ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নিয়োগে অনিয়ম, চবিতে দুদকের অভিযান


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

নিয়োগে অনিয়ম, চবিতে দুদকের অভিযান

দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে এবং এর প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ (১৪ জানুয়ারি) অভিযান শুরু করেছে।

দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে বুধবার বেলা প্রায় ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অভিযান শুরু হয়, যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই‑বাছাই করছে দুদক টিম। এই অভিযান বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি‑কর্মকর্তা সকল নিয়োগের নথি, আবেদনপত্র, মূল্যায়ন ফল, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য ডকুমেন্ট সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, গত ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় বিভিন্ন শূন্য পদে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার পর থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ উঠছে। এর মধ্যে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বিশেষভাবে নজরে এসেছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ‑উপাচার্যের মেয়ে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বলে দাবিও একটি মূল আলোচ্য বিষয়।

চবি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও কর্মী‑সহ অন্যান্যরা অভিযোগ করেছেন, কিছু নিয়োগে যোগ্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ফলাফলের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে, নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

দুদকের অভিযান ক্যাম্পাসের নিয়োগ নীতি, নিয়োগ বোর্ডের সভা কার্যক্রম এবং নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি কাঠামো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে রেজিস্ট্রারের কক্ষে রেকর্ড অডিট কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠন নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার দাবি জানিয়ে আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কোনোভাবেই আত্মীয়‑স্বজনিক সম্পর্ক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রাধান্য অনুযায়ী নয়, সম্পূর্ণ যোগ্যতা ও নিয়ম অনুযায়ী হওয়া উচিত।

দুদক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত শেষে যদি পাইনা যায় যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৪ জানুয়ারি দুদক প্রশাসনিক ভবনে অভিযান শুরু করেছে; অভিযানে সব নিয়োগ নথি যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে—যাতে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নিয়োগে অনিয়ম, চবিতে দুদকের অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে এবং এর প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ (১৪ জানুয়ারি) অভিযান শুরু করেছে।

দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে বুধবার বেলা প্রায় ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অভিযান শুরু হয়, যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই‑বাছাই করছে দুদক টিম। এই অভিযান বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি‑কর্মকর্তা সকল নিয়োগের নথি, আবেদনপত্র, মূল্যায়ন ফল, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য ডকুমেন্ট সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, গত ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় বিভিন্ন শূন্য পদে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার পর থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ উঠছে। এর মধ্যে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বিশেষভাবে নজরে এসেছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ‑উপাচার্যের মেয়ে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বলে দাবিও একটি মূল আলোচ্য বিষয়।

চবি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও কর্মী‑সহ অন্যান্যরা অভিযোগ করেছেন, কিছু নিয়োগে যোগ্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ফলাফলের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে, নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

দুদকের অভিযান ক্যাম্পাসের নিয়োগ নীতি, নিয়োগ বোর্ডের সভা কার্যক্রম এবং নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি কাঠামো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে রেজিস্ট্রারের কক্ষে রেকর্ড অডিট কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠন নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার দাবি জানিয়ে আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কোনোভাবেই আত্মীয়‑স্বজনিক সম্পর্ক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রাধান্য অনুযায়ী নয়, সম্পূর্ণ যোগ্যতা ও নিয়ম অনুযায়ী হওয়া উচিত।

দুদক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত শেষে যদি পাইনা যায় যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৪ জানুয়ারি দুদক প্রশাসনিক ভবনে অভিযান শুরু করেছে; অভিযানে সব নিয়োগ নথি যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে—যাতে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ