ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন: হাজিরা খাতায় নাম নেই, তবু বাংলা বিভাগের শিক্ষক!



নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন: হাজিরা খাতায় নাম নেই, তবু বাংলা বিভাগের শিক্ষক!
ছবি: প্রতিনিধি । অভিযুক্ত অধ্যক্ষ- আবু নাসির

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির এবং গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা উপেক্ষা করে বাংলা বিভাগে আরলিজা খাতুন নামে একজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন ছাড়াই ওই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, কলেজের শিক্ষক হাজিরা খাতা কিংবা ব্যানবেইজের (BANBEIS) তথ্যভান্ডারে এর আগে আরলিজা খাতুন নামে কোনো শিক্ষকের তথ্য পাওয়া যায়নি। কলেজের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীও দাবি করেছেন, তারা কখনো ওই নামে কাউকে কলেজে দায়িত্ব পালন করতে দেখেননি।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৫ সালের নিয়োগ দেখিয়ে হঠাৎ করেই তার নাম বিভিন্ন নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এনটিআরসিএ ও সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগটি সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়ভাবে এ নিয়োগের বিপরীতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেনের গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

আরও অভিযোগ রয়েছে, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে আর্থিক সুবিধা ও স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে নিয়োগটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। কলেজের সাধারণ সদস্যদের অন্ধকারে রেখে শূন্যপদের তথ্য গোপন, রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নথিপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য শিক্ষকের নাম ব্যবহার করে দ্বৈত স্বাক্ষরের মাধ্যমে বেতন চালুরও অভিযোগ উঠেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোনো উপস্থিতির রেকর্ড বা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের ভাষ্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়েই যদি প্রশ্ন ওঠে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির দাবি করেন, কলেজের সব কার্যক্রম যথাযথ নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, ডিগ্রি শাখার শিক্ষকদের দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ থাকায় তারা নিয়মিত কলেজে উপস্থিত হতেন না।

তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নামে কীভাবে বেতন চালু হলো, কেন তার নাম এখনো হাজিরা খাতায় নেই এবং কেন কোনো উপস্থিতির স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি, এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তিনি। একই সঙ্গে নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা অনুমোদনের কাগজও দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে তথ্য চাইলে অধ্যক্ষ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, "আমি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তথ্য দিতে বাধ্য নই।" তার এ বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপনে ব্যর্থতা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, "বিষয়টি আমার জানা আছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন: হাজিরা খাতায় নাম নেই, তবু বাংলা বিভাগের শিক্ষক!

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির এবং গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা উপেক্ষা করে বাংলা বিভাগে আরলিজা খাতুন নামে একজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন ছাড়াই ওই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, কলেজের শিক্ষক হাজিরা খাতা কিংবা ব্যানবেইজের (BANBEIS) তথ্যভান্ডারে এর আগে আরলিজা খাতুন নামে কোনো শিক্ষকের তথ্য পাওয়া যায়নি। কলেজের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীও দাবি করেছেন, তারা কখনো ওই নামে কাউকে কলেজে দায়িত্ব পালন করতে দেখেননি।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৫ সালের নিয়োগ দেখিয়ে হঠাৎ করেই তার নাম বিভিন্ন নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এনটিআরসিএ ও সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগটি সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়ভাবে এ নিয়োগের বিপরীতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেনের গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

আরও অভিযোগ রয়েছে, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে আর্থিক সুবিধা ও স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে নিয়োগটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। কলেজের সাধারণ সদস্যদের অন্ধকারে রেখে শূন্যপদের তথ্য গোপন, রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নথিপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য শিক্ষকের নাম ব্যবহার করে দ্বৈত স্বাক্ষরের মাধ্যমে বেতন চালুরও অভিযোগ উঠেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোনো উপস্থিতির রেকর্ড বা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের ভাষ্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়েই যদি প্রশ্ন ওঠে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির দাবি করেন, কলেজের সব কার্যক্রম যথাযথ নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, ডিগ্রি শাখার শিক্ষকদের দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ থাকায় তারা নিয়মিত কলেজে উপস্থিত হতেন না।

তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নামে কীভাবে বেতন চালু হলো, কেন তার নাম এখনো হাজিরা খাতায় নেই এবং কেন কোনো উপস্থিতির স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি, এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তিনি। একই সঙ্গে নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা অনুমোদনের কাগজও দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে তথ্য চাইলে অধ্যক্ষ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, "আমি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তথ্য দিতে বাধ্য নই।" তার এ বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপনে ব্যর্থতা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, "বিষয়টি আমার জানা আছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ