ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সমাজসেবা কর্মকর্তার শ্বশুরবাড়ি প্রীতি, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ ঘিরে তাড়াইলে তোলপাড়


সৈয়দ মইনুল হোসেন
সৈয়দ মইনুল হোসেন
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬

সমাজসেবা কর্মকর্তার শ্বশুরবাড়ি প্রীতি, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ ঘিরে তাড়াইলে তোলপাড়
তাড়াইল সমাজসেবা কার্যালয় স্বজনপ্রীতির আখড়া।

​দুস্থ ও নিম্নআয় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সরকার চালু করেছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। উদ্দেশ্য—স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সঠিক মানুষের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে এই মহৎ উদ্যোগেই এবার লেগেছে স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির মারাত্মক কাল দাগ!

​উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পাওয়ার তালিকায় দেখা গেছে কর্মকর্তাদের নিজস্ব পছন্দ ও আত্মীয়তার ছাপ। বিশেষ করে, কর্মকর্তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা হিসেবে পরিচিত একটি নির্দিষ্ট গ্রামের প্রার্থীদের গণহারে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা এখন তোলপাড়। অনিয়মের এই খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের ক্ষোভ রূপ নিয়েছে গণঅসন্তোষে।


​অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়ন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অনুযায়ী, নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে ব্যক্তিগত পছন্দ ও আত্মিক সম্পর্ক। ​দামিহা ইউনিয়নের কাজলা এলাকাটি মূলত তাড়াইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা হিসেবে পরিচিত। কাকতালীয় হলেও সত্য, চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃতদের তালিকার একটি বিশাল অংশ দখল করে রেখেছেন এই এক এলাকার প্রার্থীরাই।


​অভিযোগ অনুযায়ী, দামিহা ইউনিয়নের কাজলা সিং গ্রাম থেকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েছেন মহরম আলী, আশিক নাবিল ও সাইদুর রহমান। কাজলা মধ্য এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তোফাজ্জল এবং কাজলা চক এলাকা থেকে সাইদুজ্জামান ও শেখসাদী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। এছাড়া অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে মাগুরী গ্রামের তামান্না ও কাজলা মধ্য গ্রামের মিজানুরকে। ​একই এলাকার এবং বিশেষ একটি সম্পর্কের সুবাদে এতজন প্রার্থীর জয়জয়কার দেখে হতবাক পুরো তাড়াইলবাসী। ​এই নিয়োগের পর সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে একই ওয়ার্ডের অন্যান্য আবেদনকারীদের ওপর। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড থেকে আরও ৮ জন প্রার্থী যথাযথ যোগ্যতা নিয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাদের একজনকেও তালিকায় রাখা হয়নি। ​হতাশা প্রকাশ করে এক বঞ্চিত প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ​"আমরা প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ইন্টারভিউ এবং বাছাই প্রক্রিয়ার নামে যা হলো, তা স্রেফ একটা নাটক। যেখানে ক্ষমতার দাপট আর শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কই যোগ্যতা বলে গণ্য হয়, সেখানে সাধারণ ও মেধাবী প্রার্থীদের স্থান কীভাবে হবে? পুরো প্রক্রিয়াতেই আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।" ​একই ওয়ার্ডের একাধিক যোগ্য প্রার্থী সম্পূর্ণ বাদ পড়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক যাচাই-বাছাই এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

​স্বজনপ্রীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও জনমনে তৈরি হওয়া ক্ষোভের বিষয়ে জানতে তাড়াইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকরা এই বিষাদময় অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুখ খুলতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগের তীর নিজের দিকে থাকা সত্ত্বেও তার এই রহস্যজনক নীরবতা সন্দেহ ও ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। ​অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযোগের সত্যতা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, "ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কর্মী বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। সরকারি নির্ধারিত নিয়ম ও নীতিমালা মেনেই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।" ​প্রশাসনের এমন জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ। তাদের মতে, কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এমন সাফাই গাওয়ায় অনিয়মকারীদের আরও প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।


​উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের ‘শ্বশুরবাড়ি প্রীতি’ ও ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগের ছক এখন আর শুধু তাড়াইল উপজেলা চত্বরে সীমাবদ্ধ নেই। গত দু’দিন ধরে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতাগুলোতে তাড়াইল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অনিয়ম নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ​নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে একের পর এক পোস্ট ও কমেন্ট করছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, "সরকারি একটা কর্মসূচির সুবিধা এবং নিয়োগ কি কোনো কর্মকর্তার শ্বশুরবাড়ির যৌতুক নাকি?" আবার কেউ লিখছেন, "যাদের সত্যিকারে চাকরি ও সেবার সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল, স্বজনপ্রীতির কারণে আজ তারা বঞ্ছিত।" ফেসবুক জুড়ে এখন শুধু "অনিয়ম আর অনিয়ম"-এর খবর।

​ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মতো একটি স্পর্শকাতর ও সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীমূলক প্রকল্পে এমন চরম স্বজনপ্রীতি পুরো সরকারের ভাবমূর্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষুণ্ন করছে। তাড়াইল উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।


​তাদের দাবি, জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে, তবে থোড় বড়ি খাড়া এই অনিয়মের সব থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা যেন তাদের প্রাপ্য অধিকার ফেরত পান এবং দোষী কর্মকর্তাকে যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়—এখন এটাই তাড়াইলের সর্বস্তরের মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সমাজসেবা কর্মকর্তার শ্বশুরবাড়ি প্রীতি, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ ঘিরে তাড়াইলে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

​দুস্থ ও নিম্নআয় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সরকার চালু করেছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। উদ্দেশ্য—স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সঠিক মানুষের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে এই মহৎ উদ্যোগেই এবার লেগেছে স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির মারাত্মক কাল দাগ!

​উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পাওয়ার তালিকায় দেখা গেছে কর্মকর্তাদের নিজস্ব পছন্দ ও আত্মীয়তার ছাপ। বিশেষ করে, কর্মকর্তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা হিসেবে পরিচিত একটি নির্দিষ্ট গ্রামের প্রার্থীদের গণহারে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা এখন তোলপাড়। অনিয়মের এই খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের ক্ষোভ রূপ নিয়েছে গণঅসন্তোষে।


​অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়ন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অনুযায়ী, নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে ব্যক্তিগত পছন্দ ও আত্মিক সম্পর্ক। ​দামিহা ইউনিয়নের কাজলা এলাকাটি মূলত তাড়াইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা হিসেবে পরিচিত। কাকতালীয় হলেও সত্য, চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃতদের তালিকার একটি বিশাল অংশ দখল করে রেখেছেন এই এক এলাকার প্রার্থীরাই।


​অভিযোগ অনুযায়ী, দামিহা ইউনিয়নের কাজলা সিং গ্রাম থেকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েছেন মহরম আলী, আশিক নাবিল ও সাইদুর রহমান। কাজলা মধ্য এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তোফাজ্জল এবং কাজলা চক এলাকা থেকে সাইদুজ্জামান ও শেখসাদী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। এছাড়া অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে মাগুরী গ্রামের তামান্না ও কাজলা মধ্য গ্রামের মিজানুরকে। ​একই এলাকার এবং বিশেষ একটি সম্পর্কের সুবাদে এতজন প্রার্থীর জয়জয়কার দেখে হতবাক পুরো তাড়াইলবাসী। ​এই নিয়োগের পর সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে একই ওয়ার্ডের অন্যান্য আবেদনকারীদের ওপর। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড থেকে আরও ৮ জন প্রার্থী যথাযথ যোগ্যতা নিয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাদের একজনকেও তালিকায় রাখা হয়নি। ​হতাশা প্রকাশ করে এক বঞ্চিত প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ​"আমরা প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ইন্টারভিউ এবং বাছাই প্রক্রিয়ার নামে যা হলো, তা স্রেফ একটা নাটক। যেখানে ক্ষমতার দাপট আর শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কই যোগ্যতা বলে গণ্য হয়, সেখানে সাধারণ ও মেধাবী প্রার্থীদের স্থান কীভাবে হবে? পুরো প্রক্রিয়াতেই আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।" ​একই ওয়ার্ডের একাধিক যোগ্য প্রার্থী সম্পূর্ণ বাদ পড়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক যাচাই-বাছাই এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

​স্বজনপ্রীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও জনমনে তৈরি হওয়া ক্ষোভের বিষয়ে জানতে তাড়াইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকরা এই বিষাদময় অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুখ খুলতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগের তীর নিজের দিকে থাকা সত্ত্বেও তার এই রহস্যজনক নীরবতা সন্দেহ ও ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। ​অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযোগের সত্যতা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, "ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কর্মী বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। সরকারি নির্ধারিত নিয়ম ও নীতিমালা মেনেই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।" ​প্রশাসনের এমন জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ। তাদের মতে, কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এমন সাফাই গাওয়ায় অনিয়মকারীদের আরও প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।


​উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের ‘শ্বশুরবাড়ি প্রীতি’ ও ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগের ছক এখন আর শুধু তাড়াইল উপজেলা চত্বরে সীমাবদ্ধ নেই। গত দু’দিন ধরে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতাগুলোতে তাড়াইল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অনিয়ম নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ​নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে একের পর এক পোস্ট ও কমেন্ট করছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, "সরকারি একটা কর্মসূচির সুবিধা এবং নিয়োগ কি কোনো কর্মকর্তার শ্বশুরবাড়ির যৌতুক নাকি?" আবার কেউ লিখছেন, "যাদের সত্যিকারে চাকরি ও সেবার সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল, স্বজনপ্রীতির কারণে আজ তারা বঞ্ছিত।" ফেসবুক জুড়ে এখন শুধু "অনিয়ম আর অনিয়ম"-এর খবর।

​ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মতো একটি স্পর্শকাতর ও সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীমূলক প্রকল্পে এমন চরম স্বজনপ্রীতি পুরো সরকারের ভাবমূর্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষুণ্ন করছে। তাড়াইল উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।


​তাদের দাবি, জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে, তবে থোড় বড়ি খাড়া এই অনিয়মের সব থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা যেন তাদের প্রাপ্য অধিকার ফেরত পান এবং দোষী কর্মকর্তাকে যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়—এখন এটাই তাড়াইলের সর্বস্তরের মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ