চলতি বোরো মৌসুমে পাহাড়ি ঢল, ভারী বৃষ্টিপাত, অকাল বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক ফসলহানির শিকার হয়েছেন। অনেক এলাকায় কৃষকেরা একমুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকার ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দিলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে সেই তালিকা প্রণয়নকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজন, আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তি এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন—এমন ব্যক্তিদেরও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি, প্রভাব খাটানো এবং অর্থের বিনিময়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষিরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মধ্যনগর উপজেলায় ১৯ হাজার ৬৫০ জন কৃষক বোরো আবাদ করেন। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নে ২ হাজার ২০০ জন, চামরদানী ইউনিয়নে ১ হাজার ৮৮১ জন, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে ১ হাজার ৮৯০ জন এবং বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নে ১ হাজার ৩০০ জনসহ মোট ৭ হাজার ২৮১ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগসাজশে যথাযথ মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের কুরির হাওরের কৃষক বাবর আলী বলেন, “আমরা যারা প্রকৃত কৃষক, তাদের বাদ দিয়ে যাদের কোনো জমিজমা নেই, তাদের নাম ভর্তুকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম। তালিকা সংশোধন করে প্রকৃত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”
একই এলাকার কৃষক আলী আকবর বলেন, “আবুল কাশেম মেম্বার আমার মামাতো ভাই। তিনি আমার নাম তালিকায় দিলেও আমার প্রতিবেশী কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য টাকা দাবি করেছেন। যারা টাকা দিতে পারেননি, তাদের নাম ভর্তুকির তালিকায় আসেনি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, “আমি এখন ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণাদি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, ভর্তুকির তালিকা পুনরায় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অনিয়মের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম সংযোজন করা হোক। একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
চলতি বোরো মৌসুমে পাহাড়ি ঢল, ভারী বৃষ্টিপাত, অকাল বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক ফসলহানির শিকার হয়েছেন। অনেক এলাকায় কৃষকেরা একমুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকার ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দিলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে সেই তালিকা প্রণয়নকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজন, আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তি এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন—এমন ব্যক্তিদেরও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি, প্রভাব খাটানো এবং অর্থের বিনিময়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষিরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মধ্যনগর উপজেলায় ১৯ হাজার ৬৫০ জন কৃষক বোরো আবাদ করেন। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নে ২ হাজার ২০০ জন, চামরদানী ইউনিয়নে ১ হাজার ৮৮১ জন, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে ১ হাজার ৮৯০ জন এবং বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নে ১ হাজার ৩০০ জনসহ মোট ৭ হাজার ২৮১ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগসাজশে যথাযথ মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের কুরির হাওরের কৃষক বাবর আলী বলেন, “আমরা যারা প্রকৃত কৃষক, তাদের বাদ দিয়ে যাদের কোনো জমিজমা নেই, তাদের নাম ভর্তুকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম। তালিকা সংশোধন করে প্রকৃত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”
একই এলাকার কৃষক আলী আকবর বলেন, “আবুল কাশেম মেম্বার আমার মামাতো ভাই। তিনি আমার নাম তালিকায় দিলেও আমার প্রতিবেশী কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য টাকা দাবি করেছেন। যারা টাকা দিতে পারেননি, তাদের নাম ভর্তুকির তালিকায় আসেনি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, “আমি এখন ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণাদি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, ভর্তুকির তালিকা পুনরায় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অনিয়মের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম সংযোজন করা হোক। একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন