ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হাদি হত্যা: মেঘালয়ে ফয়সালের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

হাদি হত্যা: মেঘালয়ে ফয়সালের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান যে দেশে নেই, সে বিষয়ে অবশেষে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এক সপ্তাহ আগেও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সন্দেহ থাকলেও এখন তারা নিশ্চিত—ফয়সাল ভারতে পালিয়ে গেছেন।

রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ফয়সাল করিম ভারতের মেঘালয়ে অবস্থান করছে এবং মেঘালয় পুলিশ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ আশা করছে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। তবে হত্যার পেছনের মূল উদ্দেশ্য বা ‘মোটিভ’ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, মূল সন্দেহভাজন এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় মোটিভ সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে তিনি সশস্ত্র হামলার শিকার হন। চলন্ত একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে রাতেই তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাকে সহায়তাকারী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখকে শনাক্ত করা হয়। যদিও তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গেছে—এমন গুঞ্জন ছিল, তবে এতদিন তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

রোববারের সংবাদ সম্মেলনে এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হওয়ায় আসামিদের শনাক্ত হওয়ার আগেই তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তার বর্ণনায়, ফয়সাল ও আলমগীর প্রথমে ঢাকা থেকে সিএনজিতে আমিনবাজারে যান। সেখান থেকে মানিকগঞ্জের কালামপুর হয়ে প্রাইভেটকারে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে পৌঁছান। সেখানে ফিলিপ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তারা সীমান্ত পার হন এবং পুত্তি নামের একজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সামি নামের এক ট্যাক্সি চালক তাদের মেঘালয়ের তুরা শহরে পৌঁছে দেয়।

পুলিশ জানায়, ইনফরমাল চ্যানেলে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, পুত্তি ও সামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হাদি হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন—ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির এবং ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম।

তদন্তে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, একটি মোটরসাইকেল, ভুয়া নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


হাদি হত্যা: মেঘালয়ে ফয়সালের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান যে দেশে নেই, সে বিষয়ে অবশেষে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এক সপ্তাহ আগেও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সন্দেহ থাকলেও এখন তারা নিশ্চিত—ফয়সাল ভারতে পালিয়ে গেছেন।


রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ফয়সাল করিম ভারতের মেঘালয়ে অবস্থান করছে এবং মেঘালয় পুলিশ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ আশা করছে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। তবে হত্যার পেছনের মূল উদ্দেশ্য বা ‘মোটিভ’ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, মূল সন্দেহভাজন এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় মোটিভ সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।


জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে তিনি সশস্ত্র হামলার শিকার হন। চলন্ত একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করে।


গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে রাতেই তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।


হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়।


পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাকে সহায়তাকারী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখকে শনাক্ত করা হয়। যদিও তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গেছে—এমন গুঞ্জন ছিল, তবে এতদিন তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।


রোববারের সংবাদ সম্মেলনে এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হওয়ায় আসামিদের শনাক্ত হওয়ার আগেই তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তার বর্ণনায়, ফয়সাল ও আলমগীর প্রথমে ঢাকা থেকে সিএনজিতে আমিনবাজারে যান। সেখান থেকে মানিকগঞ্জের কালামপুর হয়ে প্রাইভেটকারে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে পৌঁছান। সেখানে ফিলিপ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তারা সীমান্ত পার হন এবং পুত্তি নামের একজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সামি নামের এক ট্যাক্সি চালক তাদের মেঘালয়ের তুরা শহরে পৌঁছে দেয়।


পুলিশ জানায়, ইনফরমাল চ্যানেলে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, পুত্তি ও সামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


হাদি হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন—ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির এবং ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম।


তদন্তে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, একটি মোটরসাইকেল, ভুয়া নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ