গাড়ির জানালায় তখনো ঝুলছে শুভ পরিণয়ের ফুল। কনের হাতে তাজা মেহেদির রঙ আর চোখে নতুন জীবনের সহস্র স্বপ্ন। বরযাত্রীর গাড়িতে হালকা আনন্দের গুঞ্জন, জীবনসঙ্গিনীকে নিয়ে নিজ ঘরে ফেরার এক পরম তৃপ্তি। কিন্তু সেই রঙিন স্বপ্নে আচমকাই নেমে এলো এক বিভীষিকাময় আঁধার। আলোর আনন্দ মুহূর্তেই ফিকে হয়ে গেল আতঙ্কের চিৎকার আর কাচ ভাঙার শব্দে। চলচ্চিত্রের কাল্পনিক কোনো ড্রামা নয়, বাস্তব জীবনের এক নির্মম ও অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পথ আটকে ছিনিয়ে নেওয়া হলো সদ্য বিবাহিতা এক কনেকে!
রবিবার (৩০ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় ঘটে যায় এই নেক্কারজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বরের গাড়ি বহর আটকে ২০-২৫ জনের একদল সশস্ত্র যুবক ফিল্মি কায়দায় হামলা চালিয়ে কনেকে তুলে নিয়ে যায়।
পারবারিক সূত্রে জানা যায়, সিদলা ইউনিয়নের নয়াপড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের তরুণ আক্তার মিয়ার (২৮)। দিনভর বিয়ের নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাসিমুখেই কনেকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন আক্তার মিয়া। গাড়িটি যখন জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজারে পৌঁছায়, ঠিক তখনই চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে মিয়াদ মিয়ার নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের উগ্র একদল তরুণ গাড়ির পথ রোধ করে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা মাইক্রোবাসটিতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দমুখর বরযাত্রীর ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক ও হাহাকার। লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হামলাকারীরা গাড়ির দরজা খুলে বর ও বরযাত্রীদের জিম্মি করে নববধূ তামান্না আক্তারকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তামান্না আক্তার একজন কলেজপড়ুয়া ছাত্রী। অভিযুক্ত মিয়াদ দীর্ঘদিন ধরেই তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। রাস্তায় চলাচলের সময় কটু কথা বলা থেকে শুরু করে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া—সব কিছুতেই মিয়াদ ও তার সঙ্গীরা তরুণীর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। তরুণীর পরিবার শেষমেশ মেয়ের সুরক্ষার কথা ভেবে এবং সম্মান বাঁচাতে তড়িঘড়ি করে অন্য জায়গায় বিয়ের আয়োজন করে। কিন্তু তাতেও রক্ষা মেলেনি; সেই পুরনো শত্রুতা আর লালসার জের ধরেই বিয়ের রাতে এই দুঃসাহসিক অপহরণের ঘটনা ঘটায় মিয়াদ ও তার বাহিনী।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মিয়াদ নামের স্থানীয় এক বখাটে দীর্ঘদিন ধরেই ওই তরুণীকে ইভটিজিং করে আসছিল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বরের পরিবারের পক্ষ থেকে হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অপহৃত কনেকে উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। এমন অকল্পনীয় ও ন্যক্কারজনক ঘটনায় পুরো হোসেনপুর উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের সাজে কনে ছিনতাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে গেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
জিনারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এটি একটি চরম নেক্কারজনক ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এভাবে চললে নিরীহ পরিবারগুলো তাদের কন্যাসন্তানদের নিয়ে কীভাবে শান্তিতে বসবাস করবে? একটি পরিবার বা গোষ্ঠীর অপকর্মের জন্য পুরো ইউনিয়নের সুনাম ও সম্মান নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ সন্তানকে উসকে না দিয়ে সঠিক শাসনে বড় করা, যাতে সমাজ ব্যবস্থা সুন্দর থাকে।"
একটি পরিবারের রঙিন আনন্দকে এক রাতের ব্যবধানে কান্নার বিষাদে রূপ দিল কিছু বিপথগামী তরুণ। তামান্না আক্তারের মতো এক কলেজপড়ুয়া তরুণীর নিরাপত্তা আর সামাজিক মর্যাদা আজ বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড মিয়াদসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে অপহৃত কনেকে ফিরিয়ে আনবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে—এমনটাই এখন পুরো হোসেনপুরবাসীর আকুল প্রার্থনা।

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
গাড়ির জানালায় তখনো ঝুলছে শুভ পরিণয়ের ফুল। কনের হাতে তাজা মেহেদির রঙ আর চোখে নতুন জীবনের সহস্র স্বপ্ন। বরযাত্রীর গাড়িতে হালকা আনন্দের গুঞ্জন, জীবনসঙ্গিনীকে নিয়ে নিজ ঘরে ফেরার এক পরম তৃপ্তি। কিন্তু সেই রঙিন স্বপ্নে আচমকাই নেমে এলো এক বিভীষিকাময় আঁধার। আলোর আনন্দ মুহূর্তেই ফিকে হয়ে গেল আতঙ্কের চিৎকার আর কাচ ভাঙার শব্দে। চলচ্চিত্রের কাল্পনিক কোনো ড্রামা নয়, বাস্তব জীবনের এক নির্মম ও অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পথ আটকে ছিনিয়ে নেওয়া হলো সদ্য বিবাহিতা এক কনেকে!
রবিবার (৩০ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় ঘটে যায় এই নেক্কারজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বরের গাড়ি বহর আটকে ২০-২৫ জনের একদল সশস্ত্র যুবক ফিল্মি কায়দায় হামলা চালিয়ে কনেকে তুলে নিয়ে যায়।
পারবারিক সূত্রে জানা যায়, সিদলা ইউনিয়নের নয়াপড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের তরুণ আক্তার মিয়ার (২৮)। দিনভর বিয়ের নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাসিমুখেই কনেকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন আক্তার মিয়া। গাড়িটি যখন জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজারে পৌঁছায়, ঠিক তখনই চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে মিয়াদ মিয়ার নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের উগ্র একদল তরুণ গাড়ির পথ রোধ করে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা মাইক্রোবাসটিতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দমুখর বরযাত্রীর ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক ও হাহাকার। লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হামলাকারীরা গাড়ির দরজা খুলে বর ও বরযাত্রীদের জিম্মি করে নববধূ তামান্না আক্তারকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তামান্না আক্তার একজন কলেজপড়ুয়া ছাত্রী। অভিযুক্ত মিয়াদ দীর্ঘদিন ধরেই তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। রাস্তায় চলাচলের সময় কটু কথা বলা থেকে শুরু করে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া—সব কিছুতেই মিয়াদ ও তার সঙ্গীরা তরুণীর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। তরুণীর পরিবার শেষমেশ মেয়ের সুরক্ষার কথা ভেবে এবং সম্মান বাঁচাতে তড়িঘড়ি করে অন্য জায়গায় বিয়ের আয়োজন করে। কিন্তু তাতেও রক্ষা মেলেনি; সেই পুরনো শত্রুতা আর লালসার জের ধরেই বিয়ের রাতে এই দুঃসাহসিক অপহরণের ঘটনা ঘটায় মিয়াদ ও তার বাহিনী।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মিয়াদ নামের স্থানীয় এক বখাটে দীর্ঘদিন ধরেই ওই তরুণীকে ইভটিজিং করে আসছিল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বরের পরিবারের পক্ষ থেকে হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অপহৃত কনেকে উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। এমন অকল্পনীয় ও ন্যক্কারজনক ঘটনায় পুরো হোসেনপুর উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের সাজে কনে ছিনতাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে গেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
জিনারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এটি একটি চরম নেক্কারজনক ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এভাবে চললে নিরীহ পরিবারগুলো তাদের কন্যাসন্তানদের নিয়ে কীভাবে শান্তিতে বসবাস করবে? একটি পরিবার বা গোষ্ঠীর অপকর্মের জন্য পুরো ইউনিয়নের সুনাম ও সম্মান নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ সন্তানকে উসকে না দিয়ে সঠিক শাসনে বড় করা, যাতে সমাজ ব্যবস্থা সুন্দর থাকে।"
একটি পরিবারের রঙিন আনন্দকে এক রাতের ব্যবধানে কান্নার বিষাদে রূপ দিল কিছু বিপথগামী তরুণ। তামান্না আক্তারের মতো এক কলেজপড়ুয়া তরুণীর নিরাপত্তা আর সামাজিক মর্যাদা আজ বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড মিয়াদসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে অপহৃত কনেকে ফিরিয়ে আনবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে—এমনটাই এখন পুরো হোসেনপুরবাসীর আকুল প্রার্থনা।

আপনার মতামত লিখুন