শ্রেণীকক্ষের চিরাচরিত পাঠদান আর নিয়মিত পরীক্ষার চাপ না থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মন অচেনাই এক অলসতায় ছেয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার দীর্ঘ বিরতিতে ঠিক তেমন চিত্রই দেখা গিয়েছিল কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বইয়ের পাতা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন ক্রমান্বয়ে পড়ার টেবিলবিমুখ হয়ে পড়ছিল। অলস সময়ের সেই বন্ধিদশা থেকে খুদে পড়ুয়াদের আবারও মেধার আনন্দে ও প্রবল আগ্রহে পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে এক অনন্য ও যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ‘জুনায়েত ভূঁইয়া মোহন ফাউন্ডেশন’। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, উৎসবমুখর আবহাওয়া এবং মেধার এক অপূর্ব মিলনমেলার মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হলো তাদের ব্যতিক্রমী ‘মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা’।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ) সকালের সূর্য উঠতেই পাকুন্দিয়ার শিমুলিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নামতে শুরু করে কচি-কাঁচাদের জোয়ার। নির্ধারিত পরীক্ষার সময় সকাল সাড়ে ১১টা হলেও, সকাল ৯টা থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন রূপ নেয় এক আনন্দঘন শিক্ষা-উৎসবে। পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন হাই স্কুল ও মাদ্রাসার ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর হাজারো শিক্ষার্থী সুবিন্যস্ত ও পরিচ্ছন্ন পোশাকে হাজির হতে থাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চোখের দৃষ্টিতে ছিল এক নতুন জয়ের স্বপ্ন আর মেধা যাচাইয়ের তীব্র রোমাঞ্চ। কেবল শিক্ষার্থীরাই নয়, সন্তানদের এই ব্যতিক্রমী যাত্রার আত্মিক সঙ্গী হতে শত শত অভিভাবকও প্রখর কৌতূহল ও আনন্দ নিয়ে প্রাঙ্গণে জমায়েত হন। অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে মেধার এই সুবিশাল মেলবন্ধন গোটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে দেয় এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ।
ঠিক সকাল সাড়ে ১১টায় ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বহুপ্রত্যাশিত এই মেধান্বেষণ যুদ্ধ। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত টানা এক ঘণ্টা ধরে চলে খুদে পরীক্ষার্থীদের মেধা যাচাই প্রতিযোগিতা। সরেজমিনে কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি কক্ষে ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সুনিবিড় ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। কঠোর তদারকি আর সুবিন্যস্ত আসন ব্যবস্থার ফলে নিখাদ এক একাডেমিক আবহ তৈরি হয় কেন্দ্রটিতে। প্রতিটি শিশু তাদের মনের গহীনে জমে থাকা জ্ঞানের আলো খাতার পাতায় ছড়িয়ে দিতে মনোযোগের চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময় এক ঝাঁক শিক্ষার্থী তাদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও অনুভূতির কথা ব্যক্ত করে।
পরীক্ষা নিয়ে গভীর সন্তোষ ও আনন্দের কথা জানায় চকদিগা দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জহুরা। স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সে বলে, "এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। কিছুদিন পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ঘরে পড়াশোনার গতি ও আগ্রহ দুটিই কমে গিয়েছিল। মেধা অন্বেষণ পরীক্ষার ঘোষণা আসার পর থেকেই আবার আগ্রহ নিয়ে বই হাতে নিতে হয়েছে। আজ পরীক্ষা মোটামুটি বেশ ভালো হয়েছে, যা আমাকে নতুন করে পড়ালেখায় গতি এনে দিয়েছে।" একইভাবে মেধা যাচাইয়ের এই মঞ্চ পেয়ে নিজের মেধা ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে কালিয়াচাপড়া চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদী মোহাম্মদ সাদ। আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে সে জানায়, "আলহামদুলিল্লাহ, পরীক্ষা অনেক ভালো হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের নিয়মিত চর্চার বাইরে এসে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা প্রমাণের জন্য এ ধরনের পরীক্ষা আমাদের জন্য খুবই দরকার। এমন প্রতিযোগিতা আমাদের ভেতর সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে এবং পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দারুণ সহায়তা করে।"
পরীক্ষার মাঝামাঝি সময়—বেলা ১২টার দিকে কেন্দ্রটির সার্বিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে আসেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। তিনি বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে খুদে পরীক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, সুশীল পরিবেশ এবং আয়োজকদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। শিক্ষার্থীদের এমন প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও আয়োজনের সার্বিক মানে সন্তোষ প্রকাশ করে ইউএনও রূপম দাস বলেন, "দীর্ঘদিন প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা না থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় একধরনের স্থবিরতা ও পড়ার টেবিলবিমুখতা তৈরি হওয়া খুব স্বাভাবিক। জুনায়েত ভূঁইয়া মোহন ফাউন্ডেশন ঠিক সময়টিতে যে উদ্যোগটি নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও শিক্ষাবান্ধব। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা দুটোই বহুগুণ বাড়বে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় আমি আয়োজকদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।"
শিক্ষা ও সামাজিক মানোন্নয়নে কাজ করে যাওয়া সামাজিক সংগঠনটির এই সময়োপযোগী চিন্তার পেছনের মূল উদ্দেশ্য ও দর্শন ব্যক্ত করেছেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জুনায়েত ভূঁইয়া মোহন।্যশিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও তাদের টেবিলে ফেরানোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, "সামনে পরীক্ষা না থাকলে খুদে শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে বসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আমরা চেয়েছিলাম ওদের এই মানসিক স্থবিরতা ও অলসতা কাটাতে। পরীক্ষা থাকলেই শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বই হাতে তুলে নেয়। মূলত তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়াতে, গতি বাড়াতে এবং পড়ার টেবিলে ফেরাতেই আমাদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। তিনি আরো বলেন, "আমরা শুধু প্রথম বা দ্বিতীয় হওয়া শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করে অন্যদের হতাশ করতে চাই না। অংশ নেওয়া প্রতিটি শিশুই মেধার মিছিলে জয়ী। তাই বিজয়ী তালিকার পাশাপাশি পরীক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়া সকল শিক্ষার্থীর জন্যই আমরা বিশেষ সৌজন্য উপহারের ব্যবস্থা করেছি, যেন প্রতিটি শিশু হাসি মুখে ঘরে ফিরতে পারে।"
এই মেধান্বেষণ পরীক্ষা কেবল একটি এক ঘণ্টার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন তথা পুরো পাকুন্দিয়া উপজেলার শিক্ষার্থীদের পড়ার অভ্যাসে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া এনে দিয়েছে। স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন সুশীল সমাজ একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, তৃণমূলের মেধাবীদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের ভবিষ্যতে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এমন সামাজিক ও শিক্ষাবান্ধব প্রয়াস অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। পাকুন্দিয়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক মেধার এই নতুন আলো—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
শ্রেণীকক্ষের চিরাচরিত পাঠদান আর নিয়মিত পরীক্ষার চাপ না থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মন অচেনাই এক অলসতায় ছেয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার দীর্ঘ বিরতিতে ঠিক তেমন চিত্রই দেখা গিয়েছিল কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বইয়ের পাতা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন ক্রমান্বয়ে পড়ার টেবিলবিমুখ হয়ে পড়ছিল। অলস সময়ের সেই বন্ধিদশা থেকে খুদে পড়ুয়াদের আবারও মেধার আনন্দে ও প্রবল আগ্রহে পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে এক অনন্য ও যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ‘জুনায়েত ভূঁইয়া মোহন ফাউন্ডেশন’। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, উৎসবমুখর আবহাওয়া এবং মেধার এক অপূর্ব মিলনমেলার মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হলো তাদের ব্যতিক্রমী ‘মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা’।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ) সকালের সূর্য উঠতেই পাকুন্দিয়ার শিমুলিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নামতে শুরু করে কচি-কাঁচাদের জোয়ার। নির্ধারিত পরীক্ষার সময় সকাল সাড়ে ১১টা হলেও, সকাল ৯টা থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন রূপ নেয় এক আনন্দঘন শিক্ষা-উৎসবে। পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন হাই স্কুল ও মাদ্রাসার ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর হাজারো শিক্ষার্থী সুবিন্যস্ত ও পরিচ্ছন্ন পোশাকে হাজির হতে থাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চোখের দৃষ্টিতে ছিল এক নতুন জয়ের স্বপ্ন আর মেধা যাচাইয়ের তীব্র রোমাঞ্চ। কেবল শিক্ষার্থীরাই নয়, সন্তানদের এই ব্যতিক্রমী যাত্রার আত্মিক সঙ্গী হতে শত শত অভিভাবকও প্রখর কৌতূহল ও আনন্দ নিয়ে প্রাঙ্গণে জমায়েত হন। অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে মেধার এই সুবিশাল মেলবন্ধন গোটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে দেয় এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ।
ঠিক সকাল সাড়ে ১১টায় ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বহুপ্রত্যাশিত এই মেধান্বেষণ যুদ্ধ। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত টানা এক ঘণ্টা ধরে চলে খুদে পরীক্ষার্থীদের মেধা যাচাই প্রতিযোগিতা। সরেজমিনে কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি কক্ষে ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সুনিবিড় ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। কঠোর তদারকি আর সুবিন্যস্ত আসন ব্যবস্থার ফলে নিখাদ এক একাডেমিক আবহ তৈরি হয় কেন্দ্রটিতে। প্রতিটি শিশু তাদের মনের গহীনে জমে থাকা জ্ঞানের আলো খাতার পাতায় ছড়িয়ে দিতে মনোযোগের চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময় এক ঝাঁক শিক্ষার্থী তাদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও অনুভূতির কথা ব্যক্ত করে।
পরীক্ষা নিয়ে গভীর সন্তোষ ও আনন্দের কথা জানায় চকদিগা দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জহুরা। স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সে বলে, "এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। কিছুদিন পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ঘরে পড়াশোনার গতি ও আগ্রহ দুটিই কমে গিয়েছিল। মেধা অন্বেষণ পরীক্ষার ঘোষণা আসার পর থেকেই আবার আগ্রহ নিয়ে বই হাতে নিতে হয়েছে। আজ পরীক্ষা মোটামুটি বেশ ভালো হয়েছে, যা আমাকে নতুন করে পড়ালেখায় গতি এনে দিয়েছে।" একইভাবে মেধা যাচাইয়ের এই মঞ্চ পেয়ে নিজের মেধা ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে কালিয়াচাপড়া চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদী মোহাম্মদ সাদ। আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে সে জানায়, "আলহামদুলিল্লাহ, পরীক্ষা অনেক ভালো হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের নিয়মিত চর্চার বাইরে এসে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা প্রমাণের জন্য এ ধরনের পরীক্ষা আমাদের জন্য খুবই দরকার। এমন প্রতিযোগিতা আমাদের ভেতর সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে এবং পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দারুণ সহায়তা করে।"
পরীক্ষার মাঝামাঝি সময়—বেলা ১২টার দিকে কেন্দ্রটির সার্বিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে আসেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। তিনি বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে খুদে পরীক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, সুশীল পরিবেশ এবং আয়োজকদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। শিক্ষার্থীদের এমন প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও আয়োজনের সার্বিক মানে সন্তোষ প্রকাশ করে ইউএনও রূপম দাস বলেন, "দীর্ঘদিন প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা না থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় একধরনের স্থবিরতা ও পড়ার টেবিলবিমুখতা তৈরি হওয়া খুব স্বাভাবিক। জুনায়েত ভূঁইয়া মোহন ফাউন্ডেশন ঠিক সময়টিতে যে উদ্যোগটি নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও শিক্ষাবান্ধব। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা দুটোই বহুগুণ বাড়বে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় আমি আয়োজকদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।"
শিক্ষা ও সামাজিক মানোন্নয়নে কাজ করে যাওয়া সামাজিক সংগঠনটির এই সময়োপযোগী চিন্তার পেছনের মূল উদ্দেশ্য ও দর্শন ব্যক্ত করেছেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জুনায়েত ভূঁইয়া মোহন।্যশিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও তাদের টেবিলে ফেরানোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, "সামনে পরীক্ষা না থাকলে খুদে শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে বসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আমরা চেয়েছিলাম ওদের এই মানসিক স্থবিরতা ও অলসতা কাটাতে। পরীক্ষা থাকলেই শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বই হাতে তুলে নেয়। মূলত তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়াতে, গতি বাড়াতে এবং পড়ার টেবিলে ফেরাতেই আমাদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। তিনি আরো বলেন, "আমরা শুধু প্রথম বা দ্বিতীয় হওয়া শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করে অন্যদের হতাশ করতে চাই না। অংশ নেওয়া প্রতিটি শিশুই মেধার মিছিলে জয়ী। তাই বিজয়ী তালিকার পাশাপাশি পরীক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়া সকল শিক্ষার্থীর জন্যই আমরা বিশেষ সৌজন্য উপহারের ব্যবস্থা করেছি, যেন প্রতিটি শিশু হাসি মুখে ঘরে ফিরতে পারে।"
এই মেধান্বেষণ পরীক্ষা কেবল একটি এক ঘণ্টার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন তথা পুরো পাকুন্দিয়া উপজেলার শিক্ষার্থীদের পড়ার অভ্যাসে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া এনে দিয়েছে। স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন সুশীল সমাজ একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, তৃণমূলের মেধাবীদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের ভবিষ্যতে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এমন সামাজিক ও শিক্ষাবান্ধব প্রয়াস অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। পাকুন্দিয়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক মেধার এই নতুন আলো—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন