ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভুয়া সনদে সরকারি চাকরি? ঘোড়াঘাটে দপ্তরীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ



ভুয়া সনদে সরকারি চাকরি? ঘোড়াঘাটে দপ্তরীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
ছবি: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র ও বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি বহাল রাখার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বেলায়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী খোরশেদ আলম (শামীম)-কে ঘিরে ওঠা এ অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ওই বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী হিসেবে নিয়োগ পান শামীম।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী এ পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর। কিন্তু নিয়োগের সময় জমা দেওয়া জন্মনিবন্ধন সনদে তার জন্মসাল ১৯৯০ উল্লেখ থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মসাল ১৯৮২। সে হিসাবে নিয়োগের সময় তার বয়স নির্ধারিত সীমার চেয়ে অন্তত ছয় বছর বেশি ছিল।

বিষয়টি সামনে এলে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি জামাত আলী মন্ডল চাকরি নবায়নের সময় বয়স সংক্রান্ত অসঙ্গতির বিষয়ে আপত্তি তুলে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর কয়েক মাস শামীমের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকলেও পরে অজ্ঞাত কারণে তার চাকরি পুনরায় নবায়ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে চাকরি বহাল রাখতে শামীম পরবর্তীতে বয়স সংশোধনের উদ্যোগ নেন। এ জন্য উপজেলার ২ নম্বর পালশা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিজেকে পরিবারের দুই বোনের ছোট সন্তান উল্লেখ করে একটি উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহ করেন। তবে ওই সনদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

২ নম্বর পালশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবিরুল ইসলাম বলেন, "কৌশলে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, শামীম আসলে পরিবারের সবার বড়। বড় হয়েও নিজেকে ছোট দেখিয়ে ভুয়া সনদ নিয়েছে।"

অভিযোগ রয়েছে, ওই বিতর্কিত সনদের ভিত্তিতেই জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করা হয়। পরে শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার জন্য বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা শিল্পীর অজান্তে তার স্বাক্ষর জাল করে একটি প্রত্যয়নপত্রও তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা শিল্পী বলেন, "শামীমের বয়স সংশোধনের প্রত্যয়নপত্রে থাকা স্বাক্ষরটি আমার নয়। এটি সম্পূর্ণ জাল করা হয়েছে।"

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে খোরশেদ আলম (শামীম) বলেন, "আমার কাগজপত্রে কিছু সমস্যা ছিল, তাই সেগুলো সংশোধন করেছি।" তবে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করা কিংবা ভুয়া সনদ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও চাকরি বহাল রাখার ক্ষেত্রে যদি ভুয়া কাগজপত্র ও বয়স জালিয়াতির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভুয়া সনদে সরকারি চাকরি? ঘোড়াঘাটে দপ্তরীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র ও বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি বহাল রাখার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বেলায়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী খোরশেদ আলম (শামীম)-কে ঘিরে ওঠা এ অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ওই বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী হিসেবে নিয়োগ পান শামীম।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী এ পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর। কিন্তু নিয়োগের সময় জমা দেওয়া জন্মনিবন্ধন সনদে তার জন্মসাল ১৯৯০ উল্লেখ থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মসাল ১৯৮২। সে হিসাবে নিয়োগের সময় তার বয়স নির্ধারিত সীমার চেয়ে অন্তত ছয় বছর বেশি ছিল।

বিষয়টি সামনে এলে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি জামাত আলী মন্ডল চাকরি নবায়নের সময় বয়স সংক্রান্ত অসঙ্গতির বিষয়ে আপত্তি তুলে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর কয়েক মাস শামীমের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকলেও পরে অজ্ঞাত কারণে তার চাকরি পুনরায় নবায়ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে চাকরি বহাল রাখতে শামীম পরবর্তীতে বয়স সংশোধনের উদ্যোগ নেন। এ জন্য উপজেলার ২ নম্বর পালশা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিজেকে পরিবারের দুই বোনের ছোট সন্তান উল্লেখ করে একটি উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহ করেন। তবে ওই সনদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

২ নম্বর পালশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবিরুল ইসলাম বলেন, "কৌশলে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, শামীম আসলে পরিবারের সবার বড়। বড় হয়েও নিজেকে ছোট দেখিয়ে ভুয়া সনদ নিয়েছে।"

অভিযোগ রয়েছে, ওই বিতর্কিত সনদের ভিত্তিতেই জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করা হয়। পরে শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার জন্য বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা শিল্পীর অজান্তে তার স্বাক্ষর জাল করে একটি প্রত্যয়নপত্রও তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা শিল্পী বলেন, "শামীমের বয়স সংশোধনের প্রত্যয়নপত্রে থাকা স্বাক্ষরটি আমার নয়। এটি সম্পূর্ণ জাল করা হয়েছে।"

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে খোরশেদ আলম (শামীম) বলেন, "আমার কাগজপত্রে কিছু সমস্যা ছিল, তাই সেগুলো সংশোধন করেছি।" তবে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করা কিংবা ভুয়া সনদ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও চাকরি বহাল রাখার ক্ষেত্রে যদি ভুয়া কাগজপত্র ও বয়স জালিয়াতির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ