কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সেটি আবারও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। তবে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে যাতে কম প্রভাব পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনা করে টার্মিনাল বন্ধের সময় নির্ধারণ করা হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, টার্মিনালের একটি অংশ বর্তমানে চালু রয়েছে। তবে অপর অংশটি সচল করতে গেলে চালু থাকা অংশটিও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হবে। এ বিষয়ে এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে ত্রুটির কারণে টার্মিনালটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার এর কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরায় শুরু হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় টার্মিনালের কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে বাকি কাজ শেষ করা জরুরি।
তিনি বলেন, এমন একটি সময় বেছে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যখন টার্মিনাল বন্ধ রাখলেও সাধারণ মানুষ, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে ভোগান্তি তুলনামূলকভাবে কম হবে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত টার্মিনালটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।
সেমিনারে জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, একটি এলএনজি টার্মিনালে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পুরো দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প অবকাঠামো আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। আগের সরকারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের নামে অনেক জায়গায় বিনিয়োগ করা হলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
দেশে নতুন ও বড় পরিসরের এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে একটি বিদেশি বেসরকারি উদ্যোক্তা গোষ্ঠী আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, উদ্যোক্তা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা বড় পরিসরে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে। সরকার তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে।
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি, গ্রহণ ও সরবরাহের অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও সেমিনারে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নতুন এফএসআরইউ প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির প্রকল্প সরাসরি অনুমোদন করা হয়নি। সরকার নীতিগতভাবে প্রকল্পটি সরকার-টু-সরকার বা জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি জানান, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জিটুজি পদ্ধতিতে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যায়ন করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিস্তারিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাব পাওয়ার পর দরকষাকষি ও আলোচনা শেষে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজন থেকেই জিটুজি পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন না বাড়ালে বর্তমান জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের নানা পরিস্থিতি ও আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশে বারবার জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে সংকট মোকাবিলায় নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো আগ্রহ দেখাবে বলে সরকার আশাবাদী জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে সফল অফশোর বিডিং রাউন্ডের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে।
সমুদ্রের পাশাপাশি স্থলভাগেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন দরপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। যত দ্রুত সম্ভব এ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে তুলতে সরাসরি প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অফশোর ব্লকের দরপত্রে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে গিয়ে বড় তেল-গ্যাস কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চান।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে সরাসরি তুলে ধরা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনাই যথেষ্ট নয়, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অতীতে বাপেক্সের কর্মকর্তাদের সাত থেকে ১০ দিনের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানো হলেও এত অল্প সময়ে বাস্তব কাজ শেখার সুযোগ সীমিত। তাই কর্মকর্তাদের ছয় মাস থেকে দুই বছর মেয়াদি বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্সে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোতে অনেক বাংলাদেশি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে বাপেক্সের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারাও দেশের জ্বালানি খাতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সেমিনারে আলোচকদের বক্তব্য শোনার পর তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেবেন।
মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট, ভবিষ্যতের অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত সরাসরি শোনা প্রয়োজন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সেটি আবারও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। তবে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে যাতে কম প্রভাব পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনা করে টার্মিনাল বন্ধের সময় নির্ধারণ করা হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, টার্মিনালের একটি অংশ বর্তমানে চালু রয়েছে। তবে অপর অংশটি সচল করতে গেলে চালু থাকা অংশটিও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হবে। এ বিষয়ে এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে ত্রুটির কারণে টার্মিনালটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার এর কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরায় শুরু হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় টার্মিনালের কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে বাকি কাজ শেষ করা জরুরি।
তিনি বলেন, এমন একটি সময় বেছে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যখন টার্মিনাল বন্ধ রাখলেও সাধারণ মানুষ, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে ভোগান্তি তুলনামূলকভাবে কম হবে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত টার্মিনালটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।
সেমিনারে জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, একটি এলএনজি টার্মিনালে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পুরো দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প অবকাঠামো আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। আগের সরকারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের নামে অনেক জায়গায় বিনিয়োগ করা হলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
দেশে নতুন ও বড় পরিসরের এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে একটি বিদেশি বেসরকারি উদ্যোক্তা গোষ্ঠী আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, উদ্যোক্তা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা বড় পরিসরে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে। সরকার তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে।
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি, গ্রহণ ও সরবরাহের অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও সেমিনারে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নতুন এফএসআরইউ প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির প্রকল্প সরাসরি অনুমোদন করা হয়নি। সরকার নীতিগতভাবে প্রকল্পটি সরকার-টু-সরকার বা জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি জানান, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জিটুজি পদ্ধতিতে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যায়ন করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিস্তারিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাব পাওয়ার পর দরকষাকষি ও আলোচনা শেষে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজন থেকেই জিটুজি পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন না বাড়ালে বর্তমান জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের নানা পরিস্থিতি ও আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশে বারবার জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে সংকট মোকাবিলায় নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো আগ্রহ দেখাবে বলে সরকার আশাবাদী জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে সফল অফশোর বিডিং রাউন্ডের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে।
সমুদ্রের পাশাপাশি স্থলভাগেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন দরপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। যত দ্রুত সম্ভব এ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে তুলতে সরাসরি প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অফশোর ব্লকের দরপত্রে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে গিয়ে বড় তেল-গ্যাস কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চান।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে সরাসরি তুলে ধরা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনাই যথেষ্ট নয়, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অতীতে বাপেক্সের কর্মকর্তাদের সাত থেকে ১০ দিনের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানো হলেও এত অল্প সময়ে বাস্তব কাজ শেখার সুযোগ সীমিত। তাই কর্মকর্তাদের ছয় মাস থেকে দুই বছর মেয়াদি বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্সে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোতে অনেক বাংলাদেশি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে বাপেক্সের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারাও দেশের জ্বালানি খাতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সেমিনারে আলোচকদের বক্তব্য শোনার পর তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেবেন।
মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট, ভবিষ্যতের অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত সরাসরি শোনা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন