শীত মৌসুম শুরু হতেই দেশে আবারও বাড়ছে নিপাহ ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদভাবে সংগ্রহ করা খেজুরের রসই এ ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান উৎস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি হওয়ায় জনস্বাস্থ্যে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০০১ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে মোট ৩৪৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ৭০ শতাংশেরও বেশি মৃত্যুহার নির্দেশ করে। বিশেষ করে গত দুই বছর ধরে আক্রান্তদের অধিকাংশই মৃত্যুবরণ করায় পরিস্থিতিকে ‘চরম উদ্বেগজনক’ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, খেজুরের কাঁচা রস সংগ্রহের সময় বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে রস দূষিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাদুড়ের লালা, থুতু কিংবা অর্ধেক খাওয়া ফল থেকে ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে অপরিষ্কারভাবে সংগ্রহ করা বা সুরক্ষা আবরণ ছাড়া সংরক্ষিত খেজুরের রসকে ‘অনিরাপদ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বাদুড়ে খাওয়া বা কামড়ানো ফল থেকেও সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। আইইডিসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাস এখন পর্যন্ত দেশের ৩৫টি জেলায় শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায়, চলতি বছরের আগস্টে অ-মৌসুমে এক শিশুর শরীরে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সংক্রমণের প্রবণতা দেখা গেলেও এবার বছরজুড়েই ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিকে, নিপাহ ভাইরাস মানুষ-মানুষেও ছড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্র বা শরীরের তরলের সংস্পর্শে এলে পরিবারের সদস্য কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
নিপাহ ভাইরাসের এখনো কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই একমাত্র সুরক্ষা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে বিরত থাকা, বাদুড়ে খাওয়া বা অর্ধেক খাওয়া ফল না খাওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির যত্ন নেওয়ার সময় যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে নজরদারি এবং গবেষণা বাড়াতে না পারলে নিপাহ ভাইরাস মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। শীত মৌসুমে খেজুরের রস সংগ্রহ ও বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬
শীত মৌসুম শুরু হতেই দেশে আবারও বাড়ছে নিপাহ ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদভাবে সংগ্রহ করা খেজুরের রসই এ ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান উৎস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি হওয়ায় জনস্বাস্থ্যে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০০১ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে মোট ৩৪৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ৭০ শতাংশেরও বেশি মৃত্যুহার নির্দেশ করে। বিশেষ করে গত দুই বছর ধরে আক্রান্তদের অধিকাংশই মৃত্যুবরণ করায় পরিস্থিতিকে ‘চরম উদ্বেগজনক’ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, খেজুরের কাঁচা রস সংগ্রহের সময় বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে রস দূষিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাদুড়ের লালা, থুতু কিংবা অর্ধেক খাওয়া ফল থেকে ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে অপরিষ্কারভাবে সংগ্রহ করা বা সুরক্ষা আবরণ ছাড়া সংরক্ষিত খেজুরের রসকে ‘অনিরাপদ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বাদুড়ে খাওয়া বা কামড়ানো ফল থেকেও সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। আইইডিসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাস এখন পর্যন্ত দেশের ৩৫টি জেলায় শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায়, চলতি বছরের আগস্টে অ-মৌসুমে এক শিশুর শরীরে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সংক্রমণের প্রবণতা দেখা গেলেও এবার বছরজুড়েই ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিকে, নিপাহ ভাইরাস মানুষ-মানুষেও ছড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্র বা শরীরের তরলের সংস্পর্শে এলে পরিবারের সদস্য কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
নিপাহ ভাইরাসের এখনো কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই একমাত্র সুরক্ষা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে বিরত থাকা, বাদুড়ে খাওয়া বা অর্ধেক খাওয়া ফল না খাওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির যত্ন নেওয়ার সময় যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে নজরদারি এবং গবেষণা বাড়াতে না পারলে নিপাহ ভাইরাস মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। শীত মৌসুমে খেজুরের রস সংগ্রহ ও বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন