ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে অনিয়মের খবর ‘বিভ্রান্তিকর’: বেবিচক


​নাজমুল ইসলাম মন্ডল:
​নাজমুল ইসলাম মন্ডল:
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে অনিয়মের খবর ‘বিভ্রান্তিকর’: বেবিচক
ছবি: প্রতিনিধি


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (থার্ড টার্মিনাল) নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘আংশিক, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, প্রকল্পের অনুমোদিত বাজেটের বাইরে কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়নি এবং সব ধরনের খরচ সরকারি নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে।


​বেবিচক জানায়, ২০১৭ সালে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের প্রথম উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকায় অনুমোদিত হয়েছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন বৈধ দর পাওয়ার পর ২০১৯ সালে প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।


​পরবর্তীতে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি টাকার অতিরিক্ত কাজ যুক্ত করা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে ব্যয় না বাড়িয়ে উল্টো কমিয়ে ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকায় অনুমোদন দেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, এ পর্যন্ত এই প্রকল্পে মোট ২০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে—যা অনুমোদিত বাজেটের সীমার মধ্যেই রয়েছে।


​গাছ লাগানো, পুকুর উন্নয়ন, মাটি অপসারণ, ডিজেলচালিত পাম্প, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জ্বালানি খরচ কিংবা কাজ দ্রুত শেষ করতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের বিষয়ে যে সমালোচনা উঠেছে, সে সম্পর্কে বেবিচক জানায়—প্রতিটি ব্যয়ই চুক্তির শর্তানুযায়ী করা হয়েছে।


​সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি চুক্তি, প্রকৌশলী পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণচুক্তির নির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনওসিডি (NOCD) যৌথ উদ্যোগের অনুমোদনের ভিত্তিতেই এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে।


​গণমাধ্যমে আসা ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে সংস্থাটি জানায়, এটি মূলতঃ বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একটি প্রাথমিক ‘নিরীক্ষা আপত্তি’ (Audit Objection)। এটি এখনো চূড়ান্ত কোনো অনিয়ম হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।


​বর্তমানে এই আপত্তির বিপরীতে দাপ্তরিক জবাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিরোধ নিষ্পত্তি বোর্ড (Dispute Adjudication Board) ও সমঝোতা নিষ্পত্তি কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


​বিজ্ঞপ্তিতে বেবিচক জানায়, থার্ড টার্মিনালের বাণিজ্যিক ও পরিচালনগত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে থার্ড টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত কাজ এগিয়ে চলছে।


​একই সঙ্গে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই মেগা প্রকল্প সম্পর্কে কোনো তথ্য বা সংবাদ প্রকাশের আগে তা সঠিকভাবে যাচাই করে দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা করার জন্য গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেবিচক।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে অনিয়মের খবর ‘বিভ্রান্তিকর’: বেবিচক

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (থার্ড টার্মিনাল) নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘আংশিক, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, প্রকল্পের অনুমোদিত বাজেটের বাইরে কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়নি এবং সব ধরনের খরচ সরকারি নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে।


​বেবিচক জানায়, ২০১৭ সালে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের প্রথম উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকায় অনুমোদিত হয়েছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন বৈধ দর পাওয়ার পর ২০১৯ সালে প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।


​পরবর্তীতে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি টাকার অতিরিক্ত কাজ যুক্ত করা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে ব্যয় না বাড়িয়ে উল্টো কমিয়ে ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকায় অনুমোদন দেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, এ পর্যন্ত এই প্রকল্পে মোট ২০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে—যা অনুমোদিত বাজেটের সীমার মধ্যেই রয়েছে।


​গাছ লাগানো, পুকুর উন্নয়ন, মাটি অপসারণ, ডিজেলচালিত পাম্প, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জ্বালানি খরচ কিংবা কাজ দ্রুত শেষ করতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের বিষয়ে যে সমালোচনা উঠেছে, সে সম্পর্কে বেবিচক জানায়—প্রতিটি ব্যয়ই চুক্তির শর্তানুযায়ী করা হয়েছে।


​সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি চুক্তি, প্রকৌশলী পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণচুক্তির নির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনওসিডি (NOCD) যৌথ উদ্যোগের অনুমোদনের ভিত্তিতেই এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে।


​গণমাধ্যমে আসা ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে সংস্থাটি জানায়, এটি মূলতঃ বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একটি প্রাথমিক ‘নিরীক্ষা আপত্তি’ (Audit Objection)। এটি এখনো চূড়ান্ত কোনো অনিয়ম হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।


​বর্তমানে এই আপত্তির বিপরীতে দাপ্তরিক জবাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিরোধ নিষ্পত্তি বোর্ড (Dispute Adjudication Board) ও সমঝোতা নিষ্পত্তি কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


​বিজ্ঞপ্তিতে বেবিচক জানায়, থার্ড টার্মিনালের বাণিজ্যিক ও পরিচালনগত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে থার্ড টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত কাজ এগিয়ে চলছে।


​একই সঙ্গে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই মেগা প্রকল্প সম্পর্কে কোনো তথ্য বা সংবাদ প্রকাশের আগে তা সঠিকভাবে যাচাই করে দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা করার জন্য গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেবিচক।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ