রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারে একের পর এক ফাঁক, বাড়ছে অপরাধের শঙ্কা
ক্যাম্পের বেড়া কেটে গোপন চলাচলের পথ, কঠোর নজরদারির দাবি
কুতুপালং-বালুখালী ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ পথ, উদ্বেগে স্থানীয়রা
কাঁটাতারের বেড়া কেটে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ চলাচলের পথ, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া (কক্সবাজার): উখিয়ার কুতুপালং-বালুখালীসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার জন্য স্থাপিত কাঁটাতারের বেড়া কেটে একের পর এক অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে অবাধ যাতায়াতের পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরাও গোপনে চলাচল করছে। এতে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সরেজমিনে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, একাধিক স্থানে কাঁটাতারের বেড়া কেটে মানুষের চলাচলের উপযোগী পথ তৈরি করা হয়েছে। কোথাও বেড়ার নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ বেড়া সরিয়ে চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও এসব পথ দিয়ে লোকজন ক্যাম্পে প্রবেশ ও বের হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্প্রতি উখিয়া-টেকনাফে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবা পাচার, অস্ত্র বহন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও শিশু নিখোঁজের মতো ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের দাবি, অপরাধ সংঘটনের পর অনেক দুর্বৃত্ত কাঁটাতারের এসব কাটা অংশ ব্যবহার করে দ্রুত ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তাদের শনাক্ত ও আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নজরদারির অভাবে বিভিন্ন স্থানে বেড়া কেটে অবৈধ পথ তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উখিয়া উপজেলা সভাপতি নুর মুহাম্মদ সিকদার বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। কিন্তু সেই বেড়া কেটে অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি হলে পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়ে। এটি শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির দাবি জানান।
উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যাতায়াতের সুযোগ থাকলে ইয়াবা পাচার, অপহরণসহ নানা অপরাধ দমন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই বেড়া নির্মাণের পাশাপাশি কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কাটা অংশ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত এসব পথ বন্ধ করা না হলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই থাকবে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পের নিরাপত্তা শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, পুরো উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ পথ তৈরি করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার এবং যৌথ টহল জোরদার করা জরুরি।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ চলাচল বা অপরাধ সংঘটনের কোনো তথ্য পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারে একের পর এক ফাঁক, বাড়ছে অপরাধের শঙ্কা
ক্যাম্পের বেড়া কেটে গোপন চলাচলের পথ, কঠোর নজরদারির দাবি
কুতুপালং-বালুখালী ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ পথ, উদ্বেগে স্থানীয়রা
কাঁটাতারের বেড়া কেটে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ চলাচলের পথ, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া (কক্সবাজার): উখিয়ার কুতুপালং-বালুখালীসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার জন্য স্থাপিত কাঁটাতারের বেড়া কেটে একের পর এক অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে অবাধ যাতায়াতের পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরাও গোপনে চলাচল করছে। এতে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সরেজমিনে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, একাধিক স্থানে কাঁটাতারের বেড়া কেটে মানুষের চলাচলের উপযোগী পথ তৈরি করা হয়েছে। কোথাও বেড়ার নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ বেড়া সরিয়ে চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও এসব পথ দিয়ে লোকজন ক্যাম্পে প্রবেশ ও বের হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্প্রতি উখিয়া-টেকনাফে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবা পাচার, অস্ত্র বহন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও শিশু নিখোঁজের মতো ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের দাবি, অপরাধ সংঘটনের পর অনেক দুর্বৃত্ত কাঁটাতারের এসব কাটা অংশ ব্যবহার করে দ্রুত ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তাদের শনাক্ত ও আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নজরদারির অভাবে বিভিন্ন স্থানে বেড়া কেটে অবৈধ পথ তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উখিয়া উপজেলা সভাপতি নুর মুহাম্মদ সিকদার বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। কিন্তু সেই বেড়া কেটে অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি হলে পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়ে। এটি শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির দাবি জানান।
উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যাতায়াতের সুযোগ থাকলে ইয়াবা পাচার, অপহরণসহ নানা অপরাধ দমন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই বেড়া নির্মাণের পাশাপাশি কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কাটা অংশ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত এসব পথ বন্ধ করা না হলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই থাকবে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পের নিরাপত্তা শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, পুরো উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ পথ তৈরি করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার এবং যৌথ টহল জোরদার করা জরুরি।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ চলাচল বা অপরাধ সংঘটনের কোনো তথ্য পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন