চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির ও গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের বিরুদ্ধে। জানা যায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা উপেক্ষা করে বাংলা বিভাগে আরলিজা খাতুন নামে এক ব্যক্তিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিধি মোতাবেক কোনো প্রকার উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি বা স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই বাংলা বিভাগে আরলিজা খাতুনকে যুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কলেজের শিক্ষক হাজিরা খাতা কিংবা ব্যানবেইজের (BANBEIS) নথিপত্রে আরলিজা খাতুন নামে কোনো শিক্ষকের অস্তিত্বই ইতিপূর্বে ছিল না। এমনকি কলেজের কর্মরত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীও আরলিজা খাতুন নামে কাউকে চেনেন না বা কখনো দেখেননি বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন।অন্যদিকে ২০১৫ সালের নিয়োগ দেখিয়ে হঠাৎ উল্কাপিন্ডের মত ভেসে উঠেছে তার নাম।
অভিযোগ রয়েছে , এনটিআরসিএ (NTRCA) ও সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, এ নিয়োগের বিপরীতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের স্বপক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক সুবিধার ভিত্তিতে নিয়োগটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এমনকি কলেজের সাধারণ সদস্যদের অন্ধকারে রেখে শূন্যপদের তথ্য গোপন, রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নথিপত্রে জালিয়াতির করে অন্য শিক্ষকের নাম দিয়ে ডাবল স্বাক্ষর করে বেতন চালু করেছে অথচ আজ অবধি কলেজের উপস্থিতি খাতায় কোন স্বাক্ষর করেনি আরলিজা খাতুন।
এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি শিক্ষক নিয়োগ নিয়েই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও নৈতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসিরের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন কলেজের সব কার্যক্রম যথাযথ নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, ডিগ্রি শাখার শিক্ষকদের দীর্ঘদিন বেতন না থাকায় তারা পূর্বে নিয়মিত কলেজে উপস্থিত হতেন না। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নামে বেতন কিভাবে চালু হল পাশাপাশি নাম এখনো হাজিরা খাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি এবং কেন কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ সময় নিয়োগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনুমোদনের নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রমাণও তিনি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
বরং এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তথ্য দিতে বাধ্য নই।” অধ্যক্ষের এমন বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনে ব্যর্থতা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউর রমান বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির ও গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের বিরুদ্ধে। জানা যায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা উপেক্ষা করে বাংলা বিভাগে আরলিজা খাতুন নামে এক ব্যক্তিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিধি মোতাবেক কোনো প্রকার উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি বা স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই বাংলা বিভাগে আরলিজা খাতুনকে যুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কলেজের শিক্ষক হাজিরা খাতা কিংবা ব্যানবেইজের (BANBEIS) নথিপত্রে আরলিজা খাতুন নামে কোনো শিক্ষকের অস্তিত্বই ইতিপূর্বে ছিল না। এমনকি কলেজের কর্মরত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীও আরলিজা খাতুন নামে কাউকে চেনেন না বা কখনো দেখেননি বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন।অন্যদিকে ২০১৫ সালের নিয়োগ দেখিয়ে হঠাৎ উল্কাপিন্ডের মত ভেসে উঠেছে তার নাম।
অভিযোগ রয়েছে , এনটিআরসিএ (NTRCA) ও সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, এ নিয়োগের বিপরীতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের স্বপক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক সুবিধার ভিত্তিতে নিয়োগটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এমনকি কলেজের সাধারণ সদস্যদের অন্ধকারে রেখে শূন্যপদের তথ্য গোপন, রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নথিপত্রে জালিয়াতির করে অন্য শিক্ষকের নাম দিয়ে ডাবল স্বাক্ষর করে বেতন চালু করেছে অথচ আজ অবধি কলেজের উপস্থিতি খাতায় কোন স্বাক্ষর করেনি আরলিজা খাতুন।
এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি শিক্ষক নিয়োগ নিয়েই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও নৈতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসিরের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন কলেজের সব কার্যক্রম যথাযথ নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, ডিগ্রি শাখার শিক্ষকদের দীর্ঘদিন বেতন না থাকায় তারা পূর্বে নিয়মিত কলেজে উপস্থিত হতেন না। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নামে বেতন কিভাবে চালু হল পাশাপাশি নাম এখনো হাজিরা খাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি এবং কেন কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ সময় নিয়োগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনুমোদনের নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রমাণও তিনি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
বরং এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তথ্য দিতে বাধ্য নই।” অধ্যক্ষের এমন বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনে ব্যর্থতা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউর রমান বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন