ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দীঘিনালায় রাতের আঁধারে পাহাড় কাটার অভিযোগ, হুমকিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য



দীঘিনালায় রাতের আঁধারে পাহাড় কাটার অভিযোগ, হুমকিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় যেন চলছে পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতা। দিনের আলো ফুরিয়ে রাত নামলেই সক্রিয় হয়ে উঠছে কথিত পাহাড়খেকো চক্র। বড় বড় পাহাড়ে বসানো হচ্ছে এস্কেভেটর মেশিন। রাতের নীরবতা ভেঙে চলছে পাহাড় কাটার কাজ। আর এতে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই দিনের পর দিন এমন কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মাসেই দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও বসতবাড়ি কিংবা স্থাপনা নির্মাণের জন্য, আবার কোথাও মাটি সরিয়ে অন্যত্র নেওয়ার উদ্দেশ্যে কাটা হচ্ছে পাহাড়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী এস্কেভেটর মেশিন।


অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় পাহাড় কাটার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও নজরদারি বাড়লে রাতের আঁধারকে বেছে নেয় সংশ্লিষ্টরা। গভীর রাতে এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে একদিকে পাহাড়ের স্বাভাবিক কাঠামো নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে আশপাশের বসতি ও পরিবেশ।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগেও দিনের বেলায় একটি এলাকায় প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে একই এলাকায় কিংবা আশপাশে রাতের আঁধারে আবারও পাহাড় কাটার তৎপরতা চলছে বলে দাবি তাদের।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসনের কাজ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষা করা। কিন্তু দিনের পর দিন পাহাড় কাটা চললেও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কার কাছে যাবে? সরকার পরিবেশ রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, অথচ এখানে উল্টো পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে।


স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, পাহাড় কেবল মাটি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বন, গাছপালা, বন্যপ্রাণী ও একটি এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে বৃষ্টির সময় মাটি ধস, আকস্মিক ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ধ্বংস হতে পারে পাহাড়ি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য।


তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় পাহাড় কাটার মতো কর্মকাণ্ড চললে সাধারণ মানুষের পক্ষে বাধা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি না থাকলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এদিকে পাহাড় কাটার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযুক্ত করা হবে।


স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি রাতের বেলায় এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, নজরদারি এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দীঘিনালায় রাতের আঁধারে পাহাড় কাটার অভিযোগ, হুমকিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় যেন চলছে পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতা। দিনের আলো ফুরিয়ে রাত নামলেই সক্রিয় হয়ে উঠছে কথিত পাহাড়খেকো চক্র। বড় বড় পাহাড়ে বসানো হচ্ছে এস্কেভেটর মেশিন। রাতের নীরবতা ভেঙে চলছে পাহাড় কাটার কাজ। আর এতে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই দিনের পর দিন এমন কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মাসেই দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও বসতবাড়ি কিংবা স্থাপনা নির্মাণের জন্য, আবার কোথাও মাটি সরিয়ে অন্যত্র নেওয়ার উদ্দেশ্যে কাটা হচ্ছে পাহাড়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী এস্কেভেটর মেশিন।


অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় পাহাড় কাটার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও নজরদারি বাড়লে রাতের আঁধারকে বেছে নেয় সংশ্লিষ্টরা। গভীর রাতে এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে একদিকে পাহাড়ের স্বাভাবিক কাঠামো নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে আশপাশের বসতি ও পরিবেশ।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগেও দিনের বেলায় একটি এলাকায় প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে একই এলাকায় কিংবা আশপাশে রাতের আঁধারে আবারও পাহাড় কাটার তৎপরতা চলছে বলে দাবি তাদের।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসনের কাজ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষা করা। কিন্তু দিনের পর দিন পাহাড় কাটা চললেও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কার কাছে যাবে? সরকার পরিবেশ রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, অথচ এখানে উল্টো পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে।


স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, পাহাড় কেবল মাটি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বন, গাছপালা, বন্যপ্রাণী ও একটি এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে বৃষ্টির সময় মাটি ধস, আকস্মিক ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ধ্বংস হতে পারে পাহাড়ি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য।


তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় পাহাড় কাটার মতো কর্মকাণ্ড চললে সাধারণ মানুষের পক্ষে বাধা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি না থাকলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এদিকে পাহাড় কাটার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযুক্ত করা হবে।


স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি রাতের বেলায় এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, নজরদারি এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ