নারায়ণগঞ্জ, ১৮ আগস্ট: দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি যোগাযোগ ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করতে দেশের ১২টি উপকূলীয় জেলার জন্য একটি করে মোট ১২টি উদ্ধারকারী স্পিডবোট হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গোল্ডেন ফাইবারগ্লাস লিমিটেডের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব স্পিডবোট সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের কম্পোনেন্ট-২ ও ৩-এর আওতায় জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে স্পিডবোটগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মি. সাইদা শিনিচি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রেজওয়ানুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক নূরজাহান খানম এবং জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। এ ছাড়া ১২টি উপকূলীয় জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্যোগের সময় শুধু খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা নয়, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চর ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জাইকার অর্থায়নে পাওয়া স্পিডবোটগুলোর একটি সম্প্রতি চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল। অতিবৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হলে সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় বোটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অনেক সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা আরও বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরকে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক চিহ্নিত করে তাদের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভূমিকম্পের পর মানুষকে নিরাপদে সমবেত করার জন্য ৪৪৫টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সরঞ্জামের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ধার সরঞ্জাম, হাসপাতাল ও হেলিকপ্টারের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।
বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রায় প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে। এসব দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। তাই তাদের সুরক্ষায় সরকারের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ায় বর্তমানে দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ভবিষ্যতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য জাইকা ও জাপান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ, ১৮ আগস্ট: দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি যোগাযোগ ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করতে দেশের ১২টি উপকূলীয় জেলার জন্য একটি করে মোট ১২টি উদ্ধারকারী স্পিডবোট হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গোল্ডেন ফাইবারগ্লাস লিমিটেডের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব স্পিডবোট সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের কম্পোনেন্ট-২ ও ৩-এর আওতায় জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে স্পিডবোটগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মি. সাইদা শিনিচি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রেজওয়ানুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক নূরজাহান খানম এবং জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। এ ছাড়া ১২টি উপকূলীয় জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্যোগের সময় শুধু খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা নয়, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চর ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জাইকার অর্থায়নে পাওয়া স্পিডবোটগুলোর একটি সম্প্রতি চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল। অতিবৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হলে সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় বোটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অনেক সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা আরও বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরকে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক চিহ্নিত করে তাদের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভূমিকম্পের পর মানুষকে নিরাপদে সমবেত করার জন্য ৪৪৫টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সরঞ্জামের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ধার সরঞ্জাম, হাসপাতাল ও হেলিকপ্টারের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।
বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রায় প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে। এসব দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। তাই তাদের সুরক্ষায় সরকারের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ায় বর্তমানে দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ভবিষ্যতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য জাইকা ও জাপান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন