ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বগুড়ার শেরপুরে গ্রেপ্তার দুই ভাতিজা, ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন

সম্পত্তির লোভে আপন চাচাকে শ্বাসরোধে হত্যা


মোঃ নাজমুল হাসান নাজির
মোঃ নাজমুল হাসান নাজির Staff Reporter
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

সম্পত্তির লোভে আপন চাচাকে শ্বাসরোধে হত্যা
বগুড়ার শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ মণ্ডল ৩৮ হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।

বগুড়ার শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ মণ্ডল (৩৮) হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। জমির লোভ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন দুই ভাতিজা মিলে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ফেরদৌসের ছেলে রাকিবুল হাসান সিয়াম (১৬) এবং একই এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে আতিক হাসান (২১)।

পুলিশ জানায়, গত ১১ জানুয়ারি ভোরে ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে আব্দুল হামিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের নাক ও গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় শুরু থেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) সজিব শাহরিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল কাজ শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। বড় ভাতিজা আতিক নিঃসন্তান চাচার বিপুল সম্পত্তির দিকে দীর্ঘদিন ধরে নজর রাখছিল। পাঁচ মাস আগে চাচা পুনরায় বিয়ে করায় সে আশঙ্কা করে, ভবিষ্যতে সন্তান হলে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

অন্যদিকে, ছোট ভাতিজা সিয়ামের মুরগির খামারে কিছুদিন আগে বিষ প্রয়োগে প্রায় ২৭০০ মুরগি মারা যায়। এ ঘটনার জন্য সে চাচা আব্দুল হামিদকেই দায়ী করছিল। এই দুই কারণ মিলেই তারা চাচাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, গত ১০ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়ির পাশের একটি বেগুন ক্ষেতে আব্দুল হামিদকে একা পেয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আতিক ও সিয়াম। গরুর দড়ি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। পরে একটি বাঁশের মই ব্যবহার করে মরদেহ টেনে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে আতিকের নিজের জমিতে ফেলে রেখে যায়।

তদন্তকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি বাঁশের মইয়ের ভাঙা অংশ উদ্ধার করা হয়। সেই সূত্র ধরে গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে সিয়ামের বাড়িতে মিল পাওয়া যায় একই ধরনের ভাঙা মইয়ের। এছাড়া চাচার জানাজা শেষে সিয়ামের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যার কথা স্বীকার করে।

নিহতের স্ত্রী রাফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “জমির জন্য আপন মানুষ এভাবে প্রাণ নেবে, তা কোনোদিন ভাবিনি। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ধার করা আলামতের ভিত্তিতে দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও মই জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


সম্পত্তির লোভে আপন চাচাকে শ্বাসরোধে হত্যা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বগুড়ার শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ মণ্ডল (৩৮) হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। জমির লোভ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন দুই ভাতিজা মিলে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ফেরদৌসের ছেলে রাকিবুল হাসান সিয়াম (১৬) এবং একই এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে আতিক হাসান (২১)।

পুলিশ জানায়, গত ১১ জানুয়ারি ভোরে ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে আব্দুল হামিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের নাক ও গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় শুরু থেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) সজিব শাহরিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল কাজ শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। বড় ভাতিজা আতিক নিঃসন্তান চাচার বিপুল সম্পত্তির দিকে দীর্ঘদিন ধরে নজর রাখছিল। পাঁচ মাস আগে চাচা পুনরায় বিয়ে করায় সে আশঙ্কা করে, ভবিষ্যতে সন্তান হলে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

অন্যদিকে, ছোট ভাতিজা সিয়ামের মুরগির খামারে কিছুদিন আগে বিষ প্রয়োগে প্রায় ২৭০০ মুরগি মারা যায়। এ ঘটনার জন্য সে চাচা আব্দুল হামিদকেই দায়ী করছিল। এই দুই কারণ মিলেই তারা চাচাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, গত ১০ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়ির পাশের একটি বেগুন ক্ষেতে আব্দুল হামিদকে একা পেয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আতিক ও সিয়াম। গরুর দড়ি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। পরে একটি বাঁশের মই ব্যবহার করে মরদেহ টেনে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে আতিকের নিজের জমিতে ফেলে রেখে যায়।

তদন্তকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি বাঁশের মইয়ের ভাঙা অংশ উদ্ধার করা হয়। সেই সূত্র ধরে গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে সিয়ামের বাড়িতে মিল পাওয়া যায় একই ধরনের ভাঙা মইয়ের। এছাড়া চাচার জানাজা শেষে সিয়ামের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যার কথা স্বীকার করে।

নিহতের স্ত্রী রাফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “জমির জন্য আপন মানুষ এভাবে প্রাণ নেবে, তা কোনোদিন ভাবিনি। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ধার করা আলামতের ভিত্তিতে দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও মই জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ