ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬

৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে হবিগঞ্জে কর্মরত) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণকাজের দরপত্রে (টেন্ডার) অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দরপত্রের প্রাক্কলিত মূল্য (অফিশিয়াল এস্টিমেটেড কস্ট) পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল ভবন নির্মাণকাজের তৃতীয় দফার দরপত্র (টেন্ডার আইডি: ১১৩০৯৭৯) আহ্বান করা হয় ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই। সে সময় প্রকল্পটির প্রাথমিক প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

অভিযোগকারীদের দাবি, পরে প্রথম সংশোধনীতে বিল অব কোয়ান্টিটিজ (বিওকিউ)-এ অতিরিক্ত ৬০ টন রড যুক্ত করা হলেও সেই অনুযায়ী প্রাক্কলিত মূল্য সমন্বয় করা হয়নি। তাদের হিসাবে, অতিরিক্ত রডের মূল্য প্রায় ৭২ লাখ টাকা হওয়ায় মোট প্রাক্কলিত মূল্য ২৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও তা ২৫৪ কোটি ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকাশ করা হয়। সেখানে নির্বাহী প্রকৌশলীর ই-জিপি আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সংশোধনীর মাধ্যমে আরও প্রায় দুই কোটি টাকা প্রাক্কলিত মূল্য কমিয়ে দেওয়া হয়। যদিও বিওকিউতে কোনো আইটেমের পরিমাণ পরিবর্তন করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এভাবে প্রাক্কলিত মূল্য কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১০ শতাংশ থ্রেশহোল্ডের মধ্যে এনে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং অন্য প্রতিযোগী দরদাতাকে কার্যত প্রতিযোগিতা থেকে বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব কার্যক্রম পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬-এর ধারা ৯ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮-এর রুল ১৬, ৩১, ৩৩, ৯৮ ও ১০০-এর পরিপন্থী। তারা এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, টেন্ডার মূল্যায়নের সময় অস্বাভাবিক কম দরকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা সরকারি ক্রয়বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি। তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য, অভিযোগের সত্যতা এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে হবিগঞ্জে কর্মরত) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণকাজের দরপত্রে (টেন্ডার) অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দরপত্রের প্রাক্কলিত মূল্য (অফিশিয়াল এস্টিমেটেড কস্ট) পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল ভবন নির্মাণকাজের তৃতীয় দফার দরপত্র (টেন্ডার আইডি: ১১৩০৯৭৯) আহ্বান করা হয় ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই। সে সময় প্রকল্পটির প্রাথমিক প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

অভিযোগকারীদের দাবি, পরে প্রথম সংশোধনীতে বিল অব কোয়ান্টিটিজ (বিওকিউ)-এ অতিরিক্ত ৬০ টন রড যুক্ত করা হলেও সেই অনুযায়ী প্রাক্কলিত মূল্য সমন্বয় করা হয়নি। তাদের হিসাবে, অতিরিক্ত রডের মূল্য প্রায় ৭২ লাখ টাকা হওয়ায় মোট প্রাক্কলিত মূল্য ২৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও তা ২৫৪ কোটি ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকাশ করা হয়। সেখানে নির্বাহী প্রকৌশলীর ই-জিপি আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সংশোধনীর মাধ্যমে আরও প্রায় দুই কোটি টাকা প্রাক্কলিত মূল্য কমিয়ে দেওয়া হয়। যদিও বিওকিউতে কোনো আইটেমের পরিমাণ পরিবর্তন করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এভাবে প্রাক্কলিত মূল্য কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১০ শতাংশ থ্রেশহোল্ডের মধ্যে এনে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং অন্য প্রতিযোগী দরদাতাকে কার্যত প্রতিযোগিতা থেকে বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব কার্যক্রম পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬-এর ধারা ৯ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮-এর রুল ১৬, ৩১, ৩৩, ৯৮ ও ১০০-এর পরিপন্থী। তারা এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, টেন্ডার মূল্যায়নের সময় অস্বাভাবিক কম দরকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা সরকারি ক্রয়বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি। তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য, অভিযোগের সত্যতা এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারিত হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ