ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গণতন্ত্র সুসংহত করা, গবেষণানির্ভর উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বুধবার (১ জুলাই) দেওয়া এক শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি জাতির জন্য গৌরবের বিষয়। এ উপলক্ষে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব আন্দোলনে অসংখ্য সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এখন সেই গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার দায়িত্ব সবার। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উচ্চশিক্ষাকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি। শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।

গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো গবেষণা ও উদ্ভাবনে অ্যালামনাইদের পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরি খোঁজার পরিবর্তে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে পারে।

শুভেচ্ছাবার্তার শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গণতন্ত্র সুসংহত করা, গবেষণানির্ভর উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বুধবার (১ জুলাই) দেওয়া এক শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি জাতির জন্য গৌরবের বিষয়। এ উপলক্ষে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব আন্দোলনে অসংখ্য সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এখন সেই গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার দায়িত্ব সবার। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উচ্চশিক্ষাকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি। শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।

গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো গবেষণা ও উদ্ভাবনে অ্যালামনাইদের পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরি খোঁজার পরিবর্তে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে পারে।

শুভেচ্ছাবার্তার শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ