নওগাঁয় খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা কিনতে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক নিম্নআয়ের মানুষ পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নামে চাল-আটা সংগ্রহ করে পরে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গত ১০ আগস্ট নওগাঁ শহরের নামা শেরপুর, আরজি নওগাঁ এলাকার মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্স নামের ওএমএস কেন্দ্রে অনুসন্ধান চালিয়ে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়।
কেন্দ্রটির সাইনবোর্ডে উল্লেখ রয়েছে, এটি খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত ওএমএস কেন্দ্র। কেন্দ্রটির ডিলার মো. আসাদুজ্জামান। সেখানে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং প্রতি কেজি আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রির কথা উল্লেখ রয়েছে। কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে জেলা খাদ্য বিভাগ, নওগাঁ।
স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণে ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হলেও বাস্তবে অনেকেই এর সুবিধা পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, কিছু ব্যক্তি সাধারণ মানুষের হয়ে ক্রেতা সেজে চাল-আটা সংগ্রহ করছেন। পরে এসব খাদ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত নিম্নআয়ের মানুষ সরকারি এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তথ্য সংগ্রহের সময় কয়েকজন প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গেও কথা হয়। তারা জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও অনেক সময় চাল বা আটা না পেয়ে তাদের ফিরে যেতে হয়। প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করতে ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ওএমএস কেন্দ্রের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মীকে কেন্দ্রের ভেতরে বসে থাকতে দেখা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাইরে থেকে আসা ক্রেতাদের মধ্যে প্রকৃত উপকারভোগী কে এবং কারা অন্যের হয়ে খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করছেন, তা যথাযথভাবে যাচাই ও তদারকি করা হচ্ছে না।
তাদের অভিযোগ, এ ধরনের তদারকির ঘাটতির সুযোগে সরকারি ভর্তুকি মূল্যের খাদ্যপণ্য প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিবর্তে অন্যত্র চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা খাদ্য বিভাগের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের ওএমএস কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো নিম্নআয়ের ও সাধারণ মানুষের কাছে নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া। তাই প্রকৃত উপকারভোগীরা যাতে বঞ্চিত না হন এবং কেউ অন্যের নামে বা প্রতিনিধি হিসেবে একাধিকবার খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁয় খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা কিনতে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক নিম্নআয়ের মানুষ পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নামে চাল-আটা সংগ্রহ করে পরে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গত ১০ আগস্ট নওগাঁ শহরের নামা শেরপুর, আরজি নওগাঁ এলাকার মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্স নামের ওএমএস কেন্দ্রে অনুসন্ধান চালিয়ে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়।
কেন্দ্রটির সাইনবোর্ডে উল্লেখ রয়েছে, এটি খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত ওএমএস কেন্দ্র। কেন্দ্রটির ডিলার মো. আসাদুজ্জামান। সেখানে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং প্রতি কেজি আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রির কথা উল্লেখ রয়েছে। কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে জেলা খাদ্য বিভাগ, নওগাঁ।
স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণে ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হলেও বাস্তবে অনেকেই এর সুবিধা পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, কিছু ব্যক্তি সাধারণ মানুষের হয়ে ক্রেতা সেজে চাল-আটা সংগ্রহ করছেন। পরে এসব খাদ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত নিম্নআয়ের মানুষ সরকারি এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তথ্য সংগ্রহের সময় কয়েকজন প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গেও কথা হয়। তারা জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও অনেক সময় চাল বা আটা না পেয়ে তাদের ফিরে যেতে হয়। প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করতে ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ওএমএস কেন্দ্রের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মীকে কেন্দ্রের ভেতরে বসে থাকতে দেখা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাইরে থেকে আসা ক্রেতাদের মধ্যে প্রকৃত উপকারভোগী কে এবং কারা অন্যের হয়ে খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করছেন, তা যথাযথভাবে যাচাই ও তদারকি করা হচ্ছে না।
তাদের অভিযোগ, এ ধরনের তদারকির ঘাটতির সুযোগে সরকারি ভর্তুকি মূল্যের খাদ্যপণ্য প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিবর্তে অন্যত্র চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা খাদ্য বিভাগের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের ওএমএস কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো নিম্নআয়ের ও সাধারণ মানুষের কাছে নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া। তাই প্রকৃত উপকারভোগীরা যাতে বঞ্চিত না হন এবং কেউ অন্যের নামে বা প্রতিনিধি হিসেবে একাধিকবার খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন