াবহ অধ্যায় নিয়ে মন্তব্যও করেছেন তিনি, যেখানে বলেছেন গুম‑খুনের ভয়াবহ অধ্যায় পেছনে ফেলার সময় এসেছে।
এবার পর্যন্ত পুলিশের বিস্তারিত তদন্ত ও সম্ভাব্য ভাবনার কোনও চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে, এবং খামটির প্রকৃত বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে ঘটনা নিয়ে বৈধ ও নির্ভেজাল ব্যাখ্যা দ্রুত প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন