দেশি বাজারে প্রচলিত স্বর্ণের বৃহত্তর অংশই অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)‑এর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর আয়োজিত ‘মিট দ্য বিজনেস’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দেশে যেসব স্বর্ণ বর্তমানে রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত যেটি ঢুকছে, তার অধিকাংশই বৈধ আমদানি হিসেবে বইছে না। আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিষয়টি সরকারের কাছে একটি জটিল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান ও অবৈধ আমদানির ব্যাপারটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে না, বরং এর ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বাজারের অপসৃজন ঘটছে। এনবিআর‑এর কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে, যার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সহ ব্যবসায়ী নেতারা স্বীকার করেছেন যে স্বর্ণের বাজারে বৈধ আমদানি কম এবং অবৈধ প্রবেশ বেশি। তারা বলেছেন, বৈধ আমদানি সহজ করা হলে ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স প্রদান করলে এই প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে। বাজুস নেতারা বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে কর ও ভ্যাটের জটিলতা কমানো এবং আমদানি প্রক্রিয়া সরলীকরণ।
অপরদিকে, NBR জানিয়েছে যে স্বর্ণ ও গহনা খাতে শৃঙ্খলা আনতে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। সর্বাধিক স্বর্ণ অবৈধভাবে আসায় সরকারি পর্যায়ে এই খাতকে নিয়মিতকরণ ও পর্যবেক্ষণে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এনবিআর পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে শক্ত আইন প্রয়োগ, পরিষ্কার আমদানি রেকর্ড রাখা এবং চোরাচালান রোধ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ আমদানি ও শুল্ক কাঠামোর জটিলতা, বিমানবন্দর baggage রুলের সুযোগ এবং সীমান্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রিত পথে প্রবেশের দুর্বল মনিটরিং অবৈধ স্বর্ণের প্রবাহকে সুবিধাজনক করেছে। বর্তমান কায়দায় অনেক সময় ব্যক্তি‑পর্যায়ে আনতে পারা স্বর্ণ নিয়ন্ত্রিতভাবে যাচাই না করে বাজারে চলে যায়, যার কারণে সরকারি রাজস্ব লস হয় এবং স্বর্ণের বাজার বিপর্যস্ত হয়।
সরকারি ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই বলছেন, বৈধ আমদানি বৃদ্ধি ও বাজার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, “স্বর্ণ আমদানি নিয়ে নিয়মিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া তৈরি করলে, ব্যবসায়ীরা আইনের আওতায় থেকে নির্দোষভাবে তাদের কাজ করতে পারবে।”
সাম্প্রতিক সরকারি ও ব্যবসায়ী উভয় প্রতিবেদনই ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশে বাজারে আসা স্বর্ণের বেশিরভাগই বৈধ পথে নয়, যা চোরাচালান, সীমান্ত দুর্বলতা এবং আমদানি নিয়মের জটিলতার কারণে সম্ভব হচ্ছে। সরকারের উদ্যোগে শৃঙ্খলা আনতে নীতিগত পরিবর্তন ও লাইসেন্স ব্যবস্থা সহজ করার বিষয়ে আলাপ চলছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
দেশি বাজারে প্রচলিত স্বর্ণের বৃহত্তর অংশই অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)‑এর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর আয়োজিত ‘মিট দ্য বিজনেস’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দেশে যেসব স্বর্ণ বর্তমানে রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত যেটি ঢুকছে, তার অধিকাংশই বৈধ আমদানি হিসেবে বইছে না। আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিষয়টি সরকারের কাছে একটি জটিল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান ও অবৈধ আমদানির ব্যাপারটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে না, বরং এর ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বাজারের অপসৃজন ঘটছে। এনবিআর‑এর কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে, যার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সহ ব্যবসায়ী নেতারা স্বীকার করেছেন যে স্বর্ণের বাজারে বৈধ আমদানি কম এবং অবৈধ প্রবেশ বেশি। তারা বলেছেন, বৈধ আমদানি সহজ করা হলে ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স প্রদান করলে এই প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে। বাজুস নেতারা বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে কর ও ভ্যাটের জটিলতা কমানো এবং আমদানি প্রক্রিয়া সরলীকরণ।
অপরদিকে, NBR জানিয়েছে যে স্বর্ণ ও গহনা খাতে শৃঙ্খলা আনতে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। সর্বাধিক স্বর্ণ অবৈধভাবে আসায় সরকারি পর্যায়ে এই খাতকে নিয়মিতকরণ ও পর্যবেক্ষণে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এনবিআর পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে শক্ত আইন প্রয়োগ, পরিষ্কার আমদানি রেকর্ড রাখা এবং চোরাচালান রোধ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ আমদানি ও শুল্ক কাঠামোর জটিলতা, বিমানবন্দর baggage রুলের সুযোগ এবং সীমান্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রিত পথে প্রবেশের দুর্বল মনিটরিং অবৈধ স্বর্ণের প্রবাহকে সুবিধাজনক করেছে। বর্তমান কায়দায় অনেক সময় ব্যক্তি‑পর্যায়ে আনতে পারা স্বর্ণ নিয়ন্ত্রিতভাবে যাচাই না করে বাজারে চলে যায়, যার কারণে সরকারি রাজস্ব লস হয় এবং স্বর্ণের বাজার বিপর্যস্ত হয়।
সরকারি ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই বলছেন, বৈধ আমদানি বৃদ্ধি ও বাজার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, “স্বর্ণ আমদানি নিয়ে নিয়মিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া তৈরি করলে, ব্যবসায়ীরা আইনের আওতায় থেকে নির্দোষভাবে তাদের কাজ করতে পারবে।”
সাম্প্রতিক সরকারি ও ব্যবসায়ী উভয় প্রতিবেদনই ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশে বাজারে আসা স্বর্ণের বেশিরভাগই বৈধ পথে নয়, যা চোরাচালান, সীমান্ত দুর্বলতা এবং আমদানি নিয়মের জটিলতার কারণে সম্ভব হচ্ছে। সরকারের উদ্যোগে শৃঙ্খলা আনতে নীতিগত পরিবর্তন ও লাইসেন্স ব্যবস্থা সহজ করার বিষয়ে আলাপ চলছে।

আপনার মতামত লিখুন