আজ সকালেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র শীত বিরাজ করছে, যেখানে রাজশাহী বিভাগে তাপমাত্রা কমে গিয়ে মাত্র ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন রেকর্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। এই শৈত্যপ্রবাহ দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ মোট ১০টি জেলায় বিস্তৃত রয়েছে, যার মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা অন্তর্ভুক্ত। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শৈত্যপ্রবাহ আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে, এবং এরপর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি আজও লক্ষণীয় ছিলো। পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া আবহাওয়া কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী সকালে এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এবং কম তাপমাত্রা ও হিমেল বাতাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজ ও সাধারণ জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। অনেক মানুষ ঠান্ডার তীব্রতায় বাইরে বের হচ্ছেন না, এবং স্বাভাবিক কাজকর্মও ধীর গতিতে চলছে।
শীতের কারণে জনজীবন শুধু উত্তরে নয়, দক্ষিণ অঞ্চলেও বিপর্যস্ত হচ্ছে। ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ বিশেষ কষ্টে পড়ছেন। শীতের প্রকোপ বাড়ায় সকালে ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে, যা যানবাহনের চলাচলেও প্রভাব ফেলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে।
ডাক্তাররা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, হাড় কাঁপানো এই শীতে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশিসহ অন্যান্য শীতজনিত অসুখের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে। অনেক ক্ষেত্রেই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আজকের আবহাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীসহ মধ্যাঞ্চলেও শীতের মাত্রা বাড়ছে এবং ঘন কুয়াশার কারণে দিনের সময়ও রোদ দেখা যাচ্ছে কম। ফলে মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে শিথিলতা দেখা দিয়েছে এবং অনেকেই সকালে ঘর থেকে বের হতে দেরি করছেন।
সার্বিকভাবে, আজকের দিনে শীতের তীব্রতা দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিভিন্নভাবে অনুভূত হয়েছে এবং জনজীবনে এর প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শৈত্যপ্রবাহ আগামী কিছুদিন চলতেই পারে, যদিও মাঝারি পর্যায়ে কিছুটা তাপমাত্রা ওঠানামা হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন