গোপালগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) শুনানি শেষে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। সোমবার ইসিতে শুনানি শেষে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির বলেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে আপত্তি তোলা, কাগজপত্র নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা এবং শুনানিতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং ভোটারদের মৌলিক অধিকার খর্ব করছে।
দুপুরে ইসির শুনানিতে আশরাফুল আলমের পক্ষে অংশ নেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, আশরাফুল আলম ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। এর আগেও তিনি নৌকার বিপক্ষে জগ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
শাহরিয়ার কবির অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে একটি স্বাক্ষর নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল, অথচ সংশ্লিষ্ট নারী ভোটারই স্বাক্ষর করেছেন। এটি শুনানিতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও একপর্যায়ে দাবি করা হয়, ওই স্বাক্ষর তিনি করেননি।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী সবার কাগজপত্র ঠিক থাকলেও কেবল একজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে আপত্তি তোলা হয়েছে। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থী শুনানিতে এসে আশরাফুল আলমের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আপত্তি জানান, যাতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির উল্লেখ করেন, ভোট একটি আমানত। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এভাবে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট ষড়যন্ত্র এবং এটি নির্বাচনী প্রকৌশল বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’। তিনি বলেন, এ ধরনের কৌশল কোনো দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে না।
তিনি আরও বলেন, আশরাফুল আলম অতীতে মেয়র ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৯ সালে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নৌকার বিপক্ষে জগ মার্কা নিয়ে জয়ী হওয়ার নজিরও রয়েছে। অথচ এখন তাকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোটের মাধ্যমে জনগণই নির্ধারণ করবেন কে জিতবে এবং কে হারবে।
নির্বাচনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬
গোপালগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) শুনানি শেষে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। সোমবার ইসিতে শুনানি শেষে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির বলেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে আপত্তি তোলা, কাগজপত্র নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা এবং শুনানিতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং ভোটারদের মৌলিক অধিকার খর্ব করছে।
দুপুরে ইসির শুনানিতে আশরাফুল আলমের পক্ষে অংশ নেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, আশরাফুল আলম ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। এর আগেও তিনি নৌকার বিপক্ষে জগ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
শাহরিয়ার কবির অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে একটি স্বাক্ষর নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল, অথচ সংশ্লিষ্ট নারী ভোটারই স্বাক্ষর করেছেন। এটি শুনানিতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও একপর্যায়ে দাবি করা হয়, ওই স্বাক্ষর তিনি করেননি।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী সবার কাগজপত্র ঠিক থাকলেও কেবল একজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে আপত্তি তোলা হয়েছে। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থী শুনানিতে এসে আশরাফুল আলমের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আপত্তি জানান, যাতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির উল্লেখ করেন, ভোট একটি আমানত। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এভাবে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট ষড়যন্ত্র এবং এটি নির্বাচনী প্রকৌশল বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’। তিনি বলেন, এ ধরনের কৌশল কোনো দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে না।
তিনি আরও বলেন, আশরাফুল আলম অতীতে মেয়র ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৯ সালে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নৌকার বিপক্ষে জগ মার্কা নিয়ে জয়ী হওয়ার নজিরও রয়েছে। অথচ এখন তাকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোটের মাধ্যমে জনগণই নির্ধারণ করবেন কে জিতবে এবং কে হারবে।
নির্বাচনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

আপনার মতামত লিখুন