ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্যে সিইসি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫

অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্যে  সিইসি

দেশে অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে যেসব নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা কাজ করেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন তাদের অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দেখলাম যে এখানে অনেক পুরোনো সংস্থা আছে, যারা অতীতে ইলেকশন অবজারভারের দায়িত্ব পালন করেছে। তো আমি অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না। আমি অলওয়েজ সামনের দিকে তাকাতে চাই। অতীতে অনেক ভুলভ্রান্তি হয়েছে। নানা কারণে এটা হতে পারে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনে এগোতে চাই।”

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে এক সংলাপে এসব কথা বলেন সিইসি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলনকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন এই সংলাপের আয়োজন করে।

আগামী নির্বাচনে ইসির নিয়োগ করা পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মাধ্যমেও নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি জানতে ও বুঝতে চায় কমিশন। সিইসি বলেন, “আপনাদের চোখ যদি দুষ্ট হয়, প্রপার না হয়, আমাদের ইলেকশনের দেখাটাও সঠিক হবে না।” পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো মাঠপর্যায়ে যেসব জনবল নিয়োগ করবে, নির্বাচনের আগে সেই জনবলকে নির্বাচনবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে জোর দেন সিইসি। সিইসি মনে করেন, পর্যবেক্ষক সংস্থার লোকেরা যদি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন, তাহলে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।

সিইসি সতর্ক করে বলেন, “যাদের নিয়োগ করবেন, প্লিজ চেক করবেন যে তারা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন কি না। কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, কোন পার্টির সঙ্গে জড়িত, মিছিল-মিটিংয়ে গিয়েছে...এই মার্কায় ভোট দাও, ওই মার্কায় ভোট দাও। এগুলো যাতে না করে।” তিনি বলেন, পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর কাজ হবে শুধু পর্যবেক্ষণ করা, কোনো দলের হয়ে কাজ করা নয়। যদি কোনো পর্যবেক্ষক সংস্থা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে, সেটা ওই সংস্থার সুনাম কমিয়ে দেবে। পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে ইসির ক্যামেরা অভিহিত করে সিইসি বলেন, “আমার সিসি ক্যামেরা হচ্ছে আমার অবজারভার। আমার সিসি ক্যামেরা হচ্ছে আমার সাংবাদিক ভাই-বোনেরা। এরা যদি সত্যিকারভাবে চোখ রাখে, তাহলে কিন্তু দেখবেন যে কেউ অনিয়ম করতে সাহস পাবে না।”

সংলাপে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে যারা পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে, তাদের সম্পৃক্ততার কারণে এবার তাদের অনেককে নিয়োগ দেওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “অতীতে যে খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে, এ রকম উদাহরণ আমরা আর সৃষ্টি করতে চাই না। কোনো অবস্থাতেই নয়। পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে তো নয়ই।” আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতিহাসের স্বচ্ছ নির্বাচন হবে উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আপনারা নিশ্চিত থাকেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালে। নিশ্চিত থাকুন। এই স্বচ্ছতার ব্যত্যয় যারা ঘটাবে, তাদের নির্বাচন কমিশন নূ্যনতম ছাড় দেবে না।”

সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম, তাহমিদা আহমেদ এবং আব্দুর রহমানেল মাছউদ। সংলাপে অংশ নেন ৪০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি। আজ বেলা দুইটায় আরও ৪১টি পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্যে সিইসি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

দেশে অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে যেসব নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা কাজ করেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন তাদের অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দেখলাম যে এখানে অনেক পুরোনো সংস্থা আছে, যারা অতীতে ইলেকশন অবজারভারের দায়িত্ব পালন করেছে। তো আমি অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না। আমি অলওয়েজ সামনের দিকে তাকাতে চাই। অতীতে অনেক ভুলভ্রান্তি হয়েছে। নানা কারণে এটা হতে পারে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনে এগোতে চাই।”

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে এক সংলাপে এসব কথা বলেন সিইসি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলনকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন এই সংলাপের আয়োজন করে।

আগামী নির্বাচনে ইসির নিয়োগ করা পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মাধ্যমেও নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি জানতে ও বুঝতে চায় কমিশন। সিইসি বলেন, “আপনাদের চোখ যদি দুষ্ট হয়, প্রপার না হয়, আমাদের ইলেকশনের দেখাটাও সঠিক হবে না।” পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো মাঠপর্যায়ে যেসব জনবল নিয়োগ করবে, নির্বাচনের আগে সেই জনবলকে নির্বাচনবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে জোর দেন সিইসি। সিইসি মনে করেন, পর্যবেক্ষক সংস্থার লোকেরা যদি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন, তাহলে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।

সিইসি সতর্ক করে বলেন, “যাদের নিয়োগ করবেন, প্লিজ চেক করবেন যে তারা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন কি না। কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, কোন পার্টির সঙ্গে জড়িত, মিছিল-মিটিংয়ে গিয়েছে...এই মার্কায় ভোট দাও, ওই মার্কায় ভোট দাও। এগুলো যাতে না করে।” তিনি বলেন, পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর কাজ হবে শুধু পর্যবেক্ষণ করা, কোনো দলের হয়ে কাজ করা নয়। যদি কোনো পর্যবেক্ষক সংস্থা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে, সেটা ওই সংস্থার সুনাম কমিয়ে দেবে। পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে ইসির ক্যামেরা অভিহিত করে সিইসি বলেন, “আমার সিসি ক্যামেরা হচ্ছে আমার অবজারভার। আমার সিসি ক্যামেরা হচ্ছে আমার সাংবাদিক ভাই-বোনেরা। এরা যদি সত্যিকারভাবে চোখ রাখে, তাহলে কিন্তু দেখবেন যে কেউ অনিয়ম করতে সাহস পাবে না।”

সংলাপে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে যারা পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে, তাদের সম্পৃক্ততার কারণে এবার তাদের অনেককে নিয়োগ দেওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “অতীতে যে খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে, এ রকম উদাহরণ আমরা আর সৃষ্টি করতে চাই না। কোনো অবস্থাতেই নয়। পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে তো নয়ই।” আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতিহাসের স্বচ্ছ নির্বাচন হবে উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আপনারা নিশ্চিত থাকেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালে। নিশ্চিত থাকুন। এই স্বচ্ছতার ব্যত্যয় যারা ঘটাবে, তাদের নির্বাচন কমিশন নূ্যনতম ছাড় দেবে না।”

সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম, তাহমিদা আহমেদ এবং আব্দুর রহমানেল মাছউদ। সংলাপে অংশ নেন ৪০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি। আজ বেলা দুইটায় আরও ৪১টি পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ