আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথে অবৈধ অস্ত্র প্রবাহ বাড়ছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা গত কয়েক মাসের তুলনায় দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে, যা নির্বাচনের পরিবেশকে ঘিরে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে সংগঠিত চক্রগুলো অস্ত্র পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে ধারণা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, র্যাব এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা সীমান্ত এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়িয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেন. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে সীমান্ত পথে কিছু অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে, তবে নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিদিনই অভিযান চালিয়ে এসব জব্দ করছে। তাঁর ভাষ্য—“দুই-চারটা অস্ত্র যে ঢুকছে না তা বলা যাবে না, কিন্তু সেগুলো প্রতিদিনই ধরা পড়ছে।” সরকারি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বিদেশি তৈরি পিস্তল, রিভলভার, শটগান ও সাবমেশিনগান, যেগুলোর বেশিরভাগই পাচারকৃত।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, সীমান্তের অন্তত ছয় থেকে সাতটি রুটে অস্ত্র চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব পথের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কক্সবাজার–টেকনাফ, বান্দরবান, যশোর–বেনাপোল, সাতক্ষীরার বিভিন্ন পয়েন্ট, সিলেট–তামাবিল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া–আখাউড়া সীমান্ত। এসব স্থানে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি যানবাহন তল্লাশি, নৌ–সীমান্তে টহল এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, এসব এলাকায় স্থানীয় দালাল ও আন্তর্জাতিক পাচারচক্র মিলে অস্ত্র আনার চেষ্টা করছে এবং নির্বাচনের সময় সহিংসতা উসকে দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব চক্র সক্রিয় হতে পারে।
এদিকে ২০২৪ সালের বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় লুন্ঠিত ও নিখোঁজ হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হারিয়ে যাওয়া সেই অস্ত্রগুলোও নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ভীতি সৃষ্টির প্রচেষ্টা ও আধিপত্য বিস্তারের কাজে ব্যবহার হতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে ছোটখাটো সংঘর্ষে অস্ত্র প্রদর্শন এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা উদ্বেগকে আরও ঘনীভূত করছে।
দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন সহিংসতার পথ বেছে নিতে না পারে, সে জন্য তারা বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরসহ দেশের সব প্রবেশ–পথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাচলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের আগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে, যাতে অবৈধ অস্ত্র বহন বা ব্যবহারকারীদের আগেই শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে ভোটারদের অংশগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কাও বাড়তে পারে। তারা মনে করেন, শুধুমাত্র সীমান্তে নজরদারি বাড়ালেই হবে না—বরং অভ্যন্তরেও নজরদারি, গোয়েন্দা সমন্বয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
সবশেষে সরকার ও নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষই নিশ্চিত করেছে যে নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার বা সহিংসতার সুযোগ দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে আছে, এবং নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথে অবৈধ অস্ত্র প্রবাহ বাড়ছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা গত কয়েক মাসের তুলনায় দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে, যা নির্বাচনের পরিবেশকে ঘিরে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে সংগঠিত চক্রগুলো অস্ত্র পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে ধারণা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, র্যাব এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা সীমান্ত এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়িয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেন. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে সীমান্ত পথে কিছু অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে, তবে নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিদিনই অভিযান চালিয়ে এসব জব্দ করছে। তাঁর ভাষ্য—“দুই-চারটা অস্ত্র যে ঢুকছে না তা বলা যাবে না, কিন্তু সেগুলো প্রতিদিনই ধরা পড়ছে।” সরকারি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বিদেশি তৈরি পিস্তল, রিভলভার, শটগান ও সাবমেশিনগান, যেগুলোর বেশিরভাগই পাচারকৃত।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, সীমান্তের অন্তত ছয় থেকে সাতটি রুটে অস্ত্র চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব পথের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কক্সবাজার–টেকনাফ, বান্দরবান, যশোর–বেনাপোল, সাতক্ষীরার বিভিন্ন পয়েন্ট, সিলেট–তামাবিল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া–আখাউড়া সীমান্ত। এসব স্থানে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি যানবাহন তল্লাশি, নৌ–সীমান্তে টহল এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, এসব এলাকায় স্থানীয় দালাল ও আন্তর্জাতিক পাচারচক্র মিলে অস্ত্র আনার চেষ্টা করছে এবং নির্বাচনের সময় সহিংসতা উসকে দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব চক্র সক্রিয় হতে পারে।
এদিকে ২০২৪ সালের বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় লুন্ঠিত ও নিখোঁজ হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হারিয়ে যাওয়া সেই অস্ত্রগুলোও নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ভীতি সৃষ্টির প্রচেষ্টা ও আধিপত্য বিস্তারের কাজে ব্যবহার হতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে ছোটখাটো সংঘর্ষে অস্ত্র প্রদর্শন এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা উদ্বেগকে আরও ঘনীভূত করছে।
দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন সহিংসতার পথ বেছে নিতে না পারে, সে জন্য তারা বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরসহ দেশের সব প্রবেশ–পথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাচলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের আগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে, যাতে অবৈধ অস্ত্র বহন বা ব্যবহারকারীদের আগেই শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে ভোটারদের অংশগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কাও বাড়তে পারে। তারা মনে করেন, শুধুমাত্র সীমান্তে নজরদারি বাড়ালেই হবে না—বরং অভ্যন্তরেও নজরদারি, গোয়েন্দা সমন্বয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
সবশেষে সরকার ও নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষই নিশ্চিত করেছে যে নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার বা সহিংসতার সুযোগ দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে আছে, এবং নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন