সারাদেশে শীতের প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। হাড় হিম করা এই ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। উপায় না পেয়ে শীত উপেক্ষা করেই দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের কারণে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
তীব্র শীতের প্রভাবে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। রাস্তাঘাটেও মানুষের চলাচল তুলনামূলকভাবে কম। যারা বাইরে বের হচ্ছেন, তারা মোটা জামা-কাপড়, সোয়েটার ও মোজা পরে শীত থেকে রক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কম্বল ও গরম পোশাক বিতরণ শুরু করেছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এসব সহায়তা এখনও অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ভোর ছয়টায় সেখানে তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগের দিন সোমবার এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অর্থাৎ একদিনেই তাপমাত্রা কমেছে ৩ ডিগ্রি।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে আরও একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং কোনো কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে শীতের তীব্রতার সঙ্গে সঙ্গে শীতকালীন রোগের প্রকোপও বেড়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত গরম পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
রাজধানীর শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, তীব্র শীতের কারণে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস ও ঠান্ডা-কাশির রোগী বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
সারাদেশে শীতের প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। হাড় হিম করা এই ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। উপায় না পেয়ে শীত উপেক্ষা করেই দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের কারণে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
তীব্র শীতের প্রভাবে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। রাস্তাঘাটেও মানুষের চলাচল তুলনামূলকভাবে কম। যারা বাইরে বের হচ্ছেন, তারা মোটা জামা-কাপড়, সোয়েটার ও মোজা পরে শীত থেকে রক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কম্বল ও গরম পোশাক বিতরণ শুরু করেছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এসব সহায়তা এখনও অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ভোর ছয়টায় সেখানে তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগের দিন সোমবার এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অর্থাৎ একদিনেই তাপমাত্রা কমেছে ৩ ডিগ্রি।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে আরও একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং কোনো কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে শীতের তীব্রতার সঙ্গে সঙ্গে শীতকালীন রোগের প্রকোপও বেড়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত গরম পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
রাজধানীর শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, তীব্র শীতের কারণে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস ও ঠান্ডা-কাশির রোগী বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন