নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২৪) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সোহাগ মিয়া জুলহাসকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাসে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২৬ জুলাই সকালে স্ত্রী তানিয়া গার্মেন্টসে কাজে গেছেন বলে তার খালা নাছিমা আক্তারকে জানান সোহাগ। একই সঙ্গে বাসার চাবিও তার কাছে দিয়ে যান তিনি। পরে খালাকে বাসায় গিয়ে তানিয়ার সঙ্গে দেখা করতে বলে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।
বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় নাছিমা প্রথমে তানিয়ার কর্মস্থল গার্মেন্টসে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তানিয়া সেদিন কাজে যাননি। পরে বাসায় ফিরে দরজার তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে মশারির মধ্যে তানিয়ার নিথর দেহ দেখতে পান তিনি। তার নাক ও মুখে রক্তের দাগ ছিল।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই তানিয়া ও সোহাগের দাম্পত্য জীবনের নানা তথ্য বের করে। তদন্তে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের পর পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তারা। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত।
পিবিআই জানায়, সোহাগের স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস না থাকায় সংসারে অভাব-অনটন ছিল। এ নিয়ে তানিয়া প্রতিবাদ করলে তাকে প্রায়ই শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন সোহাগ।
জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে তানিয়ার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সোহাগ।
হত্যার পর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পরদিন সকালে ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন তিনি। যাওয়ার সময় তানিয়ার ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেন। পরে বাসার চাবি তানিয়ার খালার কাছে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যান।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, গ্রেপ্তার সোহাগ আদালতে হাজির হয়ে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২৪) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সোহাগ মিয়া জুলহাসকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাসে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২৬ জুলাই সকালে স্ত্রী তানিয়া গার্মেন্টসে কাজে গেছেন বলে তার খালা নাছিমা আক্তারকে জানান সোহাগ। একই সঙ্গে বাসার চাবিও তার কাছে দিয়ে যান তিনি। পরে খালাকে বাসায় গিয়ে তানিয়ার সঙ্গে দেখা করতে বলে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।
বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় নাছিমা প্রথমে তানিয়ার কর্মস্থল গার্মেন্টসে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তানিয়া সেদিন কাজে যাননি। পরে বাসায় ফিরে দরজার তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে মশারির মধ্যে তানিয়ার নিথর দেহ দেখতে পান তিনি। তার নাক ও মুখে রক্তের দাগ ছিল।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই তানিয়া ও সোহাগের দাম্পত্য জীবনের নানা তথ্য বের করে। তদন্তে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের পর পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তারা। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত।
পিবিআই জানায়, সোহাগের স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস না থাকায় সংসারে অভাব-অনটন ছিল। এ নিয়ে তানিয়া প্রতিবাদ করলে তাকে প্রায়ই শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন সোহাগ।
জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে তানিয়ার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সোহাগ।
হত্যার পর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পরদিন সকালে ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন তিনি। যাওয়ার সময় তানিয়ার ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেন। পরে বাসার চাবি তানিয়ার খালার কাছে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যান।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, গ্রেপ্তার সোহাগ আদালতে হাজির হয়ে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন