উন্নয়নের আড়ালে সরকারি সম্পদ হরিলুটের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায়। একটি সরকারি সড়কের সংস্কারকাজের সুযোগে প্রায় ১৫ হাজার পুরনো সরকারি ইট আত্মসাৎ করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে, যিনি আবার ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি। এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সরকারি সম্পদ উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকার একাধিক সংক্ষুব্ধ বাসিন্দা।
অভিযোগের তীর পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি মো. মোস্তফার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রূপসা ও আইঠিয়া গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় একটি নতুন পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। নতুন সড়কটি নির্মাণের পূর্বে সেখানে থাকা পুরনো ইটের সোলিং রাস্তাটি তুলে ফেলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এই ইটগুলো সরকারি সম্পদ। তাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল—উদ্ধারকৃত প্রায় ১৫ হাজার পুরনো ইট এলাকারই অন্য একটি দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা রাস্তায় যাতায়াতের সুবিধার্থে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু স্থানীয়দের সেই জনকল্যাণমূলক স্বপ্নে যেন কুঠারাঘাত করলেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি সম্পদ জনস্বার্থে ব্যবহার না করে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সবগুলো ইট গোপনে আত্মসাৎ করে চড়া দামে বিক্রি করে দিয়েছেন।
সরকারি সম্পদ এভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থে লোপাট হওয়ায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা নোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পুরনো ইটগুলো আমাদের এলাকার একটা দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা রাস্তায় ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এতে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমত। কিন্তু সেই ইটগুলো গায়েব করে দেওয়া হলো। আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করুক এবং সরকারি সম্পদ উদ্ধার করে জনস্বার্থেই ব্যবহার নিশ্চিত করুক।" ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মতে, সরকারি সম্পদ এভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা।মুঠোফোনে উল্টো দাবি করে তিনি বলেন, "আমি কোনো সরকারি ইট আত্মসাৎ বা বিক্রি করিনি। নতুন রাস্তার নির্মাণকাজের সময় পুরনো ইট তোলার পর দেখা যায়, সেগুলো পুনরায় রাস্তা নির্মাণের উপযোগী ছিল না। বিষয়টি আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) জানিয়েছিলাম। তাঁরই পরামর্শে ইটগুলো ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, অভিযোগ ওঠার পর ইউএনও কার্যালয় থেকে তাঁকে ডাকা হয়েছিল এবং সেখানে পিআইও ও ঠিকাদার উভয়েই উপস্থিত থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি সম্পদ গায়েবের এই ঘটনায় প্রশাসন ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রশাসন।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস জানান, গ্রামবাসীদের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনগণের আমানত সরকারি ইট সত্যিই ঠিকাদারের কাছে গেছে, নাকি জনপ্রতিনিধির পকেটে—তা এখন তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। তবে রূপসা ও আইঠিয়া গ্রামের মানুষ এখন চাতকের মতো চেয়ে আছেন প্রশাসনের ন্যায্য বিচারের দিকে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
উন্নয়নের আড়ালে সরকারি সম্পদ হরিলুটের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায়। একটি সরকারি সড়কের সংস্কারকাজের সুযোগে প্রায় ১৫ হাজার পুরনো সরকারি ইট আত্মসাৎ করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে, যিনি আবার ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি। এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সরকারি সম্পদ উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকার একাধিক সংক্ষুব্ধ বাসিন্দা।
অভিযোগের তীর পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি মো. মোস্তফার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রূপসা ও আইঠিয়া গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় একটি নতুন পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। নতুন সড়কটি নির্মাণের পূর্বে সেখানে থাকা পুরনো ইটের সোলিং রাস্তাটি তুলে ফেলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এই ইটগুলো সরকারি সম্পদ। তাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল—উদ্ধারকৃত প্রায় ১৫ হাজার পুরনো ইট এলাকারই অন্য একটি দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা রাস্তায় যাতায়াতের সুবিধার্থে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু স্থানীয়দের সেই জনকল্যাণমূলক স্বপ্নে যেন কুঠারাঘাত করলেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি সম্পদ জনস্বার্থে ব্যবহার না করে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সবগুলো ইট গোপনে আত্মসাৎ করে চড়া দামে বিক্রি করে দিয়েছেন।
সরকারি সম্পদ এভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থে লোপাট হওয়ায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা নোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পুরনো ইটগুলো আমাদের এলাকার একটা দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা রাস্তায় ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এতে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমত। কিন্তু সেই ইটগুলো গায়েব করে দেওয়া হলো। আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করুক এবং সরকারি সম্পদ উদ্ধার করে জনস্বার্থেই ব্যবহার নিশ্চিত করুক।" ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মতে, সরকারি সম্পদ এভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা।মুঠোফোনে উল্টো দাবি করে তিনি বলেন, "আমি কোনো সরকারি ইট আত্মসাৎ বা বিক্রি করিনি। নতুন রাস্তার নির্মাণকাজের সময় পুরনো ইট তোলার পর দেখা যায়, সেগুলো পুনরায় রাস্তা নির্মাণের উপযোগী ছিল না। বিষয়টি আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) জানিয়েছিলাম। তাঁরই পরামর্শে ইটগুলো ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, অভিযোগ ওঠার পর ইউএনও কার্যালয় থেকে তাঁকে ডাকা হয়েছিল এবং সেখানে পিআইও ও ঠিকাদার উভয়েই উপস্থিত থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি সম্পদ গায়েবের এই ঘটনায় প্রশাসন ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রশাসন।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস জানান, গ্রামবাসীদের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনগণের আমানত সরকারি ইট সত্যিই ঠিকাদারের কাছে গেছে, নাকি জনপ্রতিনিধির পকেটে—তা এখন তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। তবে রূপসা ও আইঠিয়া গ্রামের মানুষ এখন চাতকের মতো চেয়ে আছেন প্রশাসনের ন্যায্য বিচারের দিকে।

আপনার মতামত লিখুন