ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

গঙ্গার জলে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান


বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গঙ্গার জলে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি গঙ্গার জলের বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আহ্বান জানান। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতি, জল বণ্টন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধ হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া আরও বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে গঙ্গার জলের ন্যায্য ও ন্যায়সংগত হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।  সাক্ষাতের শুরুতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। পরে তারা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। বৈঠকে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং এই সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উভয় দেশের জনগণের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গঙ্গার পানিতে ন্যায্য হিস্যা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ায় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে সহযোগিতার ওপর ঢাকার প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি প্রবাহের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন বাংলাদেশের কাছে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান ভারতীয় হাইকমিশনারের নেতৃত্বে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে। জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের অভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক যোগাযোগ ও জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি ভারতে বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের জনপ্রশাসনের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। দুই দেশের জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন। এদিকে সোমবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশনার পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গেও সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করবে। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও অভিন্ন স্বার্থের বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও দুই দেশের জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গঙ্গার জলে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি গঙ্গার জলের বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আহ্বান জানান। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতি, জল বণ্টন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধ হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া আরও বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে গঙ্গার জলের ন্যায্য ও ন্যায়সংগত হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।  সাক্ষাতের শুরুতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। পরে তারা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। বৈঠকে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং এই সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উভয় দেশের জনগণের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গঙ্গার পানিতে ন্যায্য হিস্যা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ায় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে সহযোগিতার ওপর ঢাকার প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি প্রবাহের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন বাংলাদেশের কাছে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান ভারতীয় হাইকমিশনারের নেতৃত্বে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে। জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের অভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক যোগাযোগ ও জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি ভারতে বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের জনপ্রশাসনের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। দুই দেশের জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন। এদিকে সোমবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশনার পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গেও সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করবে। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও অভিন্ন স্বার্থের বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও দুই দেশের জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ