চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ঋণের বোঝা ও পাওনাদারদের চাপ থেকে বাঁচতে নিজের অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিখোঁজের ঘটনায় তার স্ত্রীর করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে টানা তদন্ত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও অভিযানের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই বিকেলে হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা রীনা আক্তার তার স্বামী মো. রাশেদুল আলম (৩৮) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। দুই দিন পর তিনি থানায় একটি ভিডিও জমা দেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রের মুখে রাশেদুলকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই হাটহাজারী থানা পুলিশ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, ভিডিও যাচাই, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। হাটহাজারী, রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দীর্ঘ সময়েও রাশেদুলের সন্ধান না মেলায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কিছু মানুষ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তদন্ত অব্যাহত রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অবশেষে প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর বাখরুঘাটা এলাকায় রাশেদুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা রাশেদুল আলমকে উদ্ধার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। এ সময় তার দুই সহযোগী মো. ইমরান হোসেন (৩৫) ও মো. ইব্রাহিম ওরফে বাপ্পি (৩২)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল স্বীকার করেছেন, তিনি অপহরণের শিকার হননি। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পাওনাদারদের চাপ এড়াতেই তিনি আত্মগোপনে যান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দুই সহযোগীর সহায়তায় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে অপহরণের দৃশ্য ধারণ করেন এবং সেটিকে মুক্তিপণ দাবির ঘটনা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করেন।
জেলা পুলিশ জানায়, দ্রুত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে সাজানো এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা ভিডিও প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রচার বা সাজানো ঘটনা তৈরির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দিয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ঋণের বোঝা ও পাওনাদারদের চাপ থেকে বাঁচতে নিজের অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিখোঁজের ঘটনায় তার স্ত্রীর করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে টানা তদন্ত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও অভিযানের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই বিকেলে হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা রীনা আক্তার তার স্বামী মো. রাশেদুল আলম (৩৮) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। দুই দিন পর তিনি থানায় একটি ভিডিও জমা দেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রের মুখে রাশেদুলকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই হাটহাজারী থানা পুলিশ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, ভিডিও যাচাই, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। হাটহাজারী, রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দীর্ঘ সময়েও রাশেদুলের সন্ধান না মেলায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কিছু মানুষ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তদন্ত অব্যাহত রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অবশেষে প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর বাখরুঘাটা এলাকায় রাশেদুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা রাশেদুল আলমকে উদ্ধার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। এ সময় তার দুই সহযোগী মো. ইমরান হোসেন (৩৫) ও মো. ইব্রাহিম ওরফে বাপ্পি (৩২)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল স্বীকার করেছেন, তিনি অপহরণের শিকার হননি। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পাওনাদারদের চাপ এড়াতেই তিনি আত্মগোপনে যান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দুই সহযোগীর সহায়তায় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে অপহরণের দৃশ্য ধারণ করেন এবং সেটিকে মুক্তিপণ দাবির ঘটনা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করেন।
জেলা পুলিশ জানায়, দ্রুত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে সাজানো এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা ভিডিও প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রচার বা সাজানো ঘটনা তৈরির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন