ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হিজাব নিয়ে ফ্রান্সের কঠোর অবস্থান, কী বলছে আইন ও ইসলাম?


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬

হিজাব নিয়ে ফ্রান্সের কঠোর অবস্থান, কী বলছে আইন ও ইসলাম?
ছবি: সংগৃহীত

হিজাব মুসলিম নারীর ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস ও শালীনতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। কিন্তু ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্সে এই পোশাককে ঘিরে বহু বছর ধরে চলছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে দেশটির সরকার রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা (Laïcité) ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের কথা বলছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম সংগঠনগুলোর দাবি, এসব বিধিনিষেধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে মুসলিম নারীদের ওপর।

তবে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ফ্রান্সে সর্বত্র হিজাব নিষিদ্ধ নয়। বরং সরকারি স্কুল, কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই বিষয়টি মূলত 'হিজাব নিষেধাজ্ঞা' নয়, বরং 'হিজাব-সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা' নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক।

যেভাবে শুরু হয় বিতর্ক

ফ্রান্সে ধর্ম ও রাষ্ট্রকে পৃথক রাখার নীতি শত বছরেরও বেশি পুরোনো। সেই নীতির ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালে একটি আইন পাস হয়। ওই আইনের মাধ্যমে সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়। এর আওতায় ইসলামি হিজাবের পাশাপাশি বড় আকারের খ্রিস্টীয় ক্রুশ, ইহুদিদের কিপ্পাহ এবং শিখদের পাগড়িও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এরপর ২০১০ সালে জনসমক্ষে মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখে এমন পোশাক, যেমন নিকাব ও বোরকা, নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা এবং সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিজাব নিয়ে নতুন নতুন বিতর্ক তৈরি হতে থাকে।

শিক্ষাক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়েছে

সরকারি স্কুলে হিজাব পরার বিধিনিষেধের কারণে অনেক মুসলিম শিক্ষার্থীকে পোশাক পরিবর্তন করতে হয়েছে। কেউ কেউ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে বেসরকারি বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।

২০২৩ সালে ফরাসি সরকার সরকারি স্কুলে আবায়া পরিধানও নিষিদ্ধ করে। সরকারের দাবি ছিল, এটি ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

কর্মক্ষেত্রেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা

ফ্রান্সে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিদের ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করতে হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে হিজাব পরিহিত মুসলিম নারীরা সরকারি চাকরিতে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একই নিয়ম না থাকলেও অনেক নারী নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা কর্মপরিবেশে বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণে অনেক শিক্ষিত মুসলিম নারীর পেশাগত অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সামাজিক বাস্তবতা

অনেক মুসলিম নারীর অভিযোগ, হিজাবের কারণে তারা সমাজে কটূক্তি, বৈষম্য ও নেতিবাচক মনোভাবের মুখোমুখি হন। ফলে অনেকের মধ্যেই মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি হয়।

ক্রীড়াঙ্গনেও বিতর্ক

হিজাব বিতর্ক শুধু শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলার অঙ্গনেও এটি আলোচিত বিষয়।

২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিককে ঘিরে ফরাসি নারী ক্রীড়াবিদদের হিজাব পরা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক অনেক ক্রীড়া সংস্থা হিজাবের অনুমতি দিলেও ফ্রান্সের কিছু ক্রীড়া ফেডারেশন তুলনামূলক কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে।

২০২৫ সালে ফরাসি সিনেট ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক, যার মধ্যে হিজাবও রয়েছে, নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাবিত বিল অনুমোদন করে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত আইন হয়নি। জাতীয় পরিষদের অনুমোদনসহ আইন প্রণয়নের বাকি ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই এটি কার্যকর হতে পারে।

এদিকে হিজাব পরার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন Les Hijabeuses ফরাসি ক্রীড়া নীতির বিরুদ্ধে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে মামলা করেছে। আদালত ২০২৫ সালে আবেদনটি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করলেও এখনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি।

কী বলছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মতে, ফ্রান্সের কিছু বিধিনিষেধ মুসলিম নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা চর্চায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোও নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

অন্যদিকে ফরাসি সরকারের বক্তব্য, এসব আইন কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে নয়। বরং রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই এর উদ্দেশ্য।

ইসলামের দৃষ্টিতে হিজাব

ইসলামে শালীনতা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনে মুসলিম নারীদের পর্দা ও শালীন পোশাক সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

"আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে, নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং যা সাধারণত প্রকাশিত থাকে তা ছাড়া নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের ওড়না বক্ষদেশের ওপর টেনে দেয়।"

— সুরা আন-নূর, আয়াত ৩১

আরও ইরশাদ হয়েছে,

"হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তারা সহজে পরিচিত হবে এবং উত্ত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে।"

— সুরা আল-আহযাব, আয়াত ৫৯

ইসলামি ফিকহের চারটি প্রসিদ্ধ মাজহাবের আলেমদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারীর জন্য শরয়ি পর্দা পালন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিধান।

শেষকথা

ফ্রান্সে হিজাব বিতর্ক কেবল একটি পোশাককে ঘিরে নয়। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত অধিকার, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

একদিকে ফরাসি সরকার মনে করে, এসব নীতি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা ও সমালোচকদের মতে, এর ফলে অনেক মুসলিম নারী শিক্ষা, চাকরি ও সামাজিক অংশগ্রহণে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।

তাই এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে মতামত গঠনের ক্ষেত্রে আবেগের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য তথ্য, আইনগত বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থান বিবেচনা করা জরুরি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির ভারসাম্য রক্ষা আজও আন্তর্জাতিক সমাজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


হিজাব নিয়ে ফ্রান্সের কঠোর অবস্থান, কী বলছে আইন ও ইসলাম?

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

হিজাব মুসলিম নারীর ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস ও শালীনতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। কিন্তু ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্সে এই পোশাককে ঘিরে বহু বছর ধরে চলছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে দেশটির সরকার রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা (Laïcité) ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের কথা বলছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম সংগঠনগুলোর দাবি, এসব বিধিনিষেধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে মুসলিম নারীদের ওপর।

তবে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ফ্রান্সে সর্বত্র হিজাব নিষিদ্ধ নয়। বরং সরকারি স্কুল, কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই বিষয়টি মূলত 'হিজাব নিষেধাজ্ঞা' নয়, বরং 'হিজাব-সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা' নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক।

যেভাবে শুরু হয় বিতর্ক

ফ্রান্সে ধর্ম ও রাষ্ট্রকে পৃথক রাখার নীতি শত বছরেরও বেশি পুরোনো। সেই নীতির ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালে একটি আইন পাস হয়। ওই আইনের মাধ্যমে সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়। এর আওতায় ইসলামি হিজাবের পাশাপাশি বড় আকারের খ্রিস্টীয় ক্রুশ, ইহুদিদের কিপ্পাহ এবং শিখদের পাগড়িও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এরপর ২০১০ সালে জনসমক্ষে মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখে এমন পোশাক, যেমন নিকাব ও বোরকা, নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা এবং সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিজাব নিয়ে নতুন নতুন বিতর্ক তৈরি হতে থাকে।

শিক্ষাক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়েছে

সরকারি স্কুলে হিজাব পরার বিধিনিষেধের কারণে অনেক মুসলিম শিক্ষার্থীকে পোশাক পরিবর্তন করতে হয়েছে। কেউ কেউ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে বেসরকারি বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।

২০২৩ সালে ফরাসি সরকার সরকারি স্কুলে আবায়া পরিধানও নিষিদ্ধ করে। সরকারের দাবি ছিল, এটি ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

কর্মক্ষেত্রেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা

ফ্রান্সে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিদের ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করতে হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে হিজাব পরিহিত মুসলিম নারীরা সরকারি চাকরিতে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একই নিয়ম না থাকলেও অনেক নারী নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা কর্মপরিবেশে বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণে অনেক শিক্ষিত মুসলিম নারীর পেশাগত অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সামাজিক বাস্তবতা

অনেক মুসলিম নারীর অভিযোগ, হিজাবের কারণে তারা সমাজে কটূক্তি, বৈষম্য ও নেতিবাচক মনোভাবের মুখোমুখি হন। ফলে অনেকের মধ্যেই মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি হয়।

ক্রীড়াঙ্গনেও বিতর্ক

হিজাব বিতর্ক শুধু শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলার অঙ্গনেও এটি আলোচিত বিষয়।

২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিককে ঘিরে ফরাসি নারী ক্রীড়াবিদদের হিজাব পরা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক অনেক ক্রীড়া সংস্থা হিজাবের অনুমতি দিলেও ফ্রান্সের কিছু ক্রীড়া ফেডারেশন তুলনামূলক কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে।

২০২৫ সালে ফরাসি সিনেট ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক, যার মধ্যে হিজাবও রয়েছে, নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাবিত বিল অনুমোদন করে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত আইন হয়নি। জাতীয় পরিষদের অনুমোদনসহ আইন প্রণয়নের বাকি ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই এটি কার্যকর হতে পারে।

এদিকে হিজাব পরার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন Les Hijabeuses ফরাসি ক্রীড়া নীতির বিরুদ্ধে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে মামলা করেছে। আদালত ২০২৫ সালে আবেদনটি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করলেও এখনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি।

কী বলছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মতে, ফ্রান্সের কিছু বিধিনিষেধ মুসলিম নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা চর্চায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোও নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

অন্যদিকে ফরাসি সরকারের বক্তব্য, এসব আইন কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে নয়। বরং রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই এর উদ্দেশ্য।

ইসলামের দৃষ্টিতে হিজাব

ইসলামে শালীনতা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনে মুসলিম নারীদের পর্দা ও শালীন পোশাক সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

"আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে, নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং যা সাধারণত প্রকাশিত থাকে তা ছাড়া নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের ওড়না বক্ষদেশের ওপর টেনে দেয়।"

— সুরা আন-নূর, আয়াত ৩১

আরও ইরশাদ হয়েছে,

"হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তারা সহজে পরিচিত হবে এবং উত্ত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে।"

— সুরা আল-আহযাব, আয়াত ৫৯

ইসলামি ফিকহের চারটি প্রসিদ্ধ মাজহাবের আলেমদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারীর জন্য শরয়ি পর্দা পালন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিধান।

শেষকথা

ফ্রান্সে হিজাব বিতর্ক কেবল একটি পোশাককে ঘিরে নয়। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত অধিকার, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

একদিকে ফরাসি সরকার মনে করে, এসব নীতি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা ও সমালোচকদের মতে, এর ফলে অনেক মুসলিম নারী শিক্ষা, চাকরি ও সামাজিক অংশগ্রহণে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।

তাই এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে মতামত গঠনের ক্ষেত্রে আবেগের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য তথ্য, আইনগত বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থান বিবেচনা করা জরুরি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির ভারসাম্য রক্ষা আজও আন্তর্জাতিক সমাজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ