ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পোস্টাল ব্যালটে নির্দিষ্ট দলের পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

পোস্টাল ব্যালটে নির্দিষ্ট দলের পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের
চিত্র : সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রথম উদ্যোগ হওয়ায় কিছু ভুলভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যেসব অনিয়মের অভিযোগ আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কাজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন বলেন, বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনগত বিষয় ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পৌঁছেছে। কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের কাছে ব্যালট কীভাবে পাঠানো হয়েছে, তারা কোথায় ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন এবং বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়ার দায় কার—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিষয়গুলো বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনে আজই ব্যাখ্যা দিতে পারে।

আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য ভোটার স্লিপে ভোটারের নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে আচরণবিধিতে কোনো দলের নাম বা প্রার্থীর ছবি প্রদর্শনের বিধান নেই, যা পুনর্বিবেচনার দাবি রয়েছে। তিনি জানান, ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব নয়; ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে ভোট দেবেন।

সালাহউদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সফর স্থগিত করা হয়েছিল। তখন এটি রাজনৈতিক প্রচার ছিল না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কর্মকাণ্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা বিএনপির নজরে এসেছে।

পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ব্যালট ব্যবহারের মতোই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকসহ সেই ব্যালট পোস্টাল ব্যালট হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত। এতে আলাদা আলাদা ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হবে না এবং জটিলতাও কমবে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পোস্টাল ব্যালটে নির্দিষ্ট দলের পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রথম উদ্যোগ হওয়ায় কিছু ভুলভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যেসব অনিয়মের অভিযোগ আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কাজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন বলেন, বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনগত বিষয় ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পৌঁছেছে। কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে।


তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের কাছে ব্যালট কীভাবে পাঠানো হয়েছে, তারা কোথায় ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন এবং বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়ার দায় কার—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিষয়গুলো বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনে আজই ব্যাখ্যা দিতে পারে।


আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য ভোটার স্লিপে ভোটারের নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে আচরণবিধিতে কোনো দলের নাম বা প্রার্থীর ছবি প্রদর্শনের বিধান নেই, যা পুনর্বিবেচনার দাবি রয়েছে। তিনি জানান, ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব নয়; ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে ভোট দেবেন।


সালাহউদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সফর স্থগিত করা হয়েছিল। তখন এটি রাজনৈতিক প্রচার ছিল না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কর্মকাণ্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা বিএনপির নজরে এসেছে।


পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ব্যালট ব্যবহারের মতোই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকসহ সেই ব্যালট পোস্টাল ব্যালট হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত। এতে আলাদা আলাদা ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হবে না এবং জটিলতাও কমবে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।


এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ