ঢাকা    মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কটিয়াদীতে কাভার্ডভ্যান-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, একই পরিবারের ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, আহত ৪


সৈয়দ মইনুল হোসেন
সৈয়দ মইনুল হোসেন
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

কটিয়াদীতে কাভার্ডভ্যান-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, একই পরিবারের ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, আহত ৪
কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত, আহত ৪।

স্বজনদের সাথে আনন্দের রেশ নিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা হওয়া একটি পরিবারের সব আলো এক মুহূর্তেই নিভে গেল সড়ক পথের নির্মম বলি হয়ে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পাঞ্জা লড়ছেন।রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের রিলাক্স রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন তেভাগা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মিলন মিয়া (৪০), হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জ উপজেলার কাকালচর এলাকার বদিউল আলমের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার (৪৫) এবং বদিউল আলমের আট বছর বয়সী অবুঝ নাতনি জারামনি। ​দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন—বদিউল আলম (৫০), তাঁর নাতি আতিকুল ইসলাম (৮), নাতনি প্রিয়া আক্তার (২২) এবং মেয়ে বর্ণা বেগম (৩০)।


স্থনীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আহত বদিউল আলম তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলায় অবস্থিত মেয়ের বাড়ি বেড়ানো শেষে নিজ বাড়ি হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন। তারা একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিএনজিটি কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের তেভাগা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ঘাতক কাভার্ডভ্যানের সাথে মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিটি মুহূর্তে দুমড়েমুচড়ে যায়। বিকট শব্দে আশপাশের লোকাজন ছুটে এসে দেখেন রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে আছেন যাত্রীরা। ঘটনাস্থলেই মারা যান বর্ণা বেগমের স্বামী মিলন মিয়া (৪০)। দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া সিএনজি থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন। সংকটজনক অবস্থায় আহতদের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক রাবেয়া আক্তার ও শিশু জারামনিকে মৃত ঘোষণা করেন।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে তখন নেমে আসে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। একই পরিবারের তিনটি তাজা প্রাণ চোখের সামনে নিভে যাওয়ার দৃশ্য দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কটিয়াদী হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দুর্ঘটনাকবলিত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করে। ​দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবিনূর রহমান জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে আমরা একজনের মরদেহ উদ্ধার করি এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজন মারা যান। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সড়ক পরিবহন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।"

একটি নিমেষের অসাবধানতা কিংবা বেপরোয়া গতি আবারও কেড়ে নিল তিনটি তাজা প্রাণ, নিঃস্ব করে দিল একটি পুরো পরিবারকে। কটিয়াদীর তেভাগা এলাকার এই সড়ক দুর্ঘটনা যেন আবারও মনে করিয়ে দিল আমাদের সড়কগুলোর নিত্যদিনের বিপজ্জনক বাস্তবতার কথা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কটিয়াদীতে কাভার্ডভ্যান-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, একই পরিবারের ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, আহত ৪

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image


স্বজনদের সাথে আনন্দের রেশ নিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা হওয়া একটি পরিবারের সব আলো এক মুহূর্তেই নিভে গেল সড়ক পথের নির্মম বলি হয়ে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পাঞ্জা লড়ছেন।রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের রিলাক্স রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন তেভাগা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন—ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মিলন মিয়া (৪০), হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জ উপজেলার কাকালচর এলাকার বদিউল আলমের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার (৪৫) এবং বদিউল আলমের আট বছর বয়সী অবুঝ নাতনি জারামনি। ​দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন—বদিউল আলম (৫০), তাঁর নাতি আতিকুল ইসলাম (৮), নাতনি প্রিয়া আক্তার (২২) এবং মেয়ে বর্ণা বেগম (৩০)।


স্থনীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আহত বদিউল আলম তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলায় অবস্থিত মেয়ের বাড়ি বেড়ানো শেষে নিজ বাড়ি হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন। তারা একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিএনজিটি কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের তেভাগা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ঘাতক কাভার্ডভ্যানের সাথে মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিটি মুহূর্তে দুমড়েমুচড়ে যায়। বিকট শব্দে আশপাশের লোকাজন ছুটে এসে দেখেন রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে আছেন যাত্রীরা। ঘটনাস্থলেই মারা যান বর্ণা বেগমের স্বামী মিলন মিয়া (৪০)। দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া সিএনজি থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন। সংকটজনক অবস্থায় আহতদের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক রাবেয়া আক্তার ও শিশু জারামনিকে মৃত ঘোষণা করেন।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে তখন নেমে আসে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। একই পরিবারের তিনটি তাজা প্রাণ চোখের সামনে নিভে যাওয়ার দৃশ্য দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।


দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কটিয়াদী হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দুর্ঘটনাকবলিত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করে। ​দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবিনূর রহমান জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে আমরা একজনের মরদেহ উদ্ধার করি এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজন মারা যান। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সড়ক পরিবহন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।"

একটি নিমেষের অসাবধানতা কিংবা বেপরোয়া গতি আবারও কেড়ে নিল তিনটি তাজা প্রাণ, নিঃস্ব করে দিল একটি পুরো পরিবারকে। কটিয়াদীর তেভাগা এলাকার এই সড়ক দুর্ঘটনা যেন আবারও মনে করিয়ে দিল আমাদের সড়কগুলোর নিত্যদিনের বিপজ্জনক বাস্তবতার কথা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ