পৌষ-সংক্রান্তির শেষ দিনে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা বসেছে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মাছের মেলা’ নামেও পরিচিত। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলায় দুপুর গড়াতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ মেলা দেখতে ও কেনাকাটা করতে আসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিনিরাইল গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠের মাঝখানে দিগন্তজোড়া এলাকায় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের গ্রামের মেয়েদের জামাইরা শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে জামাই ও শ্বশুর একসঙ্গে মেলায় গিয়ে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বড় মাছ কেনেন, যা মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্রেতারা বড় আকারের রুই, কাতলা, বোয়াল, চিতলসহ সামুদ্রিক মাছ নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছেন। অন্তত ৩০ প্রজাতির মাছের পসরা বসেছে বলে জানান আয়োজকরা। মাছের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে খাবারের দোকান, মনিহারি, খেলনা, আসবাবপত্র, মিষ্টি ও বিভিন্ন নিত্যপণ্যের স্টল।
মেলায় মাছ বিক্রি করতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যের টানে বিনিরাইলের এই মেলায় কেনাবেচার পাশাপাশি মানুষ দেখতে বেশি আসে। তবে বিক্রিও কম হয় না। শুধু লাভের জন্য নয়, আনন্দ আর উৎসবের অংশ হিসেবেই তারা এই মেলায় অংশ নেন।
গ্রামের জামাই ইকবাল চৌধুরী জানান, বছরের এই বিশেষ দিনে ব্যস্ততা কাটিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসা হয়। শ্বশুরের সঙ্গে মেলায় গিয়ে মাছ কেনার প্রতিযোগিতা হয়। এরপর মিষ্টি ও নানা খাবার কিনে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে দিনটি কাটান তারা।
স্থানীয়দের মতে, এই মেলার মূল উদ্দেশ্য পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা ও আনন্দ ভাগাভাগি করা। এখানে বেচাকেনার চেয়ে উৎসবের আমেজই বেশি গুরুত্ব পায়।
আয়োজক কমিটি জানায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে খুব ছোট পরিসরে এই মেলার সূচনা হয়েছিল। অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এর আয়োজন হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলাটি একটি সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে মাছের পাশাপাশি বস্ত্র, হস্ত ও চারু-কারু শিল্প, প্রসাধনী, ফার্নিচার, খেলনা, তৈজসপত্র, মিষ্টি ও কুটির শিল্পের নানা পণ্যের স্টল বসে।
মেলাকে ঘিরে বিনিরাইল ও আশপাশের গ্রামগুলোতে কয়েকদিন ধরেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মেলা উপলক্ষ্যে মেয়ে-জামাইকে দাওয়াত করে আনা এখানকার মানুষের সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
পৌষ-সংক্রান্তির শেষ দিনে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা বসেছে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মাছের মেলা’ নামেও পরিচিত। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলায় দুপুর গড়াতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ মেলা দেখতে ও কেনাকাটা করতে আসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিনিরাইল গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠের মাঝখানে দিগন্তজোড়া এলাকায় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের গ্রামের মেয়েদের জামাইরা শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে জামাই ও শ্বশুর একসঙ্গে মেলায় গিয়ে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বড় মাছ কেনেন, যা মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্রেতারা বড় আকারের রুই, কাতলা, বোয়াল, চিতলসহ সামুদ্রিক মাছ নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছেন। অন্তত ৩০ প্রজাতির মাছের পসরা বসেছে বলে জানান আয়োজকরা। মাছের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে খাবারের দোকান, মনিহারি, খেলনা, আসবাবপত্র, মিষ্টি ও বিভিন্ন নিত্যপণ্যের স্টল।
মেলায় মাছ বিক্রি করতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যের টানে বিনিরাইলের এই মেলায় কেনাবেচার পাশাপাশি মানুষ দেখতে বেশি আসে। তবে বিক্রিও কম হয় না। শুধু লাভের জন্য নয়, আনন্দ আর উৎসবের অংশ হিসেবেই তারা এই মেলায় অংশ নেন।
গ্রামের জামাই ইকবাল চৌধুরী জানান, বছরের এই বিশেষ দিনে ব্যস্ততা কাটিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসা হয়। শ্বশুরের সঙ্গে মেলায় গিয়ে মাছ কেনার প্রতিযোগিতা হয়। এরপর মিষ্টি ও নানা খাবার কিনে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে দিনটি কাটান তারা।
স্থানীয়দের মতে, এই মেলার মূল উদ্দেশ্য পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা ও আনন্দ ভাগাভাগি করা। এখানে বেচাকেনার চেয়ে উৎসবের আমেজই বেশি গুরুত্ব পায়।
আয়োজক কমিটি জানায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে খুব ছোট পরিসরে এই মেলার সূচনা হয়েছিল। অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এর আয়োজন হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলাটি একটি সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে মাছের পাশাপাশি বস্ত্র, হস্ত ও চারু-কারু শিল্প, প্রসাধনী, ফার্নিচার, খেলনা, তৈজসপত্র, মিষ্টি ও কুটির শিল্পের নানা পণ্যের স্টল বসে।
মেলাকে ঘিরে বিনিরাইল ও আশপাশের গ্রামগুলোতে কয়েকদিন ধরেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মেলা উপলক্ষ্যে মেয়ে-জামাইকে দাওয়াত করে আনা এখানকার মানুষের সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন