হাদি হত্যার নেপথ্যে শুটার ফয়সালের ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নেপথ্যে ছিল ৭ দিনের নিখুঁত ছক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল একটি পেশাদার ‘হিট স্কোয়াড’-এর সুপরিকল্পিত মিশন। গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এই হত্যার মূল কারিগর শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদ বিদেশ থেকে ফিরে একটি বিশেষ শুটার টিম গঠন করে এবং মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। তদন্ত অনুযায়ী, হত্যার লক্ষ্যবস্তু হাদির কাছাকাছি পৌঁছাতে ফয়সাল প্রথমে বন্ধুত্বের ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের কার্যক্রমে নিজেকে যুক্ত করে আস্থা অর্জন করেন।
গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর রাতে ফয়সাল ও তার সহযোগী কবির প্রথমবার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে হাদির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি হাদির সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন, যা ছিল মূলত তার ছদ্মবেশী মিশনের প্রথম ধাপ। এরপর ৯ ডিসেম্বর তিনি হাদির নির্বাচনী ও প্রচারণামূলক টিমে অন্তর্ভুক্ত হন এবং ১০ ডিসেম্বর সেগুনবাগিচায় হাদির প্রচারণায় সরাসরি অংশ নেন। গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সময়ের মধ্যেই ফয়সাল হাদির গতিবিধি ও নিরাপত্তার প্রতিটি দিক রেকি করেন এবং নরসিংদী, সাভার ও মানিকগঞ্জ এলাকায় যাতায়াতের মাধ্যমে পালানোর পথও চূড়ান্ত করে ফেলেন।
হামলার আগের দিন অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর ফয়সাল আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন এবং পরদিন ভোরে হেমায়েতপুরের একটি রিসোর্টে অবস্থান করেন। সেখানে তার বোন ও বান্ধবীর সামনে হাদির একটি ভিডিও দেখিয়ে তিনি দম্ভোক্তি করেছিলেন যে, তিনি সরাসরি হাদির মাথায় গুলি করবেন। ঘটনার দিন দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে হাদি যখন মতিঝিলের উদ্দেশ্যে রওনা হন, ফয়সাল মোটরসাইকেলে তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডের নির্জন স্থানে সুযোগ বুঝে অত্যন্ত কাছ থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি চালান ফয়সাল।
গুলিবিদ্ধ হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে দাফন করা হয়। গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছেন, হামলার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফয়সাল দেশত্যাগ করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তার অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
হাদি হত্যার নেপথ্যে শুটার ফয়সালের ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নেপথ্যে ছিল ৭ দিনের নিখুঁত ছক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল একটি পেশাদার ‘হিট স্কোয়াড’-এর সুপরিকল্পিত মিশন। গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এই হত্যার মূল কারিগর শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদ বিদেশ থেকে ফিরে একটি বিশেষ শুটার টিম গঠন করে এবং মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। তদন্ত অনুযায়ী, হত্যার লক্ষ্যবস্তু হাদির কাছাকাছি পৌঁছাতে ফয়সাল প্রথমে বন্ধুত্বের ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের কার্যক্রমে নিজেকে যুক্ত করে আস্থা অর্জন করেন।
গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর রাতে ফয়সাল ও তার সহযোগী কবির প্রথমবার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে হাদির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি হাদির সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন, যা ছিল মূলত তার ছদ্মবেশী মিশনের প্রথম ধাপ। এরপর ৯ ডিসেম্বর তিনি হাদির নির্বাচনী ও প্রচারণামূলক টিমে অন্তর্ভুক্ত হন এবং ১০ ডিসেম্বর সেগুনবাগিচায় হাদির প্রচারণায় সরাসরি অংশ নেন। গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সময়ের মধ্যেই ফয়সাল হাদির গতিবিধি ও নিরাপত্তার প্রতিটি দিক রেকি করেন এবং নরসিংদী, সাভার ও মানিকগঞ্জ এলাকায় যাতায়াতের মাধ্যমে পালানোর পথও চূড়ান্ত করে ফেলেন।
হামলার আগের দিন অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর ফয়সাল আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন এবং পরদিন ভোরে হেমায়েতপুরের একটি রিসোর্টে অবস্থান করেন। সেখানে তার বোন ও বান্ধবীর সামনে হাদির একটি ভিডিও দেখিয়ে তিনি দম্ভোক্তি করেছিলেন যে, তিনি সরাসরি হাদির মাথায় গুলি করবেন। ঘটনার দিন দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে হাদি যখন মতিঝিলের উদ্দেশ্যে রওনা হন, ফয়সাল মোটরসাইকেলে তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডের নির্জন স্থানে সুযোগ বুঝে অত্যন্ত কাছ থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি চালান ফয়সাল।
গুলিবিদ্ধ হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে দাফন করা হয়। গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছেন, হামলার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফয়সাল দেশত্যাগ করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তার অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আপনার মতামত লিখুন