শীতের ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার মাঠে মাঠে এখন আলু জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ভোরের ঠান্ডা ও কুয়াশার মধ্যেও আলুক্ষেতে সেচ দেওয়া, আগাছা দমন এবং রোগবালাই প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে নন্দীগ্রামে আলু চাষের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমেছে। গত মৌসুমে যেখানে ৫ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল, সেখানে এবার চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে। ফলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও কম নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৪০৮ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে তা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের দাবি, মৌসুমের শুরুতেই ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর আলু ও সরিষা—উভয় ফসলের চাষ কম হয়েছে।
এবার নন্দীগ্রামের কৃষকেরা কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, অ্যাসটিক, রোমানা, পাকড়ি ও বিভিন্ন দেশীয় জাতের আলু চাষ করেছেন। ভাটগ্রাম, পোতা, মুরাদপুর, বুড়ইল, রিধইল, সিধইল, বর্ষণ, চাকলমা, সিংজানী, ডেরাহার, হাটলাল, হাটকড়ই, বীজরুল, বীরপলী, থালতা মাঝগ্রাম, গুলিয়া, চাপাপুর ও হরিহারাসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে—চাষিরা নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে ব্যস্ত রয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
বীরপলী গ্রামের আলু চাষি গোলাপ হোসেন জানান, গত বছর তিনি ৫০ বিঘা জমিতে ডায়মন্ড আলু চাষ করে বাম্পার ফলন পেলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছিল। তবে এবার লাভের আশায় তিনি ৮০ বিঘা জমিতে ডায়মন্ড আলু চাষ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রোগবালাইয়ের আক্রমণ না হলে ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রিধইল গ্রামের আলু চাষি সাঈদী ও মামুন, দোহার গ্রামের তোতা ও রফিক এবং ভাটগ্রামের গফফার জানান, আলু জমির নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আলুর ফলন দ্বিগুণ হতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, “আলুর ভালো উৎপাদনের জন্য কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর আবাদ কিছুটা কম হলেও বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে নন্দীগ্রামে এবারও আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।”

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
শীতের ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার মাঠে মাঠে এখন আলু জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ভোরের ঠান্ডা ও কুয়াশার মধ্যেও আলুক্ষেতে সেচ দেওয়া, আগাছা দমন এবং রোগবালাই প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে নন্দীগ্রামে আলু চাষের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমেছে। গত মৌসুমে যেখানে ৫ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল, সেখানে এবার চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে। ফলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও কম নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৪০৮ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে তা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের দাবি, মৌসুমের শুরুতেই ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর আলু ও সরিষা—উভয় ফসলের চাষ কম হয়েছে।
এবার নন্দীগ্রামের কৃষকেরা কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, অ্যাসটিক, রোমানা, পাকড়ি ও বিভিন্ন দেশীয় জাতের আলু চাষ করেছেন। ভাটগ্রাম, পোতা, মুরাদপুর, বুড়ইল, রিধইল, সিধইল, বর্ষণ, চাকলমা, সিংজানী, ডেরাহার, হাটলাল, হাটকড়ই, বীজরুল, বীরপলী, থালতা মাঝগ্রাম, গুলিয়া, চাপাপুর ও হরিহারাসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে—চাষিরা নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে ব্যস্ত রয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
বীরপলী গ্রামের আলু চাষি গোলাপ হোসেন জানান, গত বছর তিনি ৫০ বিঘা জমিতে ডায়মন্ড আলু চাষ করে বাম্পার ফলন পেলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছিল। তবে এবার লাভের আশায় তিনি ৮০ বিঘা জমিতে ডায়মন্ড আলু চাষ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রোগবালাইয়ের আক্রমণ না হলে ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রিধইল গ্রামের আলু চাষি সাঈদী ও মামুন, দোহার গ্রামের তোতা ও রফিক এবং ভাটগ্রামের গফফার জানান, আলু জমির নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আলুর ফলন দ্বিগুণ হতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, “আলুর ভালো উৎপাদনের জন্য কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর আবাদ কিছুটা কম হলেও বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে নন্দীগ্রামে এবারও আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।”

আপনার মতামত লিখুন