ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম মঞ্চ-২৪ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি)কে আল্টিমেটাম দিয়েছে।
মঞ্চ-২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, “স্বৈরাচারের দোসর” হিসেবে বিবেচিত জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক আচরণ ও অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে দলটিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি প্রেসিডেন্সিয়াল শাসনব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করেছে এবং নির্বাচনের শুদ্ধতা নষ্ট করেছে। তার দাবি, “জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন কোনো দল বা জোট নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না, যারা জনগণের ভোটাধিকারকে অর্থবহ ও সমানভাবে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়।”
মঞ্চ-২৪ দাবি করেছে যে তাদের পক্ষ থেকে জনগণের ভোটাধিকার হরণের মতো ঘটনাবলীর জন্য জাতীয় পার্টিসহ সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুটি উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে—একটি এনসিপির একজন নেতা এবং একটি জুলাই ঐক্য এর পক্ষ থেকে। সংস্থা বলেছে, এসব দলকে নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে হবে।
ফাহিম ফারুকী আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইসি কোনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা জাতীয় সব স্টেকহোল্ডারের সাথে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করবে। আরও জানান, ভোটগ্রহণের সমান পরিবেশ না থাকলে ছাত্র ও জনতাকে নিয়ে তারা আরও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
এদিকে, জাতীয় পার্টির নির্বাচন অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। গণমাধ্যমে ছড়ানো খবর অনুযায়ী, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এ প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা নীতিগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রাখলেও দলটি এককভাবে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কি না বা কোন জোটের সঙ্গে দলবদ্ধ হবে তা পরিষ্কার নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, নির্বাচন কমিশন বা আদালতের অনুমোদন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলকে আইনি ভিত্তিতে অযোগ্য ঘোষণার প্রক্রিয়া কার্যকর করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দাবির ভিত্তিতে এমন আদেশ কার্যকর করার ক্ষমতা নেই ইসির। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী দলকে অযোগ্য করা সাধারণত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সুশূণ্য নিয়মভঙ্গ বা নিবন্ধন বাতিল-এর মতো আইনি শর্তে সীমাবদ্ধ।
এই দাবির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে নির্বাচনের পরিবেশ, দলগুলোর অংশগ্রহণ ও ইসির ভূমিকা নিয়ে জনমত বিভক্ত; অন্যদিকে নেতৃস্থানীয় দলগুলোই নিজেদের অবস্থান ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে ব্যস্ত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্তে এসব দাবির প্রভাব কতোটা গভীর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যে নানা গণমাধ্যমে মতামত ব্যক্ত করেছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম মঞ্চ-২৪ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি)কে আল্টিমেটাম দিয়েছে।
মঞ্চ-২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, “স্বৈরাচারের দোসর” হিসেবে বিবেচিত জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক আচরণ ও অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে দলটিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি প্রেসিডেন্সিয়াল শাসনব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করেছে এবং নির্বাচনের শুদ্ধতা নষ্ট করেছে। তার দাবি, “জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন কোনো দল বা জোট নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না, যারা জনগণের ভোটাধিকারকে অর্থবহ ও সমানভাবে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়।”
মঞ্চ-২৪ দাবি করেছে যে তাদের পক্ষ থেকে জনগণের ভোটাধিকার হরণের মতো ঘটনাবলীর জন্য জাতীয় পার্টিসহ সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুটি উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে—একটি এনসিপির একজন নেতা এবং একটি জুলাই ঐক্য এর পক্ষ থেকে। সংস্থা বলেছে, এসব দলকে নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে হবে।
ফাহিম ফারুকী আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইসি কোনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা জাতীয় সব স্টেকহোল্ডারের সাথে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করবে। আরও জানান, ভোটগ্রহণের সমান পরিবেশ না থাকলে ছাত্র ও জনতাকে নিয়ে তারা আরও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
এদিকে, জাতীয় পার্টির নির্বাচন অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। গণমাধ্যমে ছড়ানো খবর অনুযায়ী, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এ প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা নীতিগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রাখলেও দলটি এককভাবে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কি না বা কোন জোটের সঙ্গে দলবদ্ধ হবে তা পরিষ্কার নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, নির্বাচন কমিশন বা আদালতের অনুমোদন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলকে আইনি ভিত্তিতে অযোগ্য ঘোষণার প্রক্রিয়া কার্যকর করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দাবির ভিত্তিতে এমন আদেশ কার্যকর করার ক্ষমতা নেই ইসির। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী দলকে অযোগ্য করা সাধারণত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সুশূণ্য নিয়মভঙ্গ বা নিবন্ধন বাতিল-এর মতো আইনি শর্তে সীমাবদ্ধ।
এই দাবির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে নির্বাচনের পরিবেশ, দলগুলোর অংশগ্রহণ ও ইসির ভূমিকা নিয়ে জনমত বিভক্ত; অন্যদিকে নেতৃস্থানীয় দলগুলোই নিজেদের অবস্থান ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে ব্যস্ত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্তে এসব দাবির প্রভাব কতোটা গভীর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যে নানা গণমাধ্যমে মতামত ব্যক্ত করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন