ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছিলেন সুরভী, গুরুত্ব দেয়নি পুলিশ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছিলেন সুরভী, গুরুত্ব দেয়নি পুলিশ

গাজীপুরের আলোচিত তরুণী তাহরিমা জান্নাত সুরভী, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে পরিচিত, সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন। কিন্তু গুরুতর এই অভিযোগটি পুলিশ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেনি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় দুর্জয় সুরভীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। এজাহারে উল্লেখ ছিল, সুরভী তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। যদিও শুরুতে কিছু গণমাধ্যমে ৫০ কোটি টাকার ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ২৪ ডিসেম্বর রাতে টঙ্গীর একটি বাসা থেকে সুরভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের ঘটনার পরই জানা যায়, সুরভী দুর্জয়ের বিরুদ্ধেই এর আগে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন, যা পুলিশের কাছে গুরুত্ব পায়নি।

সুরভীর অভিযোগে বলা হয়েছিল, সাংবাদিক দুর্জয় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন। কিন্তু এ ধরনের সংবেদনশীল অভিযোগ সাধারণত অগ্রাধিকারভিত্তিক তদন্তের আওতায় পড়লেও সুরভীর মামলাটি প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব পায়নি। কালিয়াকৈর থানার নতুন ওসি গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ধর্ষণচেষ্টা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে পারেননি। তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে পুলিশের এই নীরবতা ও উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়—ইচ্ছাকৃতভাবেই কি ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগকে পেছনে ফেলে দেওয়া হয়েছিল?

ঘটনার আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো সুরভীর বয়স। তাঁর জন্মসনদ অনুযায়ী বয়স ১৭ বছর ১ মাস, অর্থাৎ আইন অনুযায়ী তিনি একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। শিশু আইনের অধীনে তার মামলাটি ভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশি নথিতে তাঁর বয়স ২১ বছর দেখানো হয়, যা আইন বিশেষজ্ঞদের মতে গুরুতর অসঙ্গতি। এই ভুল তথ্যের কারণে তিনি শিশু আইনের প্রদত্ত বিশেষ সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল, যা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

গ্রেপ্তারের পর আদালত প্রথমে সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। তবে একই দিন বিকেলে হাইকোর্টের চেম্বার আদালত রিমান্ড বাতিল করে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। আদালতের এই নির্দেশনার পর পুরো ঘটনাটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ—সবার মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। অনেকের মতে, চাঁদাবাজির মামলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলাটিকে পেছনে ফেলে দেওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পুলিশের তদন্তে গাফিলতি ও বয়সসংক্রান্ত ভুল তথ্য সুরভীর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

সব মিলিয়ে এই ঘটনাটি এখন পুলিশের দায়িত্বশীলতা, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং ভিকটিমের নিরাপত্তা—সবকিছু নিয়েই একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে সুরভীর অভিযোগের সঠিক বিচার পাওয়া কঠিন হতে পারে—এমন আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছিলেন সুরভী, গুরুত্ব দেয়নি পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের আলোচিত তরুণী তাহরিমা জান্নাত সুরভী, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে পরিচিত, সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন। কিন্তু গুরুতর এই অভিযোগটি পুলিশ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেনি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় দুর্জয় সুরভীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। এজাহারে উল্লেখ ছিল, সুরভী তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। যদিও শুরুতে কিছু গণমাধ্যমে ৫০ কোটি টাকার ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ২৪ ডিসেম্বর রাতে টঙ্গীর একটি বাসা থেকে সুরভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের ঘটনার পরই জানা যায়, সুরভী দুর্জয়ের বিরুদ্ধেই এর আগে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন, যা পুলিশের কাছে গুরুত্ব পায়নি।

সুরভীর অভিযোগে বলা হয়েছিল, সাংবাদিক দুর্জয় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন। কিন্তু এ ধরনের সংবেদনশীল অভিযোগ সাধারণত অগ্রাধিকারভিত্তিক তদন্তের আওতায় পড়লেও সুরভীর মামলাটি প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব পায়নি। কালিয়াকৈর থানার নতুন ওসি গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ধর্ষণচেষ্টা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে পারেননি। তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে পুলিশের এই নীরবতা ও উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়—ইচ্ছাকৃতভাবেই কি ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগকে পেছনে ফেলে দেওয়া হয়েছিল?

ঘটনার আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো সুরভীর বয়স। তাঁর জন্মসনদ অনুযায়ী বয়স ১৭ বছর ১ মাস, অর্থাৎ আইন অনুযায়ী তিনি একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। শিশু আইনের অধীনে তার মামলাটি ভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশি নথিতে তাঁর বয়স ২১ বছর দেখানো হয়, যা আইন বিশেষজ্ঞদের মতে গুরুতর অসঙ্গতি। এই ভুল তথ্যের কারণে তিনি শিশু আইনের প্রদত্ত বিশেষ সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল, যা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

গ্রেপ্তারের পর আদালত প্রথমে সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। তবে একই দিন বিকেলে হাইকোর্টের চেম্বার আদালত রিমান্ড বাতিল করে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। আদালতের এই নির্দেশনার পর পুরো ঘটনাটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ—সবার মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। অনেকের মতে, চাঁদাবাজির মামলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলাটিকে পেছনে ফেলে দেওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পুলিশের তদন্তে গাফিলতি ও বয়সসংক্রান্ত ভুল তথ্য সুরভীর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

সব মিলিয়ে এই ঘটনাটি এখন পুলিশের দায়িত্বশীলতা, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং ভিকটিমের নিরাপত্তা—সবকিছু নিয়েই একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে সুরভীর অভিযোগের সঠিক বিচার পাওয়া কঠিন হতে পারে—এমন আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ