তিমির বনিক | মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রাধানগর এলাকায় অবস্থিত একটি রিসোর্টে অতিথির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ এবং পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর আলোচনায় আসা ‘মেঘ মালতি’ রিসোর্টের নাম পরিবর্তন করে ‘বেলা শেষে’ রাখা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জুলাই। অভিযোগ অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের বাসিন্দা অপূর্ব সূত্রধর নামে এক যুবক এক তরুণীকে নিয়ে রিসোর্টটির ১০১ নম্বর কক্ষে ওঠেন। তারা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। রিসোর্ট ত্যাগ করার পর তাঁর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর কিছু ছবি পাঠানো হয় এবং দফায় দফায় অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অপূর্ব সূত্রধরের দাবি, একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর থেকে তাঁকে ছবি পাঠিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি পরদিন ৯ জুলাই কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলতে চান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, যে মোবাইল নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছিল, সেটি জেরিন চা বাগানের নাসির নামে এক যুবকের। তিনি ওই রিসোর্টে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে নাসির আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৯ জুলাই অপূর্ব সূত্রধর একটি স্ক্রিনশট দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলে অপূর্ব ও তাঁর সঙ্গে আসা কয়েকজন রিসোর্টের কর্মীদের গালাগাল ও মারধর করেন। একপর্যায়ে তারাই ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে প্রশাসন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আলোচনার সময় অপূর্ব কোনো টাকা দেননি বলে স্বীকার করেন।
রিসোর্টটির নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় মালিকপক্ষ ‘মেঘ মালতি’ নাম পরিবর্তন করে ‘বেলা শেষে’ নামকরণ করেছে। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না।
অন্যদিকে, অপূর্ব সূত্রধর বলেন, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন কথা বলছেন। তিনি এর আগে গণমাধ্যমে যা বলার বলেছেন এবং নতুন করে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি তাপস দাশ বলেন, প্রশাসন ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অপূর্ব সূত্রধর যে ছবিটি দেখিয়েছেন, সেটির দেয়ালের রঙ রিসোর্টের দেয়ালের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঘটনার দিন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি আপসনামার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে। তবে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ চাইলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অপূর্ব সূত্রধরের সঙ্গে কথা বললে তিনি বিষয়টিকে একটি ভুল-বোঝাবুঝি বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান। রিসোর্টের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় একাধিক পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত মামলা হয়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
তিমির বনিক | মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রাধানগর এলাকায় অবস্থিত একটি রিসোর্টে অতিথির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ এবং পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর আলোচনায় আসা ‘মেঘ মালতি’ রিসোর্টের নাম পরিবর্তন করে ‘বেলা শেষে’ রাখা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জুলাই। অভিযোগ অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের বাসিন্দা অপূর্ব সূত্রধর নামে এক যুবক এক তরুণীকে নিয়ে রিসোর্টটির ১০১ নম্বর কক্ষে ওঠেন। তারা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। রিসোর্ট ত্যাগ করার পর তাঁর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর কিছু ছবি পাঠানো হয় এবং দফায় দফায় অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অপূর্ব সূত্রধরের দাবি, একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর থেকে তাঁকে ছবি পাঠিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি পরদিন ৯ জুলাই কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলতে চান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, যে মোবাইল নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছিল, সেটি জেরিন চা বাগানের নাসির নামে এক যুবকের। তিনি ওই রিসোর্টে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে নাসির আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৯ জুলাই অপূর্ব সূত্রধর একটি স্ক্রিনশট দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলে অপূর্ব ও তাঁর সঙ্গে আসা কয়েকজন রিসোর্টের কর্মীদের গালাগাল ও মারধর করেন। একপর্যায়ে তারাই ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে প্রশাসন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আলোচনার সময় অপূর্ব কোনো টাকা দেননি বলে স্বীকার করেন।
রিসোর্টটির নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় মালিকপক্ষ ‘মেঘ মালতি’ নাম পরিবর্তন করে ‘বেলা শেষে’ নামকরণ করেছে। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না।
অন্যদিকে, অপূর্ব সূত্রধর বলেন, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন কথা বলছেন। তিনি এর আগে গণমাধ্যমে যা বলার বলেছেন এবং নতুন করে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি তাপস দাশ বলেন, প্রশাসন ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অপূর্ব সূত্রধর যে ছবিটি দেখিয়েছেন, সেটির দেয়ালের রঙ রিসোর্টের দেয়ালের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঘটনার দিন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি আপসনামার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে। তবে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ চাইলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অপূর্ব সূত্রধরের সঙ্গে কথা বললে তিনি বিষয়টিকে একটি ভুল-বোঝাবুঝি বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান। রিসোর্টের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় একাধিক পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত মামলা হয়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন