ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঘোড়াঘাটে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ধলুসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার

গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট


প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬

গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভাধীন সাহেবগঞ্জ পাঁচপীর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদল চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ ও ভূমিদস্যু দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একটি বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর, ৫ লক্ষাধিক টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে বাড়ির মালিকের বৃদ্ধ পিতা এবং ৮ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো: রাকিবুল হাসান (২৬) বাদী হয়ে ১ জুলাই ঘোড়াঘাট থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২৫/৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার আসামিদের মধ্যে ৭ নম্বর আসামি মো: ইফতেখারুল ইসলাম ধলু (৩০) তিনি ঘোড়াঘাট পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক নেতার নাম আসায় এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার অন্য নামীয় আসামিরা হলেন— মো: আব্দুর রহিম (৫৫), মো: জিম (২০), মো: নীরব (২৪), মো: এলান আক্তার, মোছা: মোসলেমা (মুন্নি) (৪৫), মোছা: রহিমা বেওয়া (৭৫), মোছা: মোরশেদা বেগম (৩৫), মো: গোলাম রব্বানী (৩০), ও মো: পবন মিয়া (২২)। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার সময় আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে লাঠি, ধারালো হাসুয়া, ছোড়া, কুড়াল ও দাসহ বেআইনি জনতাবদ্ধে রাকিবুল হাসানের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর করতে শুরু করে। এ সময় রাকিবুলের বৃদ্ধ পিতা মো: জাকের হোসেন বাধা দিতে গেলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি আব্দুর রহিম হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন।

ভাঙচুর ও লুটপাটের একপর্যায়ে আসামিরা বসতবাড়ির টিনের ছাপড়া ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে চারদিকে আগুন ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে রাকিবুলের ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফুফাতো বোন মোছা: হাফসা বেগম এগিয়ে এসে হামলাকারীদের হাত জোড় করে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা মানবিকতা লুণ্ঠন করে অত্যন্ত নির্মমভাবে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে লাথি মারে এবং আঘাত করে। পরবর্তীতে পিতা ও বোনের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আসামিরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

বাদী এজাহারে দাবি করেন, হামলাকারীরা ঘরে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি আলমারি ও টিনের বাক্স ভেঙে নগদ ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা এবং আনুমানিক ২,৩০,০০০/- টাকা মূল্যের ০১ ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা লুট করে নিয়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ সর্বমোট প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। বর্তমানে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, লিখিত একটি এজাহার আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভাধীন সাহেবগঞ্জ পাঁচপীর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদল চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ ও ভূমিদস্যু দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একটি বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর, ৫ লক্ষাধিক টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে বাড়ির মালিকের বৃদ্ধ পিতা এবং ৮ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো: রাকিবুল হাসান (২৬) বাদী হয়ে ১ জুলাই ঘোড়াঘাট থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২৫/৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার আসামিদের মধ্যে ৭ নম্বর আসামি মো: ইফতেখারুল ইসলাম ধলু (৩০) তিনি ঘোড়াঘাট পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক নেতার নাম আসায় এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার অন্য নামীয় আসামিরা হলেন— মো: আব্দুর রহিম (৫৫), মো: জিম (২০), মো: নীরব (২৪), মো: এলান আক্তার, মোছা: মোসলেমা (মুন্নি) (৪৫), মোছা: রহিমা বেওয়া (৭৫), মোছা: মোরশেদা বেগম (৩৫), মো: গোলাম রব্বানী (৩০), ও মো: পবন মিয়া (২২)। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার সময় আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে লাঠি, ধারালো হাসুয়া, ছোড়া, কুড়াল ও দাসহ বেআইনি জনতাবদ্ধে রাকিবুল হাসানের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর করতে শুরু করে। এ সময় রাকিবুলের বৃদ্ধ পিতা মো: জাকের হোসেন বাধা দিতে গেলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি আব্দুর রহিম হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন।

ভাঙচুর ও লুটপাটের একপর্যায়ে আসামিরা বসতবাড়ির টিনের ছাপড়া ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে চারদিকে আগুন ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে রাকিবুলের ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফুফাতো বোন মোছা: হাফসা বেগম এগিয়ে এসে হামলাকারীদের হাত জোড় করে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা মানবিকতা লুণ্ঠন করে অত্যন্ত নির্মমভাবে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে লাথি মারে এবং আঘাত করে। পরবর্তীতে পিতা ও বোনের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আসামিরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

বাদী এজাহারে দাবি করেন, হামলাকারীরা ঘরে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি আলমারি ও টিনের বাক্স ভেঙে নগদ ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা এবং আনুমানিক ২,৩০,০০০/- টাকা মূল্যের ০১ ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা লুট করে নিয়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ সর্বমোট প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। বর্তমানে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, লিখিত একটি এজাহার আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ