ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের আহ্বান সম্মিলিত নারী প্রয়াসের


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের আহ্বান সম্মিলিত নারী প্রয়াসের

নাগরিক সংগঠন সম্মিলিত নারী প্রয়াস রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি সহ মোট ৮ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। বৈঠকে সংগঠনের নেতারা আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে উৎসাহিত করতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা ও কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার আনার ওপর জোর দেন। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. শামীমা তাসনিম। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে সরকারি ও রাজনৈতিক প্রভাবাধীন কমিশন এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে দেশ গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব ও সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তার মতে, একটি স্বায়ত্তশাসিত নির্বাচন কমিশন ছাড়া জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। এ জন্য কমিশনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পুনর্গঠন করা অপরিহার্য।

ড. ফেরদৌস আরা খানম সাধারণ সম্পাদক বলেন, শুধু কমিশনের কাঠামো বদলালেই চলবে না; একে সামগ্রিকভাবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, “যদি দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, তবে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথ দুর্বিষহ হবে।” 

শিক্ষিকা মাহসিনা মমতাজ মারিয়াপ্রভাষক ড. জেবুন্নেসা নির্বাচনী পরিবেশে সমান প্রচারণার সুযোগ ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতি গুরুত্ব দেন। তাদের মতে, ভোটারদের নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ না থাকলে ভোটারদের অংশগ্রহণে কার্যকর ফল পাওয়া যাবেনা। 

আলোচনায় ড. মেহের আফরোজ লুৎফা বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শুধু আইনগতভাবে নয়, সত্যিকারভাবে সামাজিক বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে যাতে মানুষের আস্থা ফিরে আসে। তিনি বলেন, “কমিশনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা প্রশাসনিক চাপ থাকা উচিত নয়।” 

বিশেষভাবে বক্তারা হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার না হওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতিফলন, যা সমানভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাদের উপস্থিত বক্তব্যে বলা হয়, যখন নাগরিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা হারায়, তখন নির্বাচনসহ সমগ্র রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। 

গোলটেবিল থেকে ঘোষিত ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:

  • সরকারি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন,

  • সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান প্রচারণার সুযোগ নিশ্চিত করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি,

  • ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভয়ভীতিহীন ও সহিংসতামুক্ত ভোট পরিবেশ সৃষ্টি,

  • নির্বাচন ফলাফল ঘোষণায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা,

  • নির্বাচনী অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ,

  • গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,

  • মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ করে সৎ নেতৃত্বের চর্চা,

  • এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা। 

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একটি সত্যিকারের স্বতন্ত্র ও দায়িত্বশীল কমিশন ছাড়া জনগণের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে আসবে না এবং এর ফলে ভোট প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল ও সংবিধানিক কাঠামোর সুষমামূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের আহ্বান সম্মিলিত নারী প্রয়াসের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

নাগরিক সংগঠন সম্মিলিত নারী প্রয়াস রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি সহ মোট ৮ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। বৈঠকে সংগঠনের নেতারা আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে উৎসাহিত করতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা ও কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার আনার ওপর জোর দেন। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. শামীমা তাসনিম। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে সরকারি ও রাজনৈতিক প্রভাবাধীন কমিশন এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে দেশ গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব ও সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তার মতে, একটি স্বায়ত্তশাসিত নির্বাচন কমিশন ছাড়া জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। এ জন্য কমিশনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পুনর্গঠন করা অপরিহার্য।

ড. ফেরদৌস আরা খানম সাধারণ সম্পাদক বলেন, শুধু কমিশনের কাঠামো বদলালেই চলবে না; একে সামগ্রিকভাবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, “যদি দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, তবে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথ দুর্বিষহ হবে।” 

শিক্ষিকা মাহসিনা মমতাজ মারিয়াপ্রভাষক ড. জেবুন্নেসা নির্বাচনী পরিবেশে সমান প্রচারণার সুযোগ ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতি গুরুত্ব দেন। তাদের মতে, ভোটারদের নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ না থাকলে ভোটারদের অংশগ্রহণে কার্যকর ফল পাওয়া যাবেনা। 

আলোচনায় ড. মেহের আফরোজ লুৎফা বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শুধু আইনগতভাবে নয়, সত্যিকারভাবে সামাজিক বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে যাতে মানুষের আস্থা ফিরে আসে। তিনি বলেন, “কমিশনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা প্রশাসনিক চাপ থাকা উচিত নয়।” 

বিশেষভাবে বক্তারা হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার না হওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতিফলন, যা সমানভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাদের উপস্থিত বক্তব্যে বলা হয়, যখন নাগরিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা হারায়, তখন নির্বাচনসহ সমগ্র রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। 

গোলটেবিল থেকে ঘোষিত ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:

  • সরকারি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন,

  • সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান প্রচারণার সুযোগ নিশ্চিত করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি,

  • ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভয়ভীতিহীন ও সহিংসতামুক্ত ভোট পরিবেশ সৃষ্টি,

  • নির্বাচন ফলাফল ঘোষণায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা,

  • নির্বাচনী অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ,

  • গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,

  • মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ করে সৎ নেতৃত্বের চর্চা,

  • এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা। 

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একটি সত্যিকারের স্বতন্ত্র ও দায়িত্বশীল কমিশন ছাড়া জনগণের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে আসবে না এবং এর ফলে ভোট প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল ও সংবিধানিক কাঠামোর সুষমামূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ