ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১০০৮ শিশুর প্রাণ


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১০০৮ শিশুর প্রাণ

২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ১ হাজার ৮ জন শিশু নিহত হয়েছে। সড়ক ও সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে অসচেতনতার কারণেই শিশুরা উদ্বেগজনক হারে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এ তথ্য জানান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থার নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, চালক বা হেলপার হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে ৫৩৭ জন। অপরদিকে পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৭১ শিশু।

সড়কের ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাসড়কে ২৮১ জন, আঞ্চলিক সড়কে ৩৬৪ জন, গ্রামীণ সড়কে ২৯১ জন এবং শহরের সড়কে ৭২ জন শিশু নিহত হয়েছে।

বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী নিহত শিশুর সংখ্যা ১৭৯ জন, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৩৮২ জন এবং ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪৪৭ জন।

প্রতিবেদনে শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—দেশের সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ না হওয়া, সড়ক ব্যবহারে শিশুদের সচেতনতার অভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক ব্যবহার বিষয়ে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের দ্বারা যানবাহন পরিচালনা, দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট এবং চিকিৎসা ব্যয় বহনে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা।

সুপারিশে বলা হয়েছে, শিশুদের জন্য নিরাপদ সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে সচেতন করে তুলতে হবে এবং অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সুযোগ ও সক্ষমতা বাড়ানো, আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন–২০১৮ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় এবং বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলাধুলার সময় শিশু নিহতের ঘটনা বেশি ঘটছে। পথচারী হিসেবে গ্রামীণ সড়কে শিশুরা সবচেয়ে বেশি হতাহত হচ্ছে, কারণ এসব সড়ক বসতবাড়ির খুব কাছ দিয়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঘরের দরজা খুললেই সড়ক—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এসব সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি না থাকায় যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। অন্যদিকে শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের নিয়মকানুন সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে অবগত নয়। এই অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই শিশু নিহত ও পঙ্গু হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ প্রতিটি শিশুই অমিত সম্ভাবনাময় এবং আজকের শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১০০৮ শিশুর প্রাণ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ১ হাজার ৮ জন শিশু নিহত হয়েছে। সড়ক ও সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে অসচেতনতার কারণেই শিশুরা উদ্বেগজনক হারে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।


মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এ তথ্য জানান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থার নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, চালক বা হেলপার হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে ৫৩৭ জন। অপরদিকে পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৭১ শিশু।


সড়কের ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাসড়কে ২৮১ জন, আঞ্চলিক সড়কে ৩৬৪ জন, গ্রামীণ সড়কে ২৯১ জন এবং শহরের সড়কে ৭২ জন শিশু নিহত হয়েছে।


বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী নিহত শিশুর সংখ্যা ১৭৯ জন, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৩৮২ জন এবং ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪৪৭ জন।


প্রতিবেদনে শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—দেশের সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ না হওয়া, সড়ক ব্যবহারে শিশুদের সচেতনতার অভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক ব্যবহার বিষয়ে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের দ্বারা যানবাহন পরিচালনা, দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট এবং চিকিৎসা ব্যয় বহনে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা।


সুপারিশে বলা হয়েছে, শিশুদের জন্য নিরাপদ সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে সচেতন করে তুলতে হবে এবং অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সুযোগ ও সক্ষমতা বাড়ানো, আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন–২০১৮ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় এবং বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলাধুলার সময় শিশু নিহতের ঘটনা বেশি ঘটছে। পথচারী হিসেবে গ্রামীণ সড়কে শিশুরা সবচেয়ে বেশি হতাহত হচ্ছে, কারণ এসব সড়ক বসতবাড়ির খুব কাছ দিয়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঘরের দরজা খুললেই সড়ক—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


এসব সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি না থাকায় যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। অন্যদিকে শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের নিয়মকানুন সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে অবগত নয়। এই অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই শিশু নিহত ও পঙ্গু হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ প্রতিটি শিশুই অমিত সম্ভাবনাময় এবং আজকের শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ