পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য নির্ধারিত টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে এই প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের জন্য কম্পিউটার, প্রিন্টার, আইপিএস ও আসবাবপত্র ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কল্যাণে বরাদ্দকৃত অর্থ এভাবে সরকারি দপ্তর সাজানোর কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেবীগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কর্মসূচির আওতায় মোট ৯৭টি টিআর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯১৪ টাকা। তবে বিস্ময়করভাবে এই তালিকার একটি প্রকল্পে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে খোদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের দাপ্তরিক সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র কেনার জন্য। গত ৩০ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ শাখা থেকে এই প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০২১ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, টিআর প্রকল্পের অর্থ কেবলমাত্র গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনহিতকর কাজে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট। সরকারি কোনো দপ্তরের জন্য দাপ্তরিক সামগ্রী কেনাকাটায় এই খাতের অর্থ ব্যয় করার কোনো আইনি বিধান নেই। নিয়ম অনুযায়ী, অফিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে রাজস্ব খাত বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিজস্ব বরাদ্দ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এই অনিয়মের বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) দেবীগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব ও সাংবাদিক নাজমুস সাকিব মুন কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান যে, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন প্রকল্প অনুমোদনের কোনো আইনি সুযোগ নেই। আজ কম্পিউটার বা প্রিন্টার কেনার নাম করে অনিয়ম শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অফিসের সাজসজ্জার কাজেও বিশেষ বিবেচনায় প্রকল্প নেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। তিনি অবিলম্বে এই বিতর্কিত প্রকল্পটি বাতিল করার জোর দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালিফ মন্ডল জানান যে, বরাদ্দকৃত অর্থ এখনো ব্যয় করা হয়নি। অফিসে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি সরেজমিনে দেখার কথা বলেন। অন্যদিকে, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ নির্দেশিকা উপেক্ষা করে কেন দাপ্তরিক সরঞ্জাম কেনায় এই বরাদ্দ দেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান যে, যদিও এটি প্রদানের সাধারণ কোনো নিয়ম নেই, তবে কমিটির বিশেষ বিবেচনায় প্রয়োজন মনে করলে তা প্রদান করা সম্ভব।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য নির্ধারিত টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে এই প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের জন্য কম্পিউটার, প্রিন্টার, আইপিএস ও আসবাবপত্র ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কল্যাণে বরাদ্দকৃত অর্থ এভাবে সরকারি দপ্তর সাজানোর কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেবীগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কর্মসূচির আওতায় মোট ৯৭টি টিআর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯১৪ টাকা। তবে বিস্ময়করভাবে এই তালিকার একটি প্রকল্পে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে খোদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের দাপ্তরিক সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র কেনার জন্য। গত ৩০ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ শাখা থেকে এই প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০২১ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, টিআর প্রকল্পের অর্থ কেবলমাত্র গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনহিতকর কাজে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট। সরকারি কোনো দপ্তরের জন্য দাপ্তরিক সামগ্রী কেনাকাটায় এই খাতের অর্থ ব্যয় করার কোনো আইনি বিধান নেই। নিয়ম অনুযায়ী, অফিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে রাজস্ব খাত বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিজস্ব বরাদ্দ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এই অনিয়মের বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) দেবীগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব ও সাংবাদিক নাজমুস সাকিব মুন কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান যে, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন প্রকল্প অনুমোদনের কোনো আইনি সুযোগ নেই। আজ কম্পিউটার বা প্রিন্টার কেনার নাম করে অনিয়ম শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অফিসের সাজসজ্জার কাজেও বিশেষ বিবেচনায় প্রকল্প নেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। তিনি অবিলম্বে এই বিতর্কিত প্রকল্পটি বাতিল করার জোর দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালিফ মন্ডল জানান যে, বরাদ্দকৃত অর্থ এখনো ব্যয় করা হয়নি। অফিসে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি সরেজমিনে দেখার কথা বলেন। অন্যদিকে, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ নির্দেশিকা উপেক্ষা করে কেন দাপ্তরিক সরঞ্জাম কেনায় এই বরাদ্দ দেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান যে, যদিও এটি প্রদানের সাধারণ কোনো নিয়ম নেই, তবে কমিটির বিশেষ বিবেচনায় প্রয়োজন মনে করলে তা প্রদান করা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন