ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

প্রস্তাব ৬ হাজার নতুন পদ

পূর্বাচলে পুলিশের মেগা প্রজেক্টের পরিকল্পনা


এস. এম. মেহেদী হাসান :
এস. এম. মেহেদী হাসান :
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

পূর্বাচলে পুলিশের মেগা প্রজেক্টের পরিকল্পনা

রাজধানীর অদূরে পরিকল্পিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দেশের ইতিহাসে পুলিশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো ও জনবল সম্প্রসারণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বাচলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে এই মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা এখন প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো পূর্বাচল এলাকাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় আনা হবে। সেখানে চারটি থানা, ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ৪১টি পুলিশ বক্সসহ একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। এই বিশাল কাঠামো পরিচালনার জন্য ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে, যা একক কোনো প্রকল্পে পুলিশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ভবিষ্যতে পূর্বাচল নতুন শহরে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের বসবাস হতে পারে। এখানে সরকারি আবাসন, কূটনৈতিক এলাকা, আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক হাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এ বাস্তবতায় শুরু থেকেই এলাকাটিকে ডিএমপির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে আধুনিক ও সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পূর্বাচলে অপরাধ প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জরুরি সাড়া নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসঝুঁকি মোকাবিলায় এই বিস্তৃত পুলিশ অবকাঠামো অপরিহার্য। পুরো এলাকাকে ডিএমপির আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়টিও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহরে পুলিশের একটি অপরাধ বিভাগ, একটি গোয়েন্দা বিভাগ, একটি ট্রাফিক বিভাগ, একটি পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, একটি পরিবহন বিভাগ, একটি পুলিশ লাইনস, একটি এমআইএস বা আইটি ইউনিট, দুইটি অপরাধ জোন, চারটি ট্রাফিক জোন, চারটি থানা, ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এ জন্য ডিএমপির সাংগঠনিক কাঠামোতে ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃজন এবং বিপুলসংখ্যক যানবাহন টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে শুরু থেকেই একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। রাজউকের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার চাপ বিবেচনায় নিয়ে এলাকাটিকে ডিএমপির আওতায় এনে পূর্ণাঙ্গ পুলিশ কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রশাসনিক পর্যালোচনায় রয়েছে এবং অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পূর্বাচলে পুলিশের মেগা প্রজেক্টের পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাজধানীর অদূরে পরিকল্পিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দেশের ইতিহাসে পুলিশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো ও জনবল সম্প্রসারণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বাচলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে এই মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা এখন প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায়।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো পূর্বাচল এলাকাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় আনা হবে। সেখানে চারটি থানা, ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ৪১টি পুলিশ বক্সসহ একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। এই বিশাল কাঠামো পরিচালনার জন্য ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে, যা একক কোনো প্রকল্পে পুলিশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ভবিষ্যতে পূর্বাচল নতুন শহরে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের বসবাস হতে পারে। এখানে সরকারি আবাসন, কূটনৈতিক এলাকা, আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক হাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এ বাস্তবতায় শুরু থেকেই এলাকাটিকে ডিএমপির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে আধুনিক ও সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পূর্বাচলে অপরাধ প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জরুরি সাড়া নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসঝুঁকি মোকাবিলায় এই বিস্তৃত পুলিশ অবকাঠামো অপরিহার্য। পুরো এলাকাকে ডিএমপির আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়টিও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহরে পুলিশের একটি অপরাধ বিভাগ, একটি গোয়েন্দা বিভাগ, একটি ট্রাফিক বিভাগ, একটি পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, একটি পরিবহন বিভাগ, একটি পুলিশ লাইনস, একটি এমআইএস বা আইটি ইউনিট, দুইটি অপরাধ জোন, চারটি ট্রাফিক জোন, চারটি থানা, ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এ জন্য ডিএমপির সাংগঠনিক কাঠামোতে ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃজন এবং বিপুলসংখ্যক যানবাহন টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।


এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে শুরু থেকেই একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। রাজউকের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার চাপ বিবেচনায় নিয়ে এলাকাটিকে ডিএমপির আওতায় এনে পূর্ণাঙ্গ পুলিশ কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রশাসনিক পর্যালোচনায় রয়েছে এবং অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ