বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জগামী একটি বরযাত্রীবাহী নৌকা ঘন কুয়াশার কারণে দিকভ্রান্ত হয়ে যমুনা নদীর মাঝপথে রাতভর আটকে ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় যাত্রা শুরু করা নৌকাটিতে নবদম্পতি, তাঁদের স্বজনসহ মোট ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। ঘন কুয়াশার প্রভাবে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে গেলে নৌকার মাঝি দিক নির্ধারণ করতে না পেরে নদীর মাঝেই নৌকাটি থামিয়ে দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সারিয়াকান্দির কলাতলী ঘাট থেকে বরযাত্রীরা মাদারগঞ্জে ফিরছিলেন। রাত ৮টার পর থেকেই যমুনার বিস্তীর্ণ এলাকায় কুয়াশা দ্রুত জমতে শুরু করে। নদীর স্রোত তীব্র থাকায় নৌকাটির অবস্থান শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে নৌকাটি রাতভর মাঝনদীতেই আটকে থাকতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ সময় নদীর মাঝে আটকে থাকার কারণে যাত্রীরা তীব্র শীত ও আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন।
নৌকায় থাকা যাত্রীরা জানান, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভীত হয়ে পড়েন। মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে আসায় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় যাত্রীরা একাধিকবার ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। তবে ঘন কুয়াশার কারণে উদ্ধারকারী দলের নদীতে নামা ও নৌকার অবস্থান চিহ্নিত করার প্রচেষ্টায় বিলম্ব ঘটে।
পরদিন শনিবার সকাল পর্যন্ত কুয়াশা ঘন থাকায় উদ্ধার অভিযান কার্যকরভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কমে এলে স্থানীয় নৌযানচালক ও নদীপারের লোকজনের সহায়তায় নৌকার আনুমানিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। শেষে দুপুরের দিকে বরযাত্রীদের নিরাপদে তীরে আনা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় কেউ আহত না হলেও রাতভর নদীর মাঝখানে আটকে থাকায় অনেকেই অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
প্রতিবছর শীত মৌসুমে যমুনাসহ দেশের বড় নদীগুলোতে কুয়াশা ঘন হওয়ায় নৌযান চলাচলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের বেলায় নদীপথে যাতায়াত কমানো, আধুনিক নেভিগেশন যন্ত্র ব্যবহার এবং নৌযানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করলে এমন দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জগামী একটি বরযাত্রীবাহী নৌকা ঘন কুয়াশার কারণে দিকভ্রান্ত হয়ে যমুনা নদীর মাঝপথে রাতভর আটকে ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় যাত্রা শুরু করা নৌকাটিতে নবদম্পতি, তাঁদের স্বজনসহ মোট ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। ঘন কুয়াশার প্রভাবে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে গেলে নৌকার মাঝি দিক নির্ধারণ করতে না পেরে নদীর মাঝেই নৌকাটি থামিয়ে দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সারিয়াকান্দির কলাতলী ঘাট থেকে বরযাত্রীরা মাদারগঞ্জে ফিরছিলেন। রাত ৮টার পর থেকেই যমুনার বিস্তীর্ণ এলাকায় কুয়াশা দ্রুত জমতে শুরু করে। নদীর স্রোত তীব্র থাকায় নৌকাটির অবস্থান শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে নৌকাটি রাতভর মাঝনদীতেই আটকে থাকতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ সময় নদীর মাঝে আটকে থাকার কারণে যাত্রীরা তীব্র শীত ও আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন।
নৌকায় থাকা যাত্রীরা জানান, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভীত হয়ে পড়েন। মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে আসায় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় যাত্রীরা একাধিকবার ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। তবে ঘন কুয়াশার কারণে উদ্ধারকারী দলের নদীতে নামা ও নৌকার অবস্থান চিহ্নিত করার প্রচেষ্টায় বিলম্ব ঘটে।
পরদিন শনিবার সকাল পর্যন্ত কুয়াশা ঘন থাকায় উদ্ধার অভিযান কার্যকরভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কমে এলে স্থানীয় নৌযানচালক ও নদীপারের লোকজনের সহায়তায় নৌকার আনুমানিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। শেষে দুপুরের দিকে বরযাত্রীদের নিরাপদে তীরে আনা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় কেউ আহত না হলেও রাতভর নদীর মাঝখানে আটকে থাকায় অনেকেই অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
প্রতিবছর শীত মৌসুমে যমুনাসহ দেশের বড় নদীগুলোতে কুয়াশা ঘন হওয়ায় নৌযান চলাচলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের বেলায় নদীপথে যাতায়াত কমানো, আধুনিক নেভিগেশন যন্ত্র ব্যবহার এবং নৌযানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করলে এমন দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন