সরকারি সংস্থা ও সার ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নতুন চালানও আসছে। ফলে রবি-বোরো মৌসুমে বড় ধরনের সার সংকটের আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামের গুজবে বিভ্রান্ত না হতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাসায়নিক সারের মোট চাহিদা আনুমানিক ৫৮ লাখ টন। তবে কৃষি উৎপাদনের ধরন ও মৌসুমভেদে বছরে সারের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৬৮ লাখ টনে পৌঁছায়। এর মধ্যে শুধু ইউরিয়া সারের চাহিদা প্রায় ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন। চাহিদার দিক থেকে ইউরিয়ার পর রয়েছে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি। দেশে বছরে ডিএপির চাহিদা ১৫ লাখ টনের বেশি, এমওপি প্রায় ১০ লাখ টন এবং টিএসপির চাহিদা প্রায় ৭ লাখ থেকে ৭ লাখ ৬৫ হাজার টন।
দেশের সরকারি সার কারখানাগুলোর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩৭ লাখ টন হলেও গ্যাস সংকটের কারণে প্রকৃত উৎপাদন অনেক কম। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ইউরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সার উৎপাদন প্রায় ১১ লাখ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে দেশের মোট রাসায়নিক সারের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে রবি ও বোরো মৌসুমে সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এ সময় সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অক্টোবরের শেষ দিক থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে সারের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এ সময় শীতকালীন সবজি, আলু, পেঁয়াজ ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি বোরো ধানের আবাদ শুরু হয়। বছরের মোট সারের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ এ সময়েই প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের প্রয়োজন মেটাতে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং আরও সার নিয়ে বেশ কয়েকটি জাহাজ দেশের পথে রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার এবং সার ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সংগ্রহ করার আহ্বান জানান তিনি।
মোশাররফ হোসেনের ভাষ্য, পর্যাপ্ত মজুত ও চলমান সরবরাহের কারণে এ মৌসুমে সার নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। কৃষকরা সময়মতো প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করে চাষাবাদে মনোযোগ দিলে কৃষি উৎপাদনের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখা সম্ভব হবে।
গত সপ্তাহে ফরিদপুর সফরকালে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদও দেশে সারের সংকট নেই বলে জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বেশি দাম না দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে না—এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয় এবং সমপরিমাণ সারের নিরাপত্তা মজুত থাকে। ফলে সার সংকট হওয়ার সুযোগ নেই। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি বাজারে সার নেই বলে প্রচার করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির চেষ্টা করছেন। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমের চাহিদা বিবেচনায় নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে গতি বেড়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরেই সাতটি জাহাজে মোট আড়াই লাখ টন সার দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি, দেড় লাখ টন মিউরেট অব পটাশ বা এমওপি এবং ৬০ হাজার টন ট্রিপল সুপার ফসফেট বা টিএসপি রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মরক্কো থেকে আমদানি করা ৬০ হাজার টন টিএসপি নিয়ে দুটি জাহাজ সেপ্টেম্বরে দেশে পৌঁছানোর কথা। এর একটি ৮ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ১১ সেপ্টেম্বর পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই দেশ থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি নিয়ে আরও একটি জাহাজ ৮ সেপ্টেম্বর দেশের বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
রাশিয়া ও কানাডা থেকেও চলতি মাসে মোট দেড় লাখ টন এমওপি আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন করে দুটি লটে ৭০ হাজার টন এবং কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন করে দুটি লটে ৮০ হাজার টন এমওপি আসছে। কয়েকটি চালান ইতোমধ্যে দেশের পথে রয়েছে। বাকি চালানগুলোও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা।
শুধু সেপ্টেম্বর নয়, অক্টোবরেও সার আমদানির এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রস্তুতি রয়েছে। ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি নিয়ে আরও প্রায় ১০টি জাহাজ দেশে আসার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিএডিসির হিসাবে, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিক মৌসুমে ডিএপির চাহিদা ১১ লাখ ২৭ হাজার টন। এর বিপরীতে জাহাজে থাকা সারসহ আগামী জানুয়ারির মধ্যে আমদানি প্রক্রিয়াধীন ও আলোচনাধীন ডিএপির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টন।
একই সময়ে এমওপির চাহিদা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭২ হাজার টন। এর বিপরীতে আমদানি প্রক্রিয়াধীন ও আলোচনাধীন এমওপির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টন। টিএসপির চাহিদা ৫ লাখ ১৯ হাজার টন। এর বিপরীতে চূড়ান্ত আমদানি প্রক্রিয়ায় থাকা এবং সরকার-টু-সরকার বা জিটুজি পর্যায়ে আলোচনাধীন টিএসপির পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টন।
বিএডিসির সার আমদানির সঙ্গে যুক্ত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি নিয়ে ১০ থেকে ১২টি করে জাহাজ দেশে আসবে। সেপ্টেম্বরের চালানগুলো ইতোমধ্যে দেশের পথে রয়েছে। অক্টোবরের কয়েকটি চালানের লোডিং শেষ হয়েছে এবং অন্যগুলো লোডিং পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী চালানগুলোর জন্য দ্রুত ঋণপত্র বা এলসি খোলার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, বর্তমানে যে হারে সার আমদানি হচ্ছে, তা চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সরবরাহ ও মজুত আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় সার কারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ইউরিয়া উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন এই কৃষি অর্থনীতিবিদ। এজন্য আমদানি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তার মত।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও চলমান আমদানি কার্যক্রম অনুযায়ী, রবি-বোরোর পিক মৌসুমের আগে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় পরিসরে প্রস্তুতি চলছে। তবে কৃষকের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে এবং সময়মতো সার পৌঁছানো নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। আমদানি ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুতের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা গেলে আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব হবে।

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি সংস্থা ও সার ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নতুন চালানও আসছে। ফলে রবি-বোরো মৌসুমে বড় ধরনের সার সংকটের আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামের গুজবে বিভ্রান্ত না হতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাসায়নিক সারের মোট চাহিদা আনুমানিক ৫৮ লাখ টন। তবে কৃষি উৎপাদনের ধরন ও মৌসুমভেদে বছরে সারের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৬৮ লাখ টনে পৌঁছায়। এর মধ্যে শুধু ইউরিয়া সারের চাহিদা প্রায় ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন। চাহিদার দিক থেকে ইউরিয়ার পর রয়েছে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি। দেশে বছরে ডিএপির চাহিদা ১৫ লাখ টনের বেশি, এমওপি প্রায় ১০ লাখ টন এবং টিএসপির চাহিদা প্রায় ৭ লাখ থেকে ৭ লাখ ৬৫ হাজার টন।
দেশের সরকারি সার কারখানাগুলোর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩৭ লাখ টন হলেও গ্যাস সংকটের কারণে প্রকৃত উৎপাদন অনেক কম। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ইউরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সার উৎপাদন প্রায় ১১ লাখ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে দেশের মোট রাসায়নিক সারের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে রবি ও বোরো মৌসুমে সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এ সময় সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অক্টোবরের শেষ দিক থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে সারের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এ সময় শীতকালীন সবজি, আলু, পেঁয়াজ ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি বোরো ধানের আবাদ শুরু হয়। বছরের মোট সারের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ এ সময়েই প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের প্রয়োজন মেটাতে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং আরও সার নিয়ে বেশ কয়েকটি জাহাজ দেশের পথে রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার এবং সার ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সংগ্রহ করার আহ্বান জানান তিনি।
মোশাররফ হোসেনের ভাষ্য, পর্যাপ্ত মজুত ও চলমান সরবরাহের কারণে এ মৌসুমে সার নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। কৃষকরা সময়মতো প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করে চাষাবাদে মনোযোগ দিলে কৃষি উৎপাদনের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখা সম্ভব হবে।
গত সপ্তাহে ফরিদপুর সফরকালে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদও দেশে সারের সংকট নেই বলে জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বেশি দাম না দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে না—এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয় এবং সমপরিমাণ সারের নিরাপত্তা মজুত থাকে। ফলে সার সংকট হওয়ার সুযোগ নেই। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি বাজারে সার নেই বলে প্রচার করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির চেষ্টা করছেন। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমের চাহিদা বিবেচনায় নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে গতি বেড়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরেই সাতটি জাহাজে মোট আড়াই লাখ টন সার দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি, দেড় লাখ টন মিউরেট অব পটাশ বা এমওপি এবং ৬০ হাজার টন ট্রিপল সুপার ফসফেট বা টিএসপি রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মরক্কো থেকে আমদানি করা ৬০ হাজার টন টিএসপি নিয়ে দুটি জাহাজ সেপ্টেম্বরে দেশে পৌঁছানোর কথা। এর একটি ৮ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ১১ সেপ্টেম্বর পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই দেশ থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি নিয়ে আরও একটি জাহাজ ৮ সেপ্টেম্বর দেশের বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
রাশিয়া ও কানাডা থেকেও চলতি মাসে মোট দেড় লাখ টন এমওপি আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন করে দুটি লটে ৭০ হাজার টন এবং কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন করে দুটি লটে ৮০ হাজার টন এমওপি আসছে। কয়েকটি চালান ইতোমধ্যে দেশের পথে রয়েছে। বাকি চালানগুলোও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা।
শুধু সেপ্টেম্বর নয়, অক্টোবরেও সার আমদানির এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রস্তুতি রয়েছে। ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি নিয়ে আরও প্রায় ১০টি জাহাজ দেশে আসার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিএডিসির হিসাবে, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিক মৌসুমে ডিএপির চাহিদা ১১ লাখ ২৭ হাজার টন। এর বিপরীতে জাহাজে থাকা সারসহ আগামী জানুয়ারির মধ্যে আমদানি প্রক্রিয়াধীন ও আলোচনাধীন ডিএপির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টন।
একই সময়ে এমওপির চাহিদা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭২ হাজার টন। এর বিপরীতে আমদানি প্রক্রিয়াধীন ও আলোচনাধীন এমওপির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টন। টিএসপির চাহিদা ৫ লাখ ১৯ হাজার টন। এর বিপরীতে চূড়ান্ত আমদানি প্রক্রিয়ায় থাকা এবং সরকার-টু-সরকার বা জিটুজি পর্যায়ে আলোচনাধীন টিএসপির পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টন।
বিএডিসির সার আমদানির সঙ্গে যুক্ত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি নিয়ে ১০ থেকে ১২টি করে জাহাজ দেশে আসবে। সেপ্টেম্বরের চালানগুলো ইতোমধ্যে দেশের পথে রয়েছে। অক্টোবরের কয়েকটি চালানের লোডিং শেষ হয়েছে এবং অন্যগুলো লোডিং পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী চালানগুলোর জন্য দ্রুত ঋণপত্র বা এলসি খোলার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, বর্তমানে যে হারে সার আমদানি হচ্ছে, তা চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সরবরাহ ও মজুত আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় সার কারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ইউরিয়া উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন এই কৃষি অর্থনীতিবিদ। এজন্য আমদানি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তার মত।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও চলমান আমদানি কার্যক্রম অনুযায়ী, রবি-বোরোর পিক মৌসুমের আগে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় পরিসরে প্রস্তুতি চলছে। তবে কৃষকের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে এবং সময়মতো সার পৌঁছানো নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। আমদানি ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুতের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা গেলে আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন